বিদেশে গিয়ে à - অধ্যায় ১৪
বিদেশে গিয়ে - চোদ্দ
পরদিন ঘুম ভাঙল ঠিক সাড়ে পাঁচটার সময় । বেরিয়ে দেখি লিন্ডা দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে বাইরে। কাছে গিয়ে দেখলাম চোখে জল ।
আমি: মম
লিন্ডা: ইয়েস ।
আমি: চলো স্যুইমিং করি।
লিন্ডা: টুডে?
আমি: ইয়েস ।
দুজনে কস্টিউম পরে পুলে আছি তবে সেভাবে সাঁতার হচ্ছে না। খুব স্বাভাবিক ।
আটটা বাজতে একটা বিরাট গাড়ি এসে ঢুকল কম্পাউন্ডে।
গাড়ি থেকে নামল আমার ড্যাড । আমার মা। তাদের সাথে একটা মেয়ে আমার থেকে খানিকটা ছোট ।
যে মা আমাকে তিন চার বছর বয়সে রেখে চলে এসেছিল। আজ সামনে।
আমি আর লিন্ডা জল থেকে উঠলাম ।
বাবা: থ্যাংক ইউ লিন্ডা ।
লিন্ডা: নো মেনশন।
মা: জয় কেমন আছ?
আমি: ভালো।
মা: লিসা, হি ইস ইয়োর ব্রাদার। জয়।
লিসা: হাই জয়।
আমি: হাই।
বাবা: তুমি রেডি আছ নিশ্চয় । উই নিড টু গো নাও।
আমি লিন্ডার দিকে তাকালাম । মুখে করুণ হাসি। লিন্ডা ঘরে ঢূকে আমার স্ট্রলিটা এনে দরজার সামনে রাখল। আমি এগিয়ে গেলাম। আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়ে চোখে জল নিয়ে তাকাল লিন্ডা ।
লিন্ডা: জয় গুডবাই। আর হয়তো দেখা হবেনা। ভাল থেকো।
বাবা: চলো জয়।
মা: এসো ।
আমি: মা তুমি আমাকে তিন বছর বয়সে রেখে চলে গিয়েছিলে। ভাবোনি আমার কি হবে। নিজের স্বার্থ দেখেছিলে। ড্যাড তুমিও আমাকে রেখে চলে গিয়েছিলে নিজের স্বার্থে। এখানে নিয়ে এসেছো নিজের প্রয়োজনে।
বাবা: হ্যাঁ এখন তো নিয়ে যাচ্ছি।
মা: ইয়েস ।
আমি: ঠিক। কিন্তু যে কিছু পাওয়ার আশা না করে আমাকে মায়ের ভালবাসা দিল । তার কি হবে? কোন স্বার্থ ছাড়াই যে আমাকে সব দিল তার কি হবে?
সবাই চুপ ।
আমি: তোমরা এখন অনেক রীচ। টাকা দিয়ে তোমরা সব কিনতে পারবে। কিন্তু আমার এই মম এর ভালবাসা কিনতে পারবে না।
আমি লিন্ডার হাতটা ধরলাম । লিন্ডা অবাক। সবাই অবাক।
আমি: আই উইল স্টে উইথ হার । ইফ সি অ্যালাও।
লিন্ডা হাউ হাউ করে কেঁদে আমাকে জড়িয়ে ধরল।
লিন্ডা: অলওয়েস মাই সন।
বাবা: তুমি যাবে না।
আমি: না।
বিরাট গাড়ি টা বেরিয়ে গেল। পড়ে রইল এক মার্কিন মম আর তার ইন্ডিয়ান সন।