Abar Ak Rohossyo Golpo (Completed) - অধ্যায় ৪০

🔗 Original Chapter Link: https://xforum.live/threads/abar-ak-rohossyo-golpo-completed.7389/post-791128

🕰️ Posted on Sat Nov 30 2019 by ✍️ Arunima Roy Chowdhury (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1214 words / 6 min read

Parent
Part XXXX তমাল বললো … ” ভয় পেয়ো না অন্ধকারে … ফুটবে এল চন্দ্রাহারে “…. আমি চন্দ্রহার তা দেখার জন্য উতলা হয়ে আছি . আমার ধারণা সেটার মূল্য এই মোহরগুলোর চাইতে কম হবে না . তমাল এগিয়ে গেলো বাক্সতার কাছে . বাক্সটায় একটা লোহার তালা ঝুলছে . কিন্তু মাটির নিচে থাকতে থাকতে সে নিরাপত্তা দেবার শক্তি হারিয়েছে . গার্গী একটা হাতুড়ি নিয়ে এলে তমাল একটা বাড়ি মারতেই তালা খুলে গেলো .খুব আস্তে আস্তে তমাল ডালা তা খুলে ফেললো … বাকিরা নিজেদের ডোম বন্ধ করে রেখেছে . একটা মখমলের কাপড় দিয়ে ঢাকা দেওয়া রয়েছে . তমাল মখমলতা সরিয়ে দিতেই 4 জনের চোখ ধনধিয়ে গেলো . মনি মুক্ত খচিত রাশি রাশি গয়না থরে থরে সাজানো রয়েছে বাক্সটার ভিতর . তমালের চোখ সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য কিছু খুঁজতে লাগলো .কিন্তু দেখতে পেলো না . সে একটা একটা করে গয়না বের করে মেঝেতে রাখতে লাগলো . বাক্স এক সময় ফাঁকা হয়ে গেলো … চন্দ্রাহারের দেখা নেই . গার্গী কুহেলি আর শালিনী নিজেদের ভিতর মুখ চাওয়া চাইয়ি করছে . তমাল চুপ করে তাকিয়ে রইলো বাক্সটার দিকে . তারপর উঠে একটা ঝাঁটার কাঠি নিয়ে এলো . বাক্স তার বাইরে থেকে উচ্চতা আর ভিতরের গভাটোরা মেপেটের মুখটা হাঁসিতে ভোরে উঠলো . ছুরি দিয়ে বাক্সের নিচের ধাতুর তোলাটার সাইড খোঁচাতে শুরু করলো . একটু কষ্ট করতেই ধাতুর তোলার পাতটা উঠে এসে নিচে একটা লুকানো কুঠুরি বেরোলো …. আর যেটা বেরোলো … সেটা বর্ণনা করার ভাষা খুঁজে পেলোনা 4 জনের কেউ . বাক্সের নিচে শুয়ে রয়েছে বিশাল এক চন্দ্রহার . নিজের চোখে দেখা তো বাদ দিলাম বিজ্ঞাপনে ও এরকম হার তারা কেউ আগে দেখেনি . বোরো বললে হাড়টাকে অপমান করা হবে … এক মাত্র বিশাল শব্দ তাই খাপ খায় . মনে হলো এমন কোনো রত্ন পাথর নেই যা খচিত নয় হার তাই . এতই তার ঔজ্জ্বল্য যে এক নাগাড়ে বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকা যায়না … চোখ ধাঁধিয়ে যায় . বিরাট একটা নেকলেস … মাঝে আধুলি সিজেএর একটা ছুঁই বসানো … তাকে ঘিরে আছে পাতার আকারের ৬টা পোখরাজ . নেকলেসের নিচেই রয়েছে প্রকান্ড একটা লকেট …তার মাঝখানে এক টাকার কুইন সাইজও এর ছুঁই … তাকে বৃত্তাকারে ঘিরে আছে মোটর দানার মতো এক সারি হিরে . তার বিয়ে ৬টা সোনায় বাঁধানো পান্না … আর সব শেষে আবার একটা হীরার বৃত্ত . এই হীরা গুলো যে সাইজও .. এক আক্তার এ দাম এখনকার বাজারে প্রায় 2 থেকে 3 লক্ষ টাকা . তমাল গুনে দেখলো 40 তা হিরে রয়েছে . নেকলেস টার 2 পড়ন্ত থেকে মালার মতো ঝুলে আছে আর একটা হার . কিছুদূর পর্যন্ত নিরেট সোনার কারুকার্য করা অংশ .. আর তাকে আরো বোরো বোরো ছুঁই হিরে পান্না বসানো .. তারপর শুরু করেছে পর পর ৫টা চেন . সোনার বল দিয়ে তৈরী সেগুলো . সঙ্গে ম্যাচ করা ২টো কানের দুল রয়েছে ২পাশে . ঘরের ভিতর পিন পড়লেও তার শব্দ শোনা যাবে … এত নীরবতা . নিস্সাস নিতেও ভুলে গেছে সবাই . নির্বাক বিস্ময়ে শুধু দেখেই চলেছে চন্দ্রাহাত . প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে উঠে তমাল মনে মনে হিসাব করলো … শুধু এই চন্দ্রহার তার দামি হবে 2 থেকে 2.5 কোটি টাকা . এই জন্যেই অনুচিত হওয়া সত্ত্বেও সূত্র কবিতায় এটার উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারেননি চন্দ্রনাথ . এবারে তমালের গোয়েন্দা সত্তা জেগে উঠলো . বললো আর না … সব ঢুকিয়ে ফেলো যেখানে যা ছিল . তমাল জানে গুপ্তধন উদ্ধার করার চাইতে সেটা রক্ষা করা আরো কঠিন হতে পারে . দেয়ালের ও কান আছে . এই নির্জন জন বিড়াল গ্রামে নিরাপত্তার এটি অভাব যে সে খুব ভীত হয়ে পড়লো এবার . ওরা ৩ জন আবার কলসি আর বাক্সে মোহর আর গয়না ঢোকাতে যেতেই বাধা দিলো তমাল . বললো … না … ওখানে নয় . তমাল এর সঙ্গে একটা সু্যটকেইস্ ছিল … আর শালিনীর সঙ্গে একটা . সে সু্যটকেইস্ ২টো খালি করতে বললো শালিনীকে তারপর চেপে চুপে সেই ২টোর ভীত r ঢোকানো হলো সব . তমাল নিজের হ্যান্ডবাগে চন্দ্রাহাত ঢুকিয়ে নিলো . তারপর তারা চুপি চুপি বাইরে গিয়ে অনেক নুড়ি পাথর এনে কলসি আর বাক্স ভর্তি করে মুখ বন্ধ করে দিলো . গার্গী কুহেলি আর শালিনী যখন কলসিতে নুড়ি ঢোকাচ্ছে … তমাল একটা কল করতে বেস্ট হয়ে পড়লো . কাজ শেষ হলে তমাল গার্গী কে বললো … আমাকে তুমি কত তা বিসসাস করো গার্গী ? গার্গী বললো … নিজের চাইতে বেশি … কোনো এই প্রশ্ন তমাল দা ? তমাল বললো … তোমার নিরাপত্তার কারণে . আমার আন্দাজ মতো এখানে প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার সম্পদ আছে . এই গ্রামে এই বিপুল সম্পত্তি আর তুমি নিজে নিরাপদ নয় . কাল আমি এগুলো আমার বাড়িতে কলকাতা নিয়ে যাবো কেউ জানার আগে . তারপর তোমার জন্য যথেষ্ট নিরাপদ ভাবে এগুলো সুরক্ষিত করলে আমার ছুটি . গার্গী বললো … তমাল দা … আজ যা কিছু পেয়েছি … সব তোমার জন্য … তুমি যা ভালো বুঝবে তাই করবে . তমাল বললো … গুড ! কাল আমার এক পুলিশ ইন্সপেক্টর বন্ধু এসে পুলিশ জীপে আমাদের কলকাতা পৌঁছে দেবে . তোমরা সবাই যাবে আমার সাথে . . তোমার বাবা ও . আর হা … আর একটা ভালো খবর দি … তৃষা আর সৃজন ধরা পড়েছে . কুহেলি বললো … এত তাড়াতাড়ি ? কিভাবে তমাল দা ? তমাল বললো … MMS ডার্লিং … Multimedia Messaging Service…. আমি ওদের ছবি আগেই তুলে নিয়েছিলাম … অবশ্য সবার ছবিই আছে … তোমার গার্গীর শালিনীর … এমন কি তোমার বাবার … গোয়েন্দা কাউকে বিসসাস করেন সুইটহার্ট . সেই ছবি MMS পৌঁছে গেছে পুলিশের কাছে … তারপর … ক্যাচ .. কট … কট ! সে রাতে ওদের আর ঘুম হলোনা … গুপ্তধন নিয়ে আলোচনা আর আড্ডা মেরেই রাত কেটে গেলো . পরদিন সকালে ২টো পুলিশ জীপ্ এলো গার্গীদে বাড়িতে . ইন্সপেক্টর মুখার্জী নেমেই জড়িয়ে ধরলো তমালকে . তমাল তাকে আলাদা করে ডেকে গুপ্তধনের কথা বললো … সে বললো … ইটা পারিবারিক সম্পত্তি .. আইনগত অসুবিধা হবার কথা নয় … তবুও একজন উকিলের সাথে কথা বলে বেপারটা পোক্ত করে নেবেন . তমাল ইন্সপেক্টর মুখার্জীকে ধন্যবাদ জানালো পরামর্শের জন্য . তারপর ইন্সপেক্টর মুখার্জী বললো .. আপনার জন্য উপহার এনেছি গাড়িতে . তমাল বললো … তাই নাকি ? ২টোকে এই পর্যন্ত বয়ে এনেছেন . হেঁসে ফেললো ইন্সপেক্টর … বললো … বুঝে গেছেন ? তবে ২টো নয় … ৩তে কেই এনেছি . তমাল সবাই কে নিয়ে পুলিশ জীপের কাছে চলে এলো . একটা গাড়িতে তৃষা সৃজন আর অম্বরীষ বসে আছে . 3 জনের হাতেই হাত করা পোড়ানো . তমাল বললো … অরে ? আম্বারদা কে খুলে দিন … ও কোনো দশ করেনি . ও ভয়ে পালিয়েছিলো . ওর একটা মারামারি কেস আছে … সেটার ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলো … অম্বরীষদা ক্রিমিনাল না . ইন্সপেক্টর বললো … কোন মারামারি ? তমাল বেপারটা বলতেই ইন্সপেক্টর বললো … ধুস .. সে ফাইল তো কবেই ক্লোস্ড হয়ে গেছে … তারপর কনস্টবল কে বললো আম্বরের হাত করা খুলে দিতে . আম্বার জীপ্ থেকে নেমে হাত জোর করলো তমালকে . তোমালটার দিকে না তাকিয়ে ইন্সপেক্টরকে বললো … তবে এদের ২জন কে একটু আরামে রাখবেন … লাঠির বাড়ি তা যদি মাথায় ঠিক মতো লাগতো … আমার ভবলীলা সেদিন এ সঙ্গে হতে যেত . ইন্সপেক্টর বললো … ভাববেন না … কমপক্ষে ৮ /১০ বছর যাতে সরকারি অথিতি খানায় থাকতে পারে সে বেবস্থা করবো . সৃজন মাথা নিচু করে রইলো … আর তৃষা তমালের দিকে তাকিয়ে সাপের মতো ফোঁস ফোঁস নিস্সাস ফেলতে লাগলো . একটু পরে মাল পত্র সব জীপে তুলে গার্গী শালিনী কুহেলি আর নিখিলেশবাবুকে নিয়ে কলকাতার দিকে রওনা দিলো তমাল …..! কলকাতায় পৌঁছে প্রথমেই তমাল গার্গীর গুপ্তধনকে নিরাপত্তাজনিত এবং আইনগত ভাবে সুরক্কিত করলো . ট্যাক্স ফাইল খুলে দেওয়া হলো . তারপর ভালো ডাক্তার দেখিয়ে নিখিলেশকে প্রায় চনমনে করে তুললো তমাল . কুহেলি আর গার্গীর আবদারে থিওরি জ্ঞানতার প্রাকটিক্যাল ক্লাস নিয়েছিল শালিনী আর তমাল …
Parent