এতদিন কোথায় ছিলে - অধ্যায় ৪
আমি মেজাজ খারাপ করেই বলি, ওহ, রিয়ার গলপো বলে বলে, আমার বুকে মুখ গুঁজার ফন্দি!
হামিদ আলী রসিকতা করেই বলে, ছি! ছি! কি যে বলো মামনি। তোমার যা দামী দুধ! আমার পেটে হজম হবেনা। শেষে পেট খারাপ করে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
আমিও মজা করে বলি, তাহলে তো ভালোই, হাসপাতালে নার্সদের দুধু খেতে পারবেন!
হামিদ আলী খুব খুশী হয়ে বলে, তার মানে তোমার দুধুও আমাকে খেতে দিচ্ছো!
আমি তখন রাগ করেই বলি, ধুর ফাজিল! তরে কইছি! আর তুই হুনছস!
হামিদ আলীর সাথে এরকম সস্তা রসিকতা প্রায়ই হয়। যারা এরকম কথা বেশী বলে, রসিকতা করে, তারা আসলে বাস্তবে কোন কিছুই করতে পারে না। তাই সন্দেহটা পুরুপুরি বাবার উপর গিয়েই পরলো।
পৃথিবীর অন্য সব বাবারা কেমন, আমার তা জানা থাকার কথা না। শৈশবে মায়ের মৃত্যুর পর, বাবা মায়ের আসনটিও দখল করেছিলো। আমাদের খাওয়া দাওয়া, পোষাক আশাক, লেখা পড়ার যাবতীয় ব্যাপারগুলোর কোন কিছুই ত্রুটি রাখেনি। আর সেই সাথে এক মাত্র ব্যাক্তি শুধু আমাদের বাবাই, যে শৈশব থেকেই আমাদের দু বোনের বেড়ে উঠাটাও দেখেছে দিনের পর দিন। বাবার সামনে দোলা কিংবা আমি ন্যাংটু হয়ে বিচরন করতেও লজ্জা বোধ করিনা। কেনোনা, এই তো কিছুদিন আগেও আমাদের বাবা আমাদের দু বোনকে যত্ন করে গোসল করিয়ে দিতো নিজ হাতে। ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠার পর, গোসলের কাজটা হয়তো নিজে নিজেই করি, তবে, গোসলের আগে পরে প্রায়ই আমাদের দু বোনের নগ্ন দেহ বাবার চোখে পরে। এই ব্যাপারে আমিও যেমনি খুব জটিল কিছু মনে করিনা, বাবাও কখনো সেরকম কুৎসিত চোখে দেখে না। অথচ, আমাদের সেই বাবা কিনা দোলার সাথে এমনি একটি ব্যাপার! উফ, আমি কিছু ভাবতে পারছিনা।
আমার মাথাটা কেমন যেনো এলোমেলো হতে থাকলো। দোলার বাবুকে গোসল করিয়ে, দোলার কোলেই তুলে দিলাম। তারপর ফিরে এলাম বসার ঘরে। এরোটিক যেই গলপোটা পড়ছিলাম, সেটা পড়তেও ইচ্ছে করলো না। অলস ভাবেই বসে রইলাম।
বেলা কত হয়েছে কে জানে? হঠাৎই দরজা খোলে কার যেনো, ভেতরে ঢুকার শব্দ পেলাম। চোখ তুলে তাঁকাতেই দেখলাম বাবা। আমাকে ন্যাংটু হয়ে সোফায় বসে থাকতে দেখে, বাবা নিজেই যেনো লজ্জা পেয়ে গেলো হঠাৎ। তবে, সহজভাবেই বললো, কি ব্যাপার, কলেজে যাওনি?
আমি উঠে দাঁড়িয়ে, নিজের ঘরের দিকে ধীর পায়ে এগুতে এগুতে বললাম, নাহ, ভালো লাগছিলো না।
বাবা নিজে থেকেই বলতে থাকলো, দোলার দুপুরের খাবার রেডী করতে হবে, গোসল করাতে হবে! কারখানায়ও কত কাজ! ঝামেলা যখন আসে, এক সাথেই আসে! তোমার লেখাপড়ায় যেনো আবার কোন ক্ষতি না হয়!
আমি কিছু বললাম না। নিজের ঘরে এসে বিছানার উপর উবু হয়ে শুয়ে পরলাম। মনে মনে বললাম, আমার লেখাপড়ার আর কি ক্ষতি হবে! দোলার এত বড় একটা ক্ষতি হয়ে গেলো!
