এতদিন কোথায় ছিলে - অধ্যায় ২
নর নারীর যৌনতার সম্পর্কতার ব্যাপারগুলোর প্রতি আমার কখনোই আগ্রই ছিলোনা। আসলে, কৈশোরেই একটা বিশেষ ঘটনার কারনে, ছেলেদের উপর একটা ঘৃণাই আমার মনে কাজ করতো সব
সময়। অথচ, কেনো যেনো খুব আগ্রহ করেই শামসুল ভাই আর পারুলের ব্যাপারগুলো দেখছিলাম।
শামসুল ভাইকে দেখে মনে হলো, যৌন উত্তেজনায় পাগলা হয়ে উঠেছে। সে তার পরনের প্যান্ট শার্ট গুলো খোলতে থাকলো এক এক করে। জাংগিয়া ধরনের নিম্নাংগের পোষাকটাও খোলে ফেলার পর অবাক হয়েই দেখলাম, কি যেনো দণ্ডের মতো একটা তলপেটের নীচে কালো কেশ বহুল এলাকাটায় বিরাজ করছে। পেনিস নাকি? ছেলেদের পেনিস এমন হয় নাকি? এমন দণ্ডের মতো একটা জিনিষ প্যান্টের তলায় লুকিয়ে রাখে কেমন করে? আমি যেনো আরো আবেশিত হয়ে পরলাম।
শামসুল ভাই নগ্ন হয়ে যাবার পর, নিজেও কুকুরের মতো, দু হাত আর হাটুর উপর ভর করে মেঝেতে বিচরন করতে থাকলো। হঠাৎ দেখলে মানবরূপী দুটি পশুই মনে হবার মতো। পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে, একে অপরের চেহারাটাই শুধু দেখলো কিছুক্ষন। পশুরা হাসে কিনা জানিনা। হাসলেও, তাদের হাসি বুঝা যায়না। তবে, শামসুল ভাই আর পারুল রীতীমতো হাসছে।
শামসুল ভাই, হাত হাটুর উপর ভর করেই মুখটা বাড়িয়ে দিলো পারুলের দিকে। পারুলের সুন্দর গোলাপী ঠোট গুলোতে চুম্বন করতে থাকলো, মুখটাকে দোলিয়ে দোলিয়ে। পারুলও শামসুল ভাইকে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকলো। অথচ, দুজনেই হাতের উপর ভর করে, মেঝেতে উবু হয়ে আছে! যা করছে, সবই পশুদের মতোই।
শামসুল ভাই এক দফা পারুলের ঠোটে চুম্বনটা শেষ করে, আবারও এগিয়ে গেলো পারুলের পাছার দিকটায়। তার পর পারুলের নিম্নাংগে জিভ দিয়ে চাটতে থাকলো খুব মজা করেই। ক্ষনে ক্ষনে পারুলের ভারী পাছাটাও চাটতে থাকলো। তারপর এগিয়ে গেলো,শূন্যে দোলা পারুলের বক্ষের দিকে। মাথাটা খানিকটা নীচু করে, পারুলের স্তন, স্তনের বোটাও চাটতে থাকলো পাগলের মতোই। তাদের এই দৃশ্য দেখে, আমার নিজের দেহেই যেনো, কেমন এক শিহরণ জেগে উঠতে থাকলো।
অতঃপর হঠাৎ, বাছুর ছানার মতোই, পারুলের স্তন দুটো চুষতে থাকলো, গুতো মেরে মেরে। তারপর, আবারও এগিয়ে গেলো পারুলের মুখের দিকে। মুখটা বাড়িয়ে দিলো, পারুলের রসালো ঠোটে। মনে হতে থাকলো, পারুলের রসালো ঠোট দুটো কামড়ে কামড়ে খাবারই উপক্রম করছে শামসুল ভাই।
কেনো যেনো মনে হলো, দুজনের দেহই যৌন উত্তজনায় প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কেনোনা শামসুল ভাই পুনরায় পারুলের পাছার দিকেই এগিয়ে গেলো। কোন রকম হাত ব্যাবহার না করেই, শামসুল ভাই তার পেনিসটা সই করলো পারুলের যোনীতে। আমি খুব কৌতুহলী হয়েই দেখছিলাম। ছেলেরা কেমন করে তাদের পেনিস মেয়েদের যোনীতে ঢুকায়। হযা মনে হলো, খুব সহজে ঢুকাতে পারছেনা। তারপরও হাত ব্যাবহার না করেই, খাড়া হয়ে থাকা পেনিসটা এপাশ ওপাশ করে, শেষ পর্য্যন্ত ঢুকাতে সক্ষম হলো।
