বন্ধু যখন মায়ের নাগর - অধ্যায় ৯

🔗 Original Chapter Link: https://xforum.live/threads/বন্ধু-যখন-মায়ের-নাগর.160859/post-10282652

🕰️ Posted on Mon Dec 30 2024 by ✍️ nurjahanpankaj (Profile)

🏷️ Tags:
📖 987 words / 4 min read

Parent
এরপর দুপুর সময় মা কে নিয়ে যাওয়া হলো পার্লারে সেখানে মাকে নববধুর রুপে সাজানো হলো। এদিকে দেখতে দেখতে সব আত্মীয় রা আমাদের বাড়িতে এসে হাজির। সন্ধ্যা ৭ টা থেকে সবাইকে খাওয়ানো শুরু হলো। সবাই খুব মজা করছে আমার মায়ের বিয়েতে। আমি আর বাবা শেষ মুহূর্তে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছি সব কিছু ঠিক ঠাক আছে কিনা সেজন্য। এদিকে আগেই পঙ্কজদের পারিবারিক পুরোহিত আমাদের বাড়িতে এসে পৌছালো। তাকে খাবার খাওয়ানো হলো। এরপর সে বিয়ের জন্য যগ্গ সাজাতে লাগলো। আমাদের বাড়িতে যে মন্দির টা করা হয়েছে তার সামনেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।পুরোহিত বিয়ের জন্য সব কিছু রেডি করে মন্ত্র যপতে শুরু করলো। এদিকে মা কে নববধূ সাজিয়ে রাত দশটার দিকে বাড়িতে আনা হলো। মা কে নিয়ে বাবার ঘরে বসানো হলো। আমি গিয়ে মায়ের সাথে দেখা করলাম।মা কে বললাম বাহ মা তোমাকে তো স্বর্গের দেবীর মতো লাগছে। পিকু তো তোমাকে দেখলে পুরা টাসকি খেয়ে যাবে। মা লজ্জা পেয়ে বললো যাহ দুস্টু কোথাকার মা এর সাথে কি এসব কথা বলতে হয় নাকি। এরপর মা বললো তার খুব ক্লান্ত লাগছে সারাদিন উপোস আছে মা। আমি বললাম তাহলে তুমি কিছু খাও মা। মা বললো ছি ছি আমি খেতে পারবো না খোকা তাহলে যে তোর বন্ধুর অমঙ্গল হবে। আমি তাহলে তুমি বিশ্রাম নাও।মা বললো জয় আমার পাশে একটু বস বাবা।আমি বসলাম। মা আমার হাতটা ধরে আমাকে বুকে টেনে নিলো এরপর কাদতে লাগলো। আমি ও মা কে ধরে বুক ফাটা চিৎকার করতে লাগলাম।মা বললো তুই একটু আমার কাছে থাক বাবা আরেকটু পর ই তো তোদের ছেড়ে চিরদিন এর জন্য চলে যেতে হবে।আমি মায়ের চোখের জল মুছে দিয়ে বললাম হাসি দিয়ে বললাম এই পাগল মা আমার তুমি এখন কান্না করছো কেনো কান্না করলে তো তোমার সাজসজ্জা নষ্ট হয়ে যাবে চোখের পানিতে। বিয়ের কনে কি এখন কাদতে পারে বলো। তুমি যদি এখন কান্না করে তোমার মেকাপ নষ্ট করে দাও তবে আমার বন্ধু তোমাকে দেখলে কি ভাববে বলো তো।মা মুচকি হেসে চোখের জল মুছতে মুছতে আমার মাথায় হালকা করে একটা থাপ্পড় মেরে বললো খুব পাকনা পাকনা কথা শিখে গেছো দেখছি।আমার নারী ছেড়া ধন সেই ছোট্ট জয় টা আজ বেশ বড়ো হয়ে গেছে নিজে দায়িত্ব নিয়ে তার মা কে নিজের বন্ধুর হাতে তুলে দিচ্ছে বন্ধুর সংসার করার জন্য। আমি হুম দেখতে হবে না ছেলে টা কার। মা হুম তুই আমার গর্ব রে খোকা। তোর মতো ছেলে যেনো প্রতি ঘরে ঘরে হয়। মা আবারো মুখ কালো করে ফেললো। আমি মা কি হলো। মা বললো জয় আজ থেকে ২৫ বছর আগে এই ঘরেই আমি নববধূ সেজে এসেছিলাম এখানেই তোর বাবার সাথে বাসর করেছি দীর্ঘদিন এই ঘরেই এই বিছানায় তোর বাবার সাথে থেকেছি আর আজ এত বছর পর এই ঘর থেকেই আবার নববধূ সেজে আমি বের হয়ে যাচ্ছি। তোর জন্ম হয়েছে তোকে বড় করছি এই ঘরে। আমার সাজানো গোছানো সংসার। আজ সব ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে নতুন ঠিকানায়।আমি কিভাবে থাকবো তোকে তোর বাবা কে ছেড়ে বলতে পারিস।আমি বললাম মা আমরা কিভাবে থাকবো তোমাকে ছাড়া।