আউট অফ কলকাতা - অধ্যায় ৩৩

🔗 Original Chapter Link: https://xforum.live/threads/আউট-অফ-কলকাতা.42012/post-3021124

🕰️ Posted on Thu May 27 2021 by ✍️ Anuradha Sinha Roy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 2149 words / 10 min read

Parent
পর্ব ৩৩​​ডাক্তার-কাকুর বয়েস আর একা থাকার কারণে উনি সাধারনত তাড়াতাড়ি খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়তেন আর তার দেখাদেখিই, সেইদিন ওই তিন মূর্তিও তাঁর মতনই করল। নিজেদের খাওয়া-দাওয়ার পালা শেষ, এঁটো বাসুন-কসন ধুয়ে, ডাক্তার-কাকুকে "গুড নাইট" জানিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরে এলো ওরা। আর ফিরে আসতেই শুরু করল নিজেদের প্ল্যানের নতুন জাল বুনতে | ঘরের বিছানাটা আয়তনে অনেকটা বড় ছিল তাই ওদের তিন জনে বসতে কোন অসুবিধাই হল না। তিস্তা বালিশে হেলান দিয়ে দেয়াওলের দিকে বসল আর তারই মুখোমুখি উলটো দিকে বসল দীপা আর রুদ্র । আস্তে আস্তে সকালের অভিজানের কথা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে করতে হঠাৎ একটা প্রশ্ন করে বসল দীপা ঃ ​​​"তুই..তুই ওকে মেরেই দিলই, তিস্তা..?" রুদ্রর কাঁধে হেলান দিতে দিতে বলে উঠল দীপা । ​​​​'আমি তো তোমাদের বলেই ছিলাম দীপা দি, তোমাদের গায়ে আমি একটাও আঁচ লাগতে দেবো না..."​​​​"না...সেই জন্য আমি তোকে কিছুই বলছি না তিস্তা আর তোর জায়গায় যদি আমি থাকতাম তাহলে সেই একি জিনিস আমিও করতাম তিস্তা, তুই আমাকে চিনিস...। এখন ওদেরকে শাস্তি দেওয়ার আর কেউ নেই...তাই যা করার আমাদের নিজেদের কেই করতে হবে..." দৃঢ় কণ্ঠে বলে উঠল দীপা ​​​​"হ্যাঁ জানি, জানি দীপা দি...তবে ওদের এত সাহস কি করে হল যে ও আমার রুদ্রর গায়ে হাত দিল...? " দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বলে উঠল তিস্তা ​​​​​"হে..হে..হে, আমার রুদ্র বলল " হাঁসতে হাঁসতে বলে উঠল রুদ্র​​​​"তো খারাপ কি বলেছে ও? কি? তুই...তুই ওকে ভালবাসিস না..? " দীপা সেই কথা বলে উঠতেই তিস্তা সাথে সাথে উৎসুক দৃষ্টিতে রুদ্রর মুখের দিকে তাকাল, তাকিয়ে হয়তো জানতে চেষ্টা করল তার মনের কথাটাকে....​​​​তবে দীপার সেই প্রশ্নকে এড়িয়ে গিয়ে রুদ্র বলে উঠল "ধুরর...ওসব পরে ভাবা যাবে, এখন মেন টপিকে এসো তোমরা, এর পরে কি করবে সেই ব্যাপারে ভাব তোমরা....উই রিয়েলি নিড এ ক্লু টু কনটিনিউ..." ​​​​"হমম, উই নিড আ ক্লু ফর শিওর....তবে সে সব তো তোদের দায়িত্বে ছিল তাই না...?" বলে নিজের ভুরু দুটো নাচাল দীপা ," ওই ৯ নম্বর রুম থেকে কি..কি জিনিস পেয়েছিস সেগুলো আরেকবার বল তো আমায়....লেট মি রিকালেক্ট.... "​​​​"পেয়েছি তো মাত্র তিনটে না চারটে জিনিস..." বলে বিছানার ওপর থেকে ছোট হ্যান্ড-ব্যাগটা খুলে সেই সব জিনিস গেলো আবার বার করল রুদ্র , "এইতো...