পশুদের যৌনতা আমি বেশ কয়েকবার দেখেছি। হয়তোবা রাস্তায় চলার পথে দৈবাৎ। অথচ, কখনোই আকর্ষন করেনি আমাকে। অথচ, শামসুল ভাই আর পারুলের ব্যাপারটা আমাকে শুধু মুগ্ধই করলোনা, নিজেকেও যৌন উত্তজনায় আবেশিত করে তুললো। আর যখন শামসুল ভাই তার পেনিসটা পারুলের যোনীর ভেতর ঢুকিয়ে চাপাচাপি করতে থাকলো প্রচণ্ড রকমে, তখন নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারলাম না। আমি বারান্দা থেকে ফিরে এসে, নিজ শোবার ঘরে গিয়েই ঢুকলাম। বিছানার উপর চিৎ হয়ে শুয়ে পরলাম অবচেতন মনেই।
আমার হাতটা নিজের অজান্তেই স্যালোয়ারের তলায় ঢুকে যাচ্ছিলো। আমি চোখ দুটু বন্ধ করে, সত্যি সত্যিই আমার ডান হাতের মধ্যাঙুলী যোনীর ডগায় স্পর্শ করিয়েছিলাম। ঠিক তখনই বসার ঘর থেকে কঁকানো একটা গলার শব্দ শুনতে পেলাম। দোলার গলা বলেই মনে হলো। তাই কান পেতেই শুনার চেষ্টা করছিলাম।
সুপ্রিয় পাঠক পাঠিকা, আমার ছোট বোন দোলা আসলেই অপ্রকৃতস্থ। অপ্রকৃতস্থ বলেই তার কথা বলার কোন সংগী নেই। বাবা তার ভালো মন্দের কারখানাটা নিয়েই দিন রাত ব্যাস্ত থাকে। কলেজ ফাইনালটা কাছাকাছি বলে, আমিও খুব একটা সময় দিতে পারিনা তাকে। তা ছাড়া শাহেদ নামের একটা ছেলের প্রেমে পরে, কেমন যেনো স্বার্থপরও হয়ে গেছি। তাই দোলার সাথে আমারও ইদানীং খুব কম কথা বার্তাই হয়। আর সেই দোলাকে, এমনিতে যে কেউ হাজারটা প্রশ্ন করলেও, একটা উত্তরও দেয়না। অথচ,নিজে নিজে কথা বলে, নিজে নিজে হাসেও। বসার ঘর থেকে আর কোন শব্দ এলোনা বলে, আমি নিশ্চিত মনেই সমেহনে ব্যাস্ত হয়ে পরেছিলাম। হঠাৎ, আবারও কঁকানো শব্দটা আমার কানে এলো। আমি আর সমেহনে মজা পেলাম না।
রাত তখন কত হবে কে জানে? বসার ঘর থেকে টিভির শব্দটাও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলো। এতক্ষনের কোলাহল পূর্ন টিভি শব্দটা বন্ধ হয়ে যাবার কারনে, বসার ঘর থেকে দোলার কঁকানো গলাটা স্পষ্ট শুনতে পেলাম। এত তাড়াতাড়ি দোলার টিভি দেখা শেষ হবার কথা নয়। আমাদের বাড়ীতে বিটিভি ছাড়া অন্য কোন চ্যানেল নেই। অথচ, দোলা প্রতিরাতে, এই বিটিভি অনুষ্ঠান বালো লাগুক আর না লাগুক, শেষ বিদায়ের যান্ত্রক ঝি ঝি শব্দ আর দৃশ্যটা ভেসে না আসা পর্য্যন্ত টিভিটা বন্ধ করেনা। দোলার এমনতর স্বভাবে প্রায়ই মনে হতো, আমাদের ঘরের এই টিভিটা যদি কোন কারনে বিকল হয়ে যায়, তাহলে সে বোধ হয় বড় ধরনেরই শকই পাবে। অথচ, এমন একটা অসময়ে, টিভি শব্দটা বন্ধ হয়ে যাবার কারনে, আমি সত্যিই ভয় পেয়ে গেলাম। আমি ভালো করে, কান খাড়া করেই টিভির কোন শব্দ শুনা যায় কিনা অনুভব করার চেষ্টা করলাম।
টিভির কোন শব্দ সত্যিই শুনা যাচ্ছিলোনা। আমি কৌতুহল নিয়েই বসার ঘরে চুপি দিলাম। আশ্চর্য্য! দোলা মেঝের উপর পরে,কেমন যেনো পাগলের মতো গড়াগড়ি করছে। আমি ছুটে ভেতরে গিয়ে, তার পাশে বসে, তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,দোলা তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?