যে দিকেই তাকাই সব খানে শুধু তোমার স্মৃতি থাকবে আর তুমি থাকবে অন্য দেশে। আর কোনোদিন তোমাকে অধিকার নিয়ে কিছু বলতে পারবো না কারন একটু পর থেকেই তোমার উপর সব অধিকার থাকবে শুধু আমার হিন্দু বন্ধু পঙ্কজ এর। মা হুম রে। মানুষের ভাগ্য কখন কি হয় সেটা কেউ জানিনা। তুই তোর বাবাকে আগলে রাখিস মানুষ টা খুব ভালো রে। আমি হুম মা। এর মাঝে পিকুর বাবা আমাকে ফোন দিয়ে বললো তারা বরযাত্রী নিয়ে আসবে কিনা জানতে চায় আমি বললাম হ্যা হ্যা আপনারা আসতে পারেন। পিকুর বোন মায়ের ফোনে ভিডিও কল দিলো বললো বৌদি দেখো তোমার বর কিভাবে আসতেছে তোমাকে তুলে নিয়ে আসতে। মা হাসতে লাগলো আমাকেও দেখালো। আমি আর মা দেখলাম বর যাত্রী সম্পাদনা পিকু বর সেজে ধুতি পাঞ্জাবী টোপর পড়ে পুরা হিরো সেজেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার আগে পিকু তার মাকে প্রনাম করে। পিকুর মা পিকু কে আশীর্বাদ করেন এবং পিকু আনুষ্ঠানিকভাবে শীঘ্রই তার "অর্ধা‌ঙ্গী"কে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করার অনুমতি চান। পিকুর মা অনুমতি প্রদান করেন।পিকু আমাদের বাড়ি থেকে পাঠানো গাড়িতে উঠে বসে। ওর পাশে বসে ওদের পরিবারে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ওর চাচাতো ভাই বিক্রম যাকে মিতবর সাজানো হয়েছে।আর সামনে বসে পিকুর বাবা যে কিনা বরকর্তার দায়িত্বে আছে। বাকিরা প্রায় ১৫ টা গাড়িতে করে প্রায় ২৫০ জন লোক যাত্রা শুরু করলো আমাদের বাড়ির দিকে। আমার মা কে বৌ করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি আর মা নিজেদের মধ্যে কথা বলছি। একটু পর বাইরে হইচই। বাচ্চারা বলছে এই বর এসেছে বর এসেছে। আমি মা কে বললাম মা বর এসে গেছে আমি যাই ওদের রিসিভ করি।মা বললো ঠিক আছে খোকা যা তুই। আমি গিয়ে দেখলাম পিকু বরযাত্রীর বিশাল বহর নিয়ে আমাদের দরজার সামনে অপেক্ষা করছে।আমি মুহুর্তের মধ্যে কোথায় যেনো হারিয়ে গেলাম। যে ছেলেটা একটা সময় আমার সাথে আমার বাড়িতে আসতো আমার বন্ধু হিসেবে।আমার মায়ের হাতের রান্না খাবার জন্য। আমার মা কে নিজের মা মনে করতো আর আজ সেই কিশোর ছেলেটাই কিনা বিশাল বরযাত্রীর বহর নিয়ে আমাদের দরজায় অপেক্ষা করছে আমার গর্ভধারিণী মা বিয়ে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আর একটু পর আমার নামাজি মুসলিম মায়ের কপালে সিধুর পড়িয়ে দিয়ে আমার মা কে নিয়ে যাবে আমাদের থেকে বহু দূরে। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ নানী পাশ থেকে ধাক্কা দিয়ে বললো কিরে জয় কি ভাবতেছিস বর যাত্রী সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছে ওদের রিসিভ করবি চল। আমি হুশে ফিরে ও হ্যা তাই তো। বর বরন নানী এবং আমার মামীরা গিয়ে পিকুর গাড়ির দরজা খুললো। এরপর পিকু কে একটি থালায় করে আনা প্রদীপ, ধান,দুর্বা আর অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে বরন করে নেয়া হলো। নানী পিকুর হাত ধরে গাড়ি থেকে বের করে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলো। ব্যান্ড পার্টি ধুমধাম বাজাতে লাগলো।পিকু কে বাড়ির ভেতরে নিয়ে বসানো হলো। এরপর পিকুকে আমার মামি কাকিরা দুধ এবং মিষ্টি খাইয়ে দিলো। মামি কাকিরা বলতে লাগলো দুলাভাই এখন এই গরুর দুধ আর মিষ্টি খেয়ে শক্তি বাড়িয়ে নিন আর এরপর থেকে তো আমাদের ননদের গুলোই খেতে পারবেন। এটা বলে সবাই হা হা করে হাসতে লাগলো। পিকুর সাথে আমার খালা গিয়ে ফাজলামি করতে লাগলো। খালা গিয়ে বলতে লাগলো কি দুলাভাই শুধু আমাদের পর্দাশীল নামাজি বড় আপাকেই বিয়ে করে দেখলে হবে আমরা আপনার শালী আমাদের দিকেও একটু নজর দিয়েন। খালা তার বুকের দুধে ইশারা করে বললো কি দুলাভাই পছন্দ হয়। পিকু হাসতে লাগলো আর বললো তোমার বোন জানতে পারলে আমাকে মেরে ফেলবে। খালা তখন বললো যাক আপনি আমার বড় আপার দিকেই শুধু চোখ রাখুন। আপাকে নিয়ে সুখী হোন।
Parent