এই মালের বোতলটা আর এই কিছু কাগজ পত্র, সব ছাইপাশ লেখা এতে আররর...এই ম্যাপটা "​​​​"ম্যাপ? হ্যাঁ...মাপটা, কিসের ম্যাপ ওটা দেখি একবার..." বলে বিছানার ওপর থেকে সেই ম্যাপটা নিজের হাতে নিয়ে এইদিক ওইদিক নাড়া ছাড়া করে দেখতে লাগলো দীপা | তবে মাপটার এতটাই খারাপ অবস্থা ছিল যে তার থেকে কিছুই বুঝতে পারল না দীপা , " আমার..আমার মনে হচ্ছে যে এই বাকি ছেড়া অংশটা পেলে জায়গাটার নামটা পরিষ্কার করে বুঝতে পারতাম আমরা..." বলে অন্যমনস্ক ভাবে ম্যাপটাকে উল্টো দিকে ঘোরাল দীপা আর ঘোরাতেই আবছা লাল রঙে লেখা কিছু দেখতে পেলো সে । ​​​​"এইটা...এইটা কি লেখা? দেখেছিস এটা?" বলে রুদ্র আর তিস্তার সামনে সেই ম্যাপটাকে এগিয়ে আনল দীপা | ​​​​"লেখা..? লেখা নয় ওটায় স্ট্যাম্প মারা..লাল কালির স্ট্যাম্প...দাড়াও" বলে ম্যাপটাকে দীপার হাত থেকে নিয়ে নিজের চোখের সামনে তুলে ধরতেই তাতে হালকা তিনটে অক্ষর দেখতে পেল রুদ্র ঃ ​​"ইংলিশে..লেখা...এটা...টি, তারপর এস আর শেষে পি...টি এস পি, টি এস পি মানে....?" বলে বাকি দুজনের মুখের দিকে তাকাল রুদ্র ​​​​​"ম্যাপের কোম্পানির নাম হয়তো....তবে তুই কি দেখে কিছু বুঝতে পারছিস যে এইটা কোন জায়গা হতে পারে..." দীপা বলে উঠল ​​​​​"না...না, এইটার এই অবস্থা থেকে কোনও কিছু উদ্ধার করা আমার পক্ষে অসম্ভব, তবে...." ​​​​​"তবে? তবে কি রুদ্র...?" তিস্তা প্রশ্ন করে উঠল ​​​​​"তবে যেটুকু বঝতে পারছি, এই জায়গাটা দেখে কোনও একটা ভ্যালি বলে মনে হচ্ছে....মানে এই জায়গার ফিচারসগুলো দেখে...." রুদ্র বলে উঠলো ​​​​​"তাহলে ওইখানেই নিশ্চয়ই আছে সেই সেফ হাউসটা" দীপা বলে উঠল ​​​​​"কিন্তু ওই জায়গার সন্ধান পাবো কি করে এইবার ?" রুদ্র বলে উঠল ​​​​​"দাড়াও....দাড়াও, আমাকে একটু ভাবতে দাও" তিস্তা বলে উঠল আর নিজের মনে কি যেন একটা চিন্তা করতে লাগল, তারপর বলে উঠল " আমাদের ওই ব্যাক-প্যাকটা কোথায় আছে...?" ​​​​​"কোনটা? কালোটা..? ওই তো পাশের ঘরে, মানে আমার শোবার ঘরে আছে..." দীপার দিকে রেগে রেগে তাকিয়ে বলে উঠল রুদ্র ​​​​​" ওঃ..ওটা একবার এখানে নিয়ে আসতে পারবে প্লিজ ?" রুদ্রর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে বলে উঠল তিস্তা ​​​​​"হ্যাঁ, হোয়াই নট...." বলে বিছানা থেকে নেমে পাশের ঘরের দিকে চলে গেলো রুদ্র ​​​​​"কেমন রেগে আছে দেখলি তো...আলাদা ঘরে শুতে বলেছি বলে? তবে তিস্তা...তোর ওই হাতের ব্যথাটা এখন কেমন আছে?" দীপা বলে উঠল ​​​​" ব্যথা..? ব্যথার আর কোন অস্তিত্ব নেই দীপা দি, একদম ঠিক হয়ে গেছে..." বলে নিজের জামাতা সরিয়ে ক্ষতর জায়গা বার করল তিস্তা , " তবে একটা কথা তোমায় না বলে পারছিনা দীপা দি, সেদিন তুমি খুবই ভালো অপারেট করেছিলে...মানে পুরো প্রফেশনালদের মতন | তুমি কি আগে প্রাকটিস করতে নাকি ..?" দীপার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে উঠল তিস্তা ​​​"আরে না না..ঠিক প্রাকটিস না, আসলে ওই যুদ্ধের সময় সবাই কে কিছু না কিছু কাজে দরকার হয়েছিল মানে হিউম্যান রিসৌর্স এতোটাই কম ছিল যে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হয়েও ওই সময়ে আমায় এই রকম অনেক সার্জারি করতে হয়েছিল...তবে সবই ডাক্তার-কাকুর অব্জার্ভেসানে "​​​"ওঃ...তাহলে তুমি ডাক্তার-কাকুকে ওইখান থেকেই চিনতে? মানে ওই যুদ্ধের সময় থেকে....? " তিস্তা প্রশ্ন করে উঠল ​​​"না..না, তারও অনেক আগে থেকে চিনি ওনাকে । উনি..উনি আমাদের ফ্যামিলি ডক্টর ছিলেন তিস্তা আর আমার বাবার খুবই ভালো বন্ধু ছিলেন " পুরনোদিনের সেই কথা বলতেই সেই পুরনোদিনের লোকজনের কথা মনে পরে গেলো দীপার আর একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে | ​​​"ওহহহঃ..." তিস্তা বলে উঠতেই সাথে সাথে রুদ্রকে ঘরে ঢুকতে দেখল ও । ​​​"এসে গেছি, এইতো এসে গেছি" বলে বিছানার ওপর উঠে ব্যাগ-প্যাকটা তিস্তার হাতে ধরিয়ে দিলো রুদ্র | ​​​​"কি জন্যে এটা আনতে বললি তিস্তা....?" দীপা প্রশ্ন করল ​​​​"বলছি...এর ভেতরে একটা ডাইরি ছিল বসের আর যদি আমি ভুল করে না থাকি তাহলে......" বলে ব্যাগের জিপ খুলে ভেতরের জিনিসপত্র খতিয়ে দেখতে লাগল তারপর হঠাৎ "এইতো" বলে চিৎকার করে উঠল । তারপর আস্তে আস্তে সেই ব্যাগ-প্যাকের ভেতর থেকে একটা সেলোফিনের শিটে জড়িয়ে রাখা ডাইরি মানে ওই ছোট নোটবুকের মতন একটা জিনিস বের করলো তিস্তা | জিনিসটাকে সেলোফিনের শিটে জড়ানো অবস্থাতে দেখে ওরা বুঝতেই পারলো যে জিনিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ | ​​​​"এই দ্যাখো..এই দ্যাখো, এতে সব কোডেড নাম আর সব সংখ্যা লেখা রয়েছে কতগুলো" ডায়েরিটা খুলে তাদের দেখিয়ে বলে উঠল তিস্তা ," কিন্তু আমি কোনোদিনই এই ব্যাপারে বসকে কিছুই জিগ্যেস করিনি কখনো...তাই এগুলোর মানে আমি কিছুই জানি না... " ​​​​"ওহ! কোডেড? ওসব নিয়ে একদম চিন্তা করতে হবেনা তোকে তিস্তা, আমারদের রুদ্র কোন প্রবলেমই হবে না?" বলে রুদ্রর দিকে তাকাল দীপা " কিরে রুদ্র শুরু কর তোর খেলা...ডিকোড কর ওই লেখার মানে..."​​​"দাও দেখছি..." বলে তিস্তার হাত থেকে ডায়েরিটা নিয়ে কিছুক্ষণ একমনে একদৃষ্টে সেই লেখাগুলোর ওপর তাকিয়ে থাকল রুদ্র, তারপর হঠাৎ বলে উঠল : ​​"ওকে, বুঝেছি...এখানে লেখা রয়েছে : পাচা, মমি, মুরো; এইগুলি সম্ভবত সবই নেমের আর স্যারনেমের ইনিশিয়ালগুলো সংক্ষিপ্ত করে লেখা আর তার পরের গুলো তাদের ফোন নম্বর" ​​​​"তুমি...তুমি কি করে বুঝলে যে সেগুলো ফোন নাম্বার, মানে ওগুলো অন্য কিছুও তো হতে পারে, মানে ধর ওই টাকা পয়সা, লেনদেনের ব্যাপারও তো হতে পারে তাই না ...?" তিস্তা বলে উঠল ​​​​"না..