খাবার ঘর থেকে বাবার উঁচু গলা শুনতে পেলাম, কি ব্যাপার রাত্রি? টিফিনও তো খাওনি! ঠিক আছে, কলেজে যখন যাওনি,তোমার দুপুরের খাবারও রেডী করছি।
আমি কোন জবাব দিলাম না। মনে মনেই বললাম, তোমার যা ইচ্ছে তাই করো! আমি তোমার কে? দোলাই তো তোমার সব কিছু! দোলাকে গোসল করানোর জন্যে, দোলার খাবার বানানোর জন্যে কারখানার কাজ ফেলে ছুটে এসেছো!
খানিকটা পরই অনুমান করলাম, বাবা দোলাকে নিয়ে বাথরুমে ঢুকেছে। পানি ঝরার শব্দের পাশাপাশি, দোলা আর বাবার কথাও কানে এলো। আমারও খুব ইচ্ছে হলো বাথরুমে চুপি দিতে। বিছানা থেকে নেমে, স্যালোয়ারটা পরে নিলাম। তারপর সেমিজটাও। অতঃপর ধীর পায়ে এগিয়ে গেলাম বাথরুমের দিকে। খোলা দরজাটায় চৌকাঠেই ঠেস দিয়ে দাঁড়ালাম আমি। দেখলাম একটা চেয়ারে দোলাকে বসিয়ে, বালতিতে ঠাণ্ডা পানির সাথে গরোম পানি মিসিয়ে, পানির তাপ পর্য্যবেক্ষন করছে বাবা কোমরে একটা তোয়ালে বেঁধে। আমার অস্তিত্ব টের পেয়ে, বাবা খানিকটা ধমকেই বললো, কলেজে যখন যাওনি, দোলার গোসলটাও অন্তত করিয়ে দিতে পারতে!
আমার বুকটা কেমন যেনো ভার ভার হয়ে ছিলো। কিছু বলতে পারলাম না। বাবার চোখে চোখেই শুধু তাঁকিয়ে রইলাম। বাবা নিজ কাজেই মন দিলো। মগ দিয়ে পানি নিয়ে, দোলার মাথাতে পানি ঢালতে থাকলো।
দোলার উর্ধাংগ নগ্ন। বড় বড় সাইজের দুগ্ধ পূর্ন স্তন দুটো ঈষৎ ঝুলা ঝুলা ভাব হয়ে আছে। মাথায় ঢালা পানি গুলো, তার মুখমণ্ডল বেয়ে বেয়ে, সেই স্ফীত বক্ষের উপর দিয়েই গড়িয়ে গড়িয়ে পরতে থাকলো। দোলার নিম্নাংগে তখনো স্যালোয়ারটা ছিলো। বাবা সেই স্যালোয়ারের গিটটা খুলে, স্যালোয়ারটাও নামাতে থাকলো। দোলার তল পেটটা এখনো ফোলা ফোলা। হঠাৎ দেখে মনে হয়, পেটের ভেতর আরো একটা বাচ্চা আছে। তার ঠিক নীচেই দোলার নিম্নাংগ! এই পথ দিয়েই দোলার বাবুটা বেড়িয়ে এসিয়েছিলো। ঘন কালো, ঈষৎ কোকরানো কেশে আবৃত একটা নিম্নাংগ! দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবার কথা ছিলো। অথচ, নিম্নাংগের পাপড়ি দুটো বেশ খানিকটা বেড়িয়ে, ফাঁক হয়ে আছে। বুঝাই যায়, শিশুর মতো বড় আকৃতির একটি জিনিষ এই যোনীটার ভেতর থেকে বেড়িয়ে এসেছে।
বাবা বালতি থেকে পানি নিয়ে, দোলার নগ্ন ফর্সা উরু দুটির উপরও পানি ঢালতে থাকলো। তারপর, নিম্নাংগের দিকটাতেও ঝাপকে ঝাপকে পানি ঢালতে থাকলো। অতঃপর গ্লাস শেলফের উপর থেকে শ্যাম্পুর শিশিটা টেনে নিয়ে, দোলার মাথায় শ্যাম্পু ঢালতে থাকলো।
আমার মনে পরতে থাকে শৈশবের কথা। শৈশবে বাবা শুধু দোলা নয়, আমাকেও এমন যত্ন করে গোসল করিয়ে দিতো। আমার কানের কাছে ভেসে আসতে থাকে সেই সুর, ছেলেবেলার দিন ফেলে এসে, সবাই আমার মতো বড় হয়ে যায়, জানিনা কজনে আমার মতন, মিষ্টি সে পিছু ডাক শুনতে যে পায়, আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়!