দোলা চোখ তুলে আমার দিকে তাঁকালো। আশ্চর্য্য, দোলার চোখে জল। সে থেকে থেকে, কেমন যেনো কঁকিয়ে কঁকিয়ে উঠতে থাকলো। আমি আবারও বললাম, দোলা, তোমার কি হয়েছে? এমন করছো কেনো তুমি?
দোলা অস্ফুট গলায় বললো, খুব কষ্ট আপু!
আমি আতংকিত গলাতেই বললাম, কষ্টটা কিসের?
দোলা শুধু পাগলের মতোই গড়াগড়ি করতে থাকলো। আমি সাংঘাতিক ভীত হয়ে পরলাম। বাড়ীতে শুধু আমি। বাবা বাড়ীতে ফেরে অনেক রাতে। বাবাকে যে একটা সংবাদ দেবো, সে ব্যাবস্থাও আমার নেই। হাতে একটা মোবাইল টেলিফোন যে খুবই জরুরী তখনই আমি অনুভব করলাম। অথচ, দোলার এই অবস্থা দেখে, আমি যেনো আরো দিশেহারা হয়ে গেলাম।
আমার হঠাৎই মনে হলো, পাশের বাড়ীর কারো মোবাইল ধার করা ছাড়া উপায় নেই। পারুলদের বাসায় তো আর এখন যাওয়া যাবেনা। কেনোনা, একটু আগে জানালার ফাঁকে যা দেখেছি, তাতে করে খুব সহজে যে দরজা খুলবেনা অনুভব করছিলাম মনে মনে। খানিকটা দূরে ফুড ইনস্পেক্টর সাহেবের বাড়ী। কখনো যাইনি। কিন্তু, উপায় তো নেই! যে করেই হউক বাবাকে তো একটা টেলিফোন করতে হবে! আমি দোলাকে বললাম, একটু ধৈর্য্য ধরো। ফুড ইনস্পেক্টর সাহেবের বাড়ীতে কারো মোবাইল পাই কিনা দেখি। বাবাকে টেলিফোন করে, এক্ষুনি ফরে আসবো।
আমি খানিকটা থেমে, দোলাকে শান্তনা দেবার জন্যেই বললাম, হাসপাতালেও টেলিফোন করবো। কোন এম্বুল্যান্স পাই কিনা দেখি। তুমি কিচ্ছু ভেবোনা। সব ঠিক হয়ে যাবে।
দোলা কথা বলতে পারছিলোনা। সে দুহাতে শক্ত করে আমার হাতটা টেনে ধরে রাখলো। তারপর, অনেক কষ্ট করে উঠে বসে,হাপাতে হাপাতেই বললো, আপু, টেলিফোন করার সময় নেই। তুমি একটু গরম পানির ব্যাবস্থা করো। আর আমার খাটের নীচে একটা পলিথিনের সীট আছে, সেটাও নিয়ে এসো।
দোলার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। ভয়ে আমার বুকটা থর থর করে কাঁপাতে থাকলো। মনে হতে থাকলো, দোলা বুঝি মারা যাচ্ছে! দোলার পাশ থেকে কিছুতেই সরে যেতে ইচ্ছে করলোনা। আমার চোখ থেকে, অঝোর ধারায় জল গড়িয়ে পরতে থাকলো।
মানুষ মৃত্যুর সময় প্রলাপ বকে থাকে, তা আমি লোকের মুখে শুনেছি। তা যে এতটা ভয়াভয়, আমার জানা ছিলো না। আমি কি করবো, কিছুই বুঝতে পারলাম না। আমার চোখের সামনে দোলা মারা যাচ্ছে! আমি দোলাকে জড়িয়ে ধররে হু হু করেই কাঁদতে থাকলাম।
দোলার গায়ে তখন প্রচণ্ড শক্তি। সে আমাকে ঠেলে সরিয়ে দিলো। বললো, আপু, বললাম না আমার সময় খুব কম! তাড়াতাড়ি গরম পানি আর পলিথিনের সীটটা নিয়ে এসো!
আমি দোলার নরোম হাতটা ধরে ভয়ে ভয়েই বললাম, ওসব দিয়ে কি হবে দোলা! আমাকে তোমার পাশে থাকতে দাও কিছুটা সময়!
দোলা আমাকে ধমকেই বললো, আপু, তাড়াতাড়ি করো, আমি আর পারছিনা!
এই বলে দোলা তার চোখ দুটি বন্ধ করে, হাত পা ছুড়ে ছুড়ে, বিকট শব্দেই কঁকাতে থাকলো।
আমি তখনও দোলার হাতটা ধরে কান্নায় ভেঙে পরেছিলাম। দোলা শান্ত গলাতেই বললো, আপু, তুমি অমন করে কাঁদছো কেনো? আমি কান্না জড়িত গলাতেই বললাম, তোমার কষ্ট হচ্ছে, আর আমি
কাঁদতে পারবো না?
দোলা তার দু হাত নিজের পেটের উপর চেপে রেখে বললো, বাবু আসার সময় হয়ে আসছে! বাবুকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করাবে নাকি? তাড়াতাড়ি পানি গরম বসাও।
এতটা দিন দোলা মোটিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করেছিলাম। কখনো দোলার পেটের দিকে ভালো করে তাঁকিয়ে দেখিনি। এতদিন দোলার পেটটা দেখে, ভুড়ি ভেবে তো সাংঘাতিক ভুল করেছি আমি। দোলার তো ভুড়ি বাড়েনি, সে তো একটি পোয়াতী মেয়ে! কিন্তু, কিভাবে?
আমি দোলার চাইতে মাত্র তিন বছরেরে বড়! এই উনিশ বছর বয়সে আমার নিজ জীবন সম্পর্কে পুরুপুরি বুঝার মতো পরিপক্কতাও আসেনি তখনো। অথচ, মুহুর্তেই আমার ভাবমূর্তি বদলে গেলো। আমি দোলার অভিভাবকের আসনটি দখল করে বললাম, দোলা, তোমার সর্বনাশটা করলো কে?
দোলা আমার কথা মোটেও পাত্তা দিলো না। সে তার পরনের স্যালোয়ার এর গিট খুলত খুলতে বলতে থাকলো, ঠাণ্ডা পানি হলে,ঠাণ্ডা পানিই নিয়ে এসো। বাবু চলে এসেছে।
দোলার কথা শুনে আমার মাথার উপর যেনো বাজ নেমে পরলো। বাড়ীতে আমি একা! আমি কোন ডাক্তারও নই, নার্সও নই। সামনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। তেমনি একটি সময়ে, কুমারী একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করতে চলেছে! সেই কুমারী মেয়েটি হলো,আমার অতি আদরের ছোট বোন দোলা। যার অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ও আমি জানিনা। আমি লক্ষ্য করলাম, দোলা নিজে নিজেই তার পরনের স্যালোয়ারটা খোলে ফেলেছে। আর দমটুকু বুকের মাঝে জমিয়ে রেখে, অসুরের মতোই শক্তি প্রয়োগ করছে পেটের উপর। আমি আর দেরী করলাম না। ছুটে গেলাম দোলার ঘরে। তার খাটের তলায় সত্যিই একটা পলিথিনের সীট দেখতে পেলাম। সেটা নিয়ে ছুটে এলাম দৌড়ে বসার ঘরে। দোলার নিম্নাংগের দিকে পলিথিনের সীটটা বিছিয়ে, আবারো ফিরে গেলাম রান্না ঘরে, গরম পানির আয়োজনে।
পানি খানিকটা গরম হতে না হতেই, শিশু কান্নারই শব্দ কানে এলো আমার। আমি পানি যতটুকুই গরম হয়েছিলো, তা নিয়েই ফিরে এলাম বসার ঘরে। আমি দেখলাম, একটি চমৎকার মাকে! যে আমার ছোট বোন দোলা। খুব মিষ্টি করেই সফলতার হাসি হাসছে। আর খুব স্বাভাবিক মানুষের মতোই বলছে, আপু, তোমাকে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। বাবুর নাড়ী কাটতে হবে! আমার ঘরে, মীট সেইফের ড্রয়ারে ব্লেড আর স্যাভলোন আছে। সেগুলো নিয়ে এসে বাবুর নাড়ীটা কেটে দাও না! বাবু খুব কষ্ট পাচ্ছে!
দোলার কথায় আমি সত্যিই অবাক হলাম। দোলা আমার চাইতে তিন বছরের ছোট, তার উপরে সবাই তাকে পাগল বলে! সে এত কিছু জানে কেমন করে? আমি তো দোলার অবস্থা দেখেই নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। আমি ছুটে গিয়ে, মীট সেইফের ড্রয়ারে ব্লেড আর স্যাভলোনের বোতল খোঁজতে থাকলাম।
দোলার একটি পুত্র সন্তান হয়েছিলো। আমি সেই সন্তানটি তার কোলে দিয়ে, দোলার পাশেই বসে রইলাম। পৃথিবীর সমস্ত মা গুলোই বুঝি একই রকম! দোলা তার বাবুর সাথে কি ভাষায় কথা বলছে বুঝতে পারলাম না। তবে, মনে হতে লাগলো, তার সব চাইতে পরম সম্পদই বুঝি এই শিশুটি।
কারখানার কাজ শেষে, বাবা বাড়ী ফিরে এলো গভীর রাতে। দোলার ব্যাপারটা তো আর গোপন করার মতো কোন ব্যাপার নয়। গোপন করতে চাইলেও, শিশু কান্না বাবার কানে তো পৌঁছুবেই। দোলার উপর বাবা যেনো রাগ না করে, তাই আগে ভাগেই দোলার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চেয়ে বলতে চাইলাম, বাবা, দোলার উপর রাগ করার দরকার নেই। সে কোন কিছু বুঝে করেনি। যে এমন একটি সর্বনাশ করেছে, তার একটি উচিৎ শাস্তির ব্যবস্থাই করা দরকার।
প্রতিটি বাবাই তার সন্তানদের, বিশেষ করে মেয়েদের জন্যে মনের মাঝে ভালোবাসা জমা রাখে। তার সন্তানের জন্ম থেকে শুরু করে, বেড়ে উঠাটাও দেখে থাকে। সুখ দুঃখের অনেক ব্যাপারও ভাগাভাগি করে থাকে। আমাদের বাবাও কোন অংশে কম নয়। বাবা দোলাকে আমার চাইতেও বেশী পছন্দ করে। বরং, ইদানীং বাবার সাথে আমার একটা দূরত্ব বাড়ছে।
দোলার সমস্যাটা হলো, সে কোন কিছুই দীর্ঘক্ষণ মনে রাখতে পারে না। তাই, কিছু আগে ঘটা কোন কিছুও যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন সে উল্টা পাল্টাই উত্তর দিতে থাকে। আর তাই স্কুলেও অন্য সব ছেলেমেয়েদের মতো, পড়ালেখা, খেলাধূলা,কোনটাতেই তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি বলে, ক্লাশ ওয়ানে দু দুবার ফেল করার পর, স্কুলেও পড়ালেখাটা চালানো হলো না তার।
দোলার এই সমস্যাটা ঠিক মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই। তখন আমি ক্লাশ ফৌরে পড়ি। দোলা ক্লাশ ওয়ানে ভর্তি হয়েছিলো মাত্র! তখন দোলার বয়স ছয়, আর আমার নয়। ওয়ানের ক্লাশগুলো একটু আগেই ছুটি হতো। সেদিন দোলা যখন স্কুল থেকে বাড়ীতে ফিরে এলো, তখন দেখলো মা মেঝেতে পরে আছে, অথচ কোন কথা বলছিলো না। আমি তারও দু ঘন্টা পরই বাড়ীতে ফিরেছিলাম। দোলা অনেকটা হতবাক হয়েই মায়ের মাথার ধারে বসেছিলো। আমি পাড়া প্রতিবেশীদের সবাইকে ডেকে যখন মায়ের কি হয়েছে জানতে চাইলাম, তখন সবাই বললো, আমাদের মায়ের দেহটা মেঝেতে পরে থাকলেও, আত্মাটা নাকি অনেক দূরে চলে গেছে। আসলে, আমাদের মা হঠাৎই স্ট্রোক করেছিলো।
