অবাধ্য আকর্ষণ - অধ্যায় ২
★★★★★★★Update 02★★★★★★★
.
.
ঝিনুক ওর কাপড়, সাতারের ড্রেস, জগিং এর ড্রেস, কেজুয়াল কাপড়, জোড়ায় জোড়ায় জুতা, ব্যাডমিন্টন খেলার সরঞ্জাম, ফুটবল, পড়ার টেবিলের প্রিয় জিনিস, বাথরুমে ব্যবহার করা জিনিস এসব ঢুকাতে ঢুকাতে লাগেজ ভর্তি করতে লাগলো।
শেষে বাকি টুকটাক জিনিস, ওর প্রিয় সাইকেল আর ৪২ ইঞ্চি টিভিটাও প্যাকেট করে এনে রাখলো গাড়ীর কাছে।
গাড়ীর পিছনের জায়গা পুরো ভর্তি হলো। গাড়ীর ছাদে ওর প্রিয় সাইকেল বেঁধে নিলো। বাকি জিনিসপত্র পিছনের সিটে রাখলো, সিটের নিচের জায়গা সহ পুরো সিট প্রায় ভর্তি হয়ে গেলো।
এখন বাকি রইলো ওর প্রিয় টিভি আর ওরা তিনজন মানুষ। কিভাবে সামনের এই দুই সিটে ওরা তিনজন মানুষ আর টিভি বসাবে, সেটাই ভাবছে সে।
গাড়ীর কাছে এসে রোশান তো অবাক। এতো জিনিসপত্রে ঠাসা তার পুরো গাড়ি। ঝিনুককে জিজ্ঞেস করল,
- তোমার টিভি কেন নিতে হবে? নতুন একটা কিনে দিবো ওখানে?
- কিন্তু বাবা, এই টিভিটা আমার রুমে সেট করা। তোমাদের রুমে আর লিভিং রুমে তো টিভি আছেই। এখন এটা রেখে গেলে তো কেউ দেখবে না। আর নতুন একটা টিভি এর জন্যে আবার কতগুলি টাকা খরচ হবে ভাবো? ঝিনুক যুক্তি দিলো।
- কিন্তু টিভিটা কোথায় বসাবে? আর তুমি আর তোমার মা কোথায় বসবা?
- টিভি টা পিছনের সিটে আঁটবে না। সামনের সিটেই রাখতে হবে।
- আর তুমি আর তোমার মা?
- সেটাই ভাবছি। টিভি সহ আরও কিছু জিনিস যদি আমরা সামনের সিটে রাখি তোমার পাশে, তাহলে পিছনের একটা সিট খালি হবে। কিন্তু ওখানে মামনি আর আমি দুজনে কিভাবে আঁটবো? ঝিনুকও চিন্তিত হয়ে বললো।
- টিভি সহ কিছু জিনিস সামনে আনলে পিছনের একটা সিট তো খালি হবে বুঝতেছি। কিন্তু যেহেতু একটা সিট, তাই তোমাদের যে কোন একজনকে অন্যজনের কোলে বসেই যেতে হবে।তোমাকে কি তোমার মা কোলে রাখতে পারবে? এতো লম্বা পথ, লম্বা জার্নি? রোশান জিজ্ঞেস করল।
- মামনি তো আমাকে কোলে রাখতে পারবে না। তবে আমি মামনিকে চাইলেই কোলে রাখতে পারি। আর এখন যদি আমি টিভিটা নাও নেই, তাহলেও কিন্তু আমাদের দুজনকে একটা সিটেই যেতে হবে। কিন্তু মামনি কি রাজি হবে, আমার কোলে বসে যেতে?
- তুমি কি পারবা? তোমার মাকে এতটা পথ কোলে নিয়ে রাখতে? আমরা দরকার হলে একটু পর পর বিশ্রাম নেয়ার জন্যে থামলাম। কিন্তু তারপর ও সম্ভব না মনে হচ্ছে। তোমার মা যদি আমাদের সাথে না যেতো, তাহলেই ভালো হতো। আমরা সব কিছু নিয়ে কোনোমতে পৌঁছতে পারতাম। রোশান তার মত দিল।
- আমি মনে হয় পারবো, আম্মুকে কোলে করে রাখতে। কিন্তু মামনি রাজি হবে কি না দেখো।
এই বলে ঝিনুক টিভিটা সামনের সিটে আড়াআড়িভাবে বসিয়ে পিছনের এক পাশের সিট থেকে কিছু জিনস সরিয়ে সামনে এনে একজনের বসার মতো জায়গা করলো।
একটু পরেই ওখানে নেমে এলো ঝিনুকের মা শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি। পরনে কিছুটা উচু একটা স্যান্ডেল টাইপের জুতো, উপরে একটা পাতলা বগল কাটা টপস, যেটা লম্বায় ওর পেট অবধি নেমেছে।
তার নিচে শ্রাবন্তীর তলপেটটা একদম ফাঁকা, প্রায় ইঞ্চি ৬ এর মত। তার নিচে একটা স্কার্ট পড়া শ্রাবন্তীর, ওটাও লম্বায় প্রায় হাঁটুর নিচ অবধি। এর পরে পায়ের অনেকটা অংশ উদোম।
চুলগুলি সব পনি টেইল করে বাঁধা পিছনে, কপালে একটা টিপ, ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক। দেখতে যেন একদম পটাকা লাগছে শ্রাবন্তীকে।
বয়স যেন এক লাফে ২৫ এর নিচে নেমে গেছে শ্রাবন্তীর, এমনই মনে হচ্ছিলো।
বাবা আর ছেলে দুজনেই হা করে শ্রাবন্তীকে দেখছিলো। শ্রাবন্তী বাড়িতে বেশ হট কাপড় পরে, কিন্তু ছেলেকে অন্য শহরে রেখে আসার জন্যে যেই রকম সাজগোজ করেছে সে এই রাতের বেলায়, সেটা কেমন যেন লাগছিলো বাপ ছেলে দুজনের কাছেই।
।
।
।
....................চলবে....................
upload images