আমি শিওর তিস্তা....এইগুলোর দিকে একবার ভালো করে দেখো, তুমিও বুঝতে পারবে; এই কান্ট্রি কোডগুলো সামনে না লিখে শেষে লেখা রয়েছে আর প্লাসের জায়গায় মাইনাস লেখা রয়েছে দেখো " আর রুদ্রর কথা মত সেইদিকে তাকিয়ে সত্যি সেটাই দেখল তিস্তা ​​​​"আর এই নিচেরগুলো...?"​​​​"ওহ...এইগুলো ? এই এসবিআই, এইচকেবি, পিএনবি আর এই নম্বরগুলো তো...? এইগুল হল ব্যাঙ্ক আর সেই ব্যাংকের একাউন্ট নম্বর "​​​​"বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং আইডি আর পাসওয়ার্ডও হতে পারে, তাই না ?" পাস থেকে দীপা বলে উঠল ​​​​"হমমম...তবে আমাদের কি এই নাম্বারগুলোতে একবার কল করা উচিত? মানে যদি কিছু জানতে পাড়া যায়...." কিন্তু কিন্তু করে বলে উঠল রুদ্র ​​​​"ফোন করে কি বলবি ওদের ? হ্যালো...আপনি কি পাণ্ডে-জির সেফ-হাউসের ব্যাপারে কিছু জানেন?? জানলে আমাদের কে কি ওই অ্যাড্রেসটা দিতে পারবেন? এইসব বলবি ফোন করে? " দীপা বলে উঠল ​​​​"না, মানে..সেটা..."​​​​" রু...আমাদের সম্পর্কে কেউ এখনও কিচ্ছু জানে না আর আমি সেটা সেই রকমই রাখতে চাই, ঠিক আছে ? " শক্ত গলায় বলে উঠল দীপা ​​​​"আর এইটা, এইটা দেখো, এইটা কি? ল্যাল লিখে তার পর দুটো ফোন নম্বর লেখা রয়েছে এন ২৩৬৮ -৫৫০৪ আর ৮৬৭৩০-৫০৮০০ " বলে সেই ডায়েরিটা আবার ওদের সামনে এগিয়ে অন্য তিস্তা আর সত্যি করেই তারা দেখল যে সেই পৃষ্ঠাটাতে শুধু সেই একটামাত্র জিনিসটাই লেখা আছে | ​​​​"লালু ? লালুটা আবার কে? তুই চিনিস কাউকে সেই নামের তিস্তা..? " দীপা বলে উঠল , " আর এইটা তো দেখে কলকাতার ল্যান্ডলাইনের নম্বর বলে মনে হচ্ছে , তবে সে সব তো বহুযুগ আগেই বন্ধ হয়ে গেছে । তাহলে এখানে এটা লিখে রেখেছেন কেন পাণ্ডে-জি ?" ​​​​আর দীপার কথা শেষ হতে না হতেই রুদ্রর সেই জিনিসটা বুঝতে পেরে উত্তেজিত হয়ে চেঁচিয়ে উঠল সে "আই!!! আই!!! তোমরা..তোমরা বুঝতে পারছ না ওটা কি.....? ল্যাল মানে কি হতে পারে বুঝতে পারছনা?? একবার একবার ভাব? ভাব??" ​​"ল্যাল তারপর নম্বর..মমম...নাহঃ ওপর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে " বলে উঠল তিস্তা ​​​"আমারও এই ব্যাপারে কোনও ধারণাই নেই রু " দীপা বলে উঠল ​​​"ধারণা আছে...কিন্তু ধারণটাকে তোমরা মেটেরিয়ালাইজ করতে পারছ না। এই তো ম্যাপটা দ্যাখো আবার" বলে সাথে সাথে সেই ছেঁড়া ফাটা ম্যাপটা টেনে বের ওদের সামনে তুলে ধরল রুদ্র ," বুঝতে পারছ ?"​​​​"নাহ!!" দুজনে মিলিত সূরে বলে উঠল ​​​​"আরে...এখনও বুঝতে পারছনা ?"​​​​"এইবার টেনে একটা থাবড়া মারবো রুদ্র বুঝলি? নিজে বুঝতে পেরেছিস যখন তখন আমাদের কে সেটা বলতে কি হয়েছে...?" দীপা কপট রেগ দেখিয়ে বলে উঠল ​​​​"ঠিক আছে....তবে এইটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ এবার যে এটা কোনও নরমাল ম্যাপ নয়, এটা একটা টোপোগ্রাফিক্যাল শিটের টুকরো....