চিকিৎসকরা বলে, মা মারা যাবার শকেই নাকি দোলার মাথার সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। তবে, চিকিৎসকরা এমনও বলে থাকে,আবারও যদি কঠিন কোন আঘাত পায়, তাহলে স্বাভাবিক জীবনেই ফিরে আসবে দোলা। বড় বড় কঠিন শকগুলো তো আরা কেউ শখ করে জীবনে ডেকে আনেনা। তাই দোলার মাথাটা আদৌ কখনো স্বাভাবিক হবে কিনা, অনুমান করার মতো ছিলো না। তবে, কেনো যেনো এই দোলা ঘর গোছালী সহ রান্না বান্নায় সাংঘাতিক পটু। খুব নিখুতভাবে, অনেকটা রোবটের মতো নিয়ম আর সময়মাফিক ভাবেই ঘর গোছালীর কাজ গুলো করে থাকে। কথা সে কম বলে, তবে যা বলে সব গুছিয়ে সুন্দর করেই বলে। সমস্যাটা হয় শুধু, যদি তাকে কেউ কোন প্রশ্ন করে। তখনই সে উল্টা পাল্টা এমনি বলতে থাকে যে, যার সাথে আগে পিছে কোন যোগ সূত্র থাকে না।
বাবা আমার কথা শুনে কিছুই বললো না। দোলার কোল থেকে শিশুটিকে নিজের কোলে নিয়ে আদর করতে থাকলো, চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকলো। দোলাও এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে, বাবার সেই আনন্দ ভরা মুখটি দেখতে থাকলো তন্ময় হয়েই।
আমি নিজ ঘরে ফিরে এলাম। ভাবতে থাকলাম, কে হতে পারে সে? যে দোলার এমন একটি সর্বনাশ করতে পারে! বাবার কারখানার ম্যানেজার হামিদ আলী মাঝে মাঝে আমাদের বাড়ী আসে, বাবার কাছেই, হিসাবের কাগজপত্র নিয়ে। শাহেদও আমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। ক্লাশ নোট, এটা সেটা বায়না ধরে, সেও আমাদের বাড়ীতে প্রায়ই আসে! শাহেদ তো আমাকে ভালোবাসে! তা ছাড়া শাহেদের সাথে আমার প্রেমটা জমে উঠতে শুরু করেছে, মাস তিনেকও হয়নি। টেষ্ট পরীক্ষার পর, বিদায় সম্বর্ধনার দিনটি থেকেই। তবে কি ম্যানেজার কাকু?
ম্যানেজার কাকু বাড়ীতে এলে, আমার বাড়ন্ত দেহটার দিকে প্রায়ই তাঁকিয়ে থাকে নির্লজ্জের মতোই। একবার তো আমার পিঠে হাত রেখে বলেই ফেললো, মামনি ওড়না পরো না কেনো? দুধ ঢেকে না রাখলে, বিড়ালে খেয়ে ফেলতে পারে! যেই লোক এমন কথা আমাকে বলতে পারে, সে যে দোলাকে বাড়ীতে একা পেয়ে, এমন কিছু করবে না, তারই বা নিশ্চয়তা কি?