আমি বুঝিনা, বয়স বাড়ার সাথে সাথে, বাবাদের সাথে মেয়েদের দূরত্বটা এমন করে বাড়তে থাকে কেনো। ইচ্ছে করলেও একটা বয়সে কোন মেয়েই সেই বয়সটাতে ফিরে যেতে পারেনা। অথচ, আমাদের বাবা কি সহজভাবেই দোলার শ্যম্পু করা চুলগুলোতেও পানি ঢেলে ঢেলে ঝরঝরে চকচকে করে তুললো। তারপর, সাবানটা নিয়ে দোলার গায়ে মাখতে থাকলো খুব সহজভাবে। দোলার স্ফীত বক্ষে কি সাবলীল ভাবেই সাবান মেখে চলছে। তারপর তার তলপেটে, পিঠে নিম্নাংগে। দোলাও কেমন বেহায়ার মতো খিল খিল করে হাসছে, আর পেতে দিয়ে আছে তার নগ্ন দেহটা বাবার হাতের মাঝেই!
আমি আর বেশীক্ষণ তাঁকিয়ে থাকতে পারলাম না। ফিরে এলাম নিজের ঘরে।
যৌনতার ব্যাপার গুলো নিয়ে আমি আসলে কখনোই সচেতন ছিলাম না। ছেলে কিংবা পুরুষদের ব্যাপারেও আগ্রহটা কৈশোরেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। শাহেদ আমাকে প্রাণপনে ভালোবাসে, এমন কি
সরাসরি প্রকাশও করেছে। তবে, মন থেকে আমি কখনোই শাহেদকে ভালোবাসিনা। কারন আমার মনে পরে সেই কৈশোরের কথা!
কি বিশ্রী ব্যাপার! এমন অসভ্য আবার আছে নাকি? বারো বছরের একটি মেয়ের বুকে এমন করে কেউ হাত বাড়ায় নাকি? কি সাংঘাতিক! ছি ছি! আমার মাথাটা ঝিম ঝিম করতে থাকলো। বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, ন্যু মার্কেটের আবছা অন্ধকার এই করিডোরে, কিছুতেই আমার পা আর চলছিলো না।
বাবা, নয় বছর বয়সের দোলার হাত ধরে, অন্ধকার করিডোরটার ও প্রান্তে চলে গেছে। আমি আমার সমস্ত শক্তি দিয়েই, বাবা আর দোলার সাথে তাল মিলিয়ে এগুতে চাইছিলাম, অথচ থেকে থেকে আমার পা দুটো আটকে আটকে যেতে থাকলো।
করিডোরের বাঁকে গিয়ে, কাছাকাছি আমাকে না দেখে, থেমে দাঁড়ালো বাবা। আমি নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলাম। অনেক কষ্টে পা চালিয়ে বাবা আর দোলার পাশে এসে দাঁড়ালাম। আমার মাথার ভেতরটা শূন্য শূন্য লাগছিলো। আমার চেহারাটা কেমন দেখাচ্ছিলো আমার জানা ছিলোনা। তবে বাবা বললো, কি ব্যাপার রাত্রি? তোমার চেহারা এমন ফ্যাকাশে লাগছে কেনো?টায়ার্ড হয়ে গেলে? আইসক্রীম খাবে নাকি?
বাবার কথার কি উত্তর দেবো বুঝতে পারছিলাম না। আমার ভয়ে গলা শুকিয়ে ছিলো। আইসক্রীম খাবার মতো কোন মানসিকতা ছিলো না আমার। বরং ভীষন কান্না পাচ্ছিলো। বাবা আবারো বললো, কি ব্যাপার রাত্রি? কিছু বলছো না যে? কি হলো হঠাৎ?আইসক্রীম খাবে, নাকি অন্য কিছু?
বাবাকে আমি কি করে বলি যে, এই একটু আগে, বাবা আর দোলার পেছনে পেছনেই, ন্যু মার্কেটের আবছা অন্ধকার সিঁড়িটা বেয়ে উপরে উঠার সময়, একটা বর্বর ধরনের ছেলে, হঠাৎই আমার এই বারো বছর বয়সের উঠতি বাম স্তনটা টিপে ধরে, হঠাৎই উধাও হয়ে গেলো! এমন একটা পরিস্থিতিতে কেউ আইসক্রীম খেতে পারে নাকি? আমি বললাম, আইসক্রীম খেতে ইচ্ছে করছেনা বাবা! বাড়ীতে ফিরে যাবো।
আমার ছোট বোন দোলা অতি আগ্রহের সাথেই বললো, বাবা, আমি আইসক্রীম খাবো!