আর এই লাইনগুল"​​​​"আইইই ! রুদ্র...আমি মনে হয়....কিছুটা বুঝতে পেরেছি এবার" পাস থেকে চেঁচিয়ে বলে উঠল তিস্তা ​​​​"আরেহ!! তিস্তা ডার্লিং..." বলে তিস্তাকে জড়িয়ে ধরে ওর গালে চকাস করে একটা চুমু খেলো রুদ্র , " তবে এবার বোঝাও....তুমিই বোঝাও এবার দীপাকে" ​​​​"ঠিক আছে." বলে রুদ্রর হাত থেকে ম্যাপটা নিয়ে দীপার পাসে ঘেঁষে বসল তিস্তা, তারপর বলে উঠল "দীপা দি, এই ম্যাপের মধ্যে আঁকা এই লাইনগুলোকে দেখতে পাচ্ছও..? এই যেমন এই ১০ ডিগ্রী ১৫ ডিগ্রী, ২০, ২৫ ডিগ্রী" দীপাকে ম্যাপটা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল তিস্তা ​​​​"হ্যাঁ..পাচ্ছি..." ​​​​'এগুলোকে বলে ল্যাটিটিউড...আর এই ওপরের থেকে যেগুল নেমেছে এইগুলো...এইখনে একটাই রয়েছে যেটা এটাকে বলে লংগিটিউড..." তিস্তা বলে উঠল ​​​​"হ্যাঁ অক্ষাংশ আর দ্রাঘিমাংশ, জানি তো এসব । ওহ আচ্ছা এইগুলকেই তোরা ল্যাটিটিউড আর লংগিটিউড বলছিস , বুঝলাম। কিন্তু এবার, এবার কি করবো?" দীপা আবার প্রশ্ন করে উঠল ​​​​​"এইবার ওই দুটোকে ছোট করে এক করে দাও.." তিস্তা বলে উঠতেই দীপা নিজের ভুরু দুটো কুঁচকল ​​​​​"ছোট করে... এক করে দেবো মানে.....আইইই!" সাথে সাথে দীপাও চেঁচিয়ে উঠল ব্যাপারটা বুঝতে পেরে , "তোরা..তোরা কি বলতে চাইছিস? এই..এই ল্যাল...ল্যাল কথার অর্থ ল্যাটিটিউড আর লংগিটিউড? ওটা কোনও ব্যক্তির নাম নয়??"​​​​​"হ্যাঁ ঠিকই ধরেছ তুমি দীপা আর এই নম্বরগুলো হল সেই জায়গার কো-অর্ডিনেটস" বলে সেই নাম্বারগুলর নিচে আঙুল দিয়ে দেখাল রুদ্রও, তারপর আবার বলে উঠল ," এই নম্বরগুলোর দিকে একবার দ্যাখো, আমার মনে হচ্ছে এটা সম্ভবত ঝাড়খণ্ড " ​​​​​"আর খুব সম্ভবত কোনও জলাশয়ের কাছে..." পাস থেকে বলে উঠল তিস্তা ​​​​​"মানে...?" তিস্তার সেই কথা শুনে এক সাথে বলে উঠল দীপা আর রুদ্র ​​​"এই ম্যাপটা রুদ্র....এই ম্যাপটার এই ওপরের দিকটা দেখো, কেমন নীল রং বোঝা যাচ্ছে এখনো..." বলে তাদের দিকে আবার সেই ম্যাপটা তুলে ধরল তিস্তা | রুদ্র দেখল যে ম্যাপের ঠিক ওপরের দিকে একটু খানি নীল রঙের অংশে দেখা যাচ্ছিল...​​"তাহলে নিশ্চয়ই কোনও লেক বা নদীর কাছাকাছি..." দীপা বলে উঠল ​​​​"কিন্তু সেরকম জায়গা এখানে অনেক আছে দীপা-দি, তাহলে..." তিস্তা বলে উঠল ​​​​"তাহলে আমার কি মনে হয় জানত.....?" রুদ্র বলে উঠল "ওটা একটা ড্যাম..."​​​​"ড্যাম...? কিন্তু তুমি কি করে বুঝলে ওটা ড্যাম...?" তিস্তা প্রশ্ন করে উঠল ​​​​"পাসে ঘাঁটিটা আছে বলে...মনে হল আমার..." রুদ্র বলে উঠল ​​​​" তবে এখানে তো দুটোই সব থেকে নাম করা ড্যাম আছে ...একটা পাঞ্চেত আর আরেকটা মাইথন...তাহলে কোনটা...?" দীপা সেই প্রশ্ন করতেই সাথে সাথে দুজন নিজেদের নিজেদের মত তুলে ধরল ; ​​"মাইথন" তিস্তা বলে উঠল ​​"পাঞ্চেত" রুদ্র বলল ​​​"পাঞ্চেত...? তুমি সিওর...?" তিস্তা প্রশ্ন করল ​​​​"নট কমপ্লিটলি....তবে আমি ৭৫% শিওর, ওই কোঅর্ডিনেটস গুলো দেখে আমার সেটাই মনে হচ্ছে" রুদ্র বলে উঠলো ​​​​"কিন্তু বাকি ২৫% শিওর নয় কেন তুমি...?"​​​​"কারণ দুটো জায়গার ডিস্টেন্সে কাছাকাছি....তাই একই লংগিটিউড হলেও ওদের ল্যাটিটিউড আলাদা হবে...দ্যাটস মাই রিমেনিং ২৫% তিস্তা...." বলেই রুদ্রর মুখে একটা কনফিডেন্ট হাসি ছড়িয়ে পড়ল, তারপর আবার বলে উঠল , "তবে একটা জিনিস আমাদের সবাই কে মানতেই হবে, যে পাণ্ডে-জিও খুবই ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন" ​​​​"হ্যাঁ..সে আর বলতে" পাস থেকে দীপা বলে উঠল ,"তবে এইবার ওই এক্স্যাক্ট জায়গাটা খুঁজে বের করে নেওয়া যেতে পারে..তাইনা? "​​​​"হ্যাঁ...কিন্তু এখানে তো কোনও ম্যাপই নেই ...." তিস্তা বলে উঠল ​​​​"আর থাকলেও সেটা দিয়ে আমাদের কাজ হবে না তিস্তা, তবে ইন্টারনেট থাকলে আমাদের সব কাজই মিটে যাবে একদম... " রুদ্র বলে উঠল​​​​"মানে? কি ভাবে ?"​​​​"একদম সহজ ব্যাপার,উইকিমাপিয়া অ্যাক্সেস খুলে ওর ইউ আর এলের পর ওই ডেইরিতে লেখা নম্বর মানে ল্যাটিটিউড আর লংগিটিউডের কো-অর্ডিনেটসটা পুট করে সার্চ করলেই এক্স্যাক্ট লোকেশনটা দেখিয়ে দেবে আমাদের আর ওই ডায়েরিতে দ্যাখো, একটা নাম্বারের আগে এন লেখা রয়েছে । ওইটার মানে নর্থ আর তারমানে তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ যে আরেকটা ইস্ট হবে...তাই নেট থাকলেই সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে " রুদ্র বলে উঠল ​​​​"সে তো বুঝলাম কিন্তু এখানে তো নেটও নেই"​​​​​"তাহলে সেটার ব্যবস্থা করতে হবে আমাদের...শহরের দিকে যেতে হবে তাহলে একবার..." দীপা বলে উঠল ​​​​​"কবে যাবে...দীপা দি ? " প্রশ্ন করল তিস্তা ​​​​​"কালকে...কালকে যাবো আমরা, তবে তুই..তুই এইখানেই থাকবি তিস্তা, ডাক্তার-কাকুর সেফটির জন্য.." দীপা বলে উঠল ​​​​​"না..না আমিও যাবো...ডাক্তার-কাকু এখানে সব থেকে বেশি সেফ আছেন...কিন্তু. তোমরা একা কি করে, না না আমাকে এখানে একা ছেড়ে তোমাদের কোথাও যেতে দেবো না আমি......." জোর গলায় বলে উঠল তিস্তা । ​​​​​"আরে বাবা মেয়ের জেদ দেখেছ? আমরা তো যাবো, কাজটা করবো, কাজটা মিটবে আমরা চলে আসবো..." দীপা বলে উঠল​​​​​"আর এখানে কেউ আমাদের কে চেনে না তিস্তা..তবে তোমাকে চিনলেও চিনতে পারে..তাই...আমরাই করে আসি কাজটা...?" রুদ্রও দীপার তালে তাল মিলিয়ে বলে উঠল ​​​​​'আর যদি...যদি না আসো, যদি আবার সেই হারিয়ে যাও তোমরা...আমার কাছ থেকে..?" তিস্তার চোখ দুটো ছলছল করতে দেখল দীপা ​​​​​"না রে তিস্তা, সেটা..সেটা আর কোনোদিনও হবে না..." বলে তিস্তাকে নিজের বুকে চেপে ধরল দীপা কারণ তার মনের অবস্থাটা কেউ বুঝুক না বুঝুক সে ঠিকি বুঝতে পারল । ​
Parent