বাবা বরাবরই দোলাকে আমার চাইতেও বেশী পছন্দ করতো। মাতৃহীন আমাদের এই পরিবারে, আমিও দোলাকে বেশ পছন্দ করি। কিন্তু, এই মুহুর্তে দোলার উপর ভীষন রাগ হলো আমার। কারন, বাবা দোলাকে খুশী করার জন্যে আইসক্রীম এর দোকানই খোঁজতে থাকলো। ন্যু মার্কেটের তিন তলায় আইসক্রীমের কোন দোকান খোঁজে পেলোনা বলে, দু তলা নামার সিঁড়িটার দিকেই এগুতে থাকলো। সিঁড়িটার কাছাকাছি আসতেই আমার খুব ভয় ভয় করতে থাকলো।
বারো বছর বয়সে সবাই যখন ভূতের ভয়ে জড়সড় হয়, তখন আমি ভয়ে জড়সড় কিছু মানুষরূপী পশুদের জন্যেই! কি ভয়াবহ! কি কুৎসিত! আমি এদিক ওদিক না তাঁকিয়ে, আমার দু হাত বুকের উপর ক্রশ করে, আমার বয়সের তুলনায় অত্যাধিক বেড়ে উঠা স্তন যুগলই শুধু ঢাকতে থাকলাম। তারপর, বাবার গা ঘেষে ঘেষেই মাথা নীচু করে সিঁড়িটা বেয়ে নীচে নেমে এলাম।
বাবা আমাদের নিয়ে আইসক্রীমের দোকানে ঢুকে, দু টো ভ্যানিলা কাপের অর্ডার দিলো। আর নিজে একটা সিগারেট ধরিয়ে, কষে একটা টান দিয়ে ঘন ধোঁয়া ছাড়লো। আমি আঁড় চোখেই একবার বাবার দিকে তাঁকালাম। কেনো যেনো মনে হলো, খুব সুখী একটা মানুষ!
ভ্যানিলা কাপ দুটো আসতেই, দোলা খুব আনন্দের সাথেই আইসক্রীম খেতে শুরু করলো। আমার গলা শুকিয়ে ছিলো। অথচ,আইসক্রীমের মতো এই নরোম খাদ্যটাও আমার মুখে রোচলো না। কেনোনা, আমার কেনো যেনো মনে হতে থাকলো, আমার পেয়ারার আকৃতির নরোম বাম স্তনটা, হঠাৎ পেয়ারার মতোই শক্ত হয়ে উঠছে ক্রমে ক্রমে। আমি বাবাকে লক্ষ্য করে বললাম,বাবা, পানি!
বাবা খানিকটা ইতস্ততঃ করেই যেনো বয়টাকে ডাকলো। বাবার চেহারা দেখে মনে হলো, এই ধরনের দোকানে, পানি থাকে না। তার বদলে থাকে ঠান্ডা সফট ড্রিংক। তাই বয়কে ডেকে বাবা বললো, ঠান্ডা দেখে একটা স্প্রাইট নিয়ে এসো তো?
বাবার উপর আমার রাগই হলো। আমি রাগ করেই বললাম, বললাম তো, পানি!
বাবা আবারও ইতস্ততঃ করে বলতে থাকলো, ঠিক আছে, একটা মিনারেল নিয়ে এসো!
পানি পান করার পরও, আমাকে আইসক্রীম খেতে না দেখে বাবা বললো, আইসক্রীম খাচ্ছো না কেনো? গলে যাবে তো!
আমি সহজভাবেই বললাম, আমি কি আইসক্রীম খাবো, বলেছি নাকি?
বাবা রাগ করার ভান করেই বললো, তাহলে অর্ডার দেবার সময় নিষেধ করোনি কেনো?
আমি সহজভাবেই বললাম, নিষেধ করবো কি? দুটোর অর্ডার দিয়েছো! ভাবলাম, একটা তোমার, আর একটা দোলার!
আমাদের বাবার রাগ বেশীক্ষণ থাকেনা। আমাদের মা না থাকায়, এই একটি সুবিধা। বাবা দোলাকে নির্দেশ করে বললো, তুমি খাবে দোলা?
দোলার কি হলো, কে জানে? সে কখনো না বলতে পারে না। ভরা পেটেও খেতে পারে সে। অথচ, সে ও মাথা নেড়ে না করলো। বাবা কেমন যেনো বিব্রতই বোধ করতে থাকলো। কেনোনা, আমরাও জানি বাবা কখনো আইসক্রীম খায়না। তবে, আমাদের হিসেবী বাবা এক কানা পয়সার জিনিষও নষ্ট করার মতো মানুষ নয়। অগত্যা বাবা নাস্তার মতো করেই তিন চামচে আইসক্রীমটা শেষ করলো। এসব দেখে, এই একটু আগেও যে, একটা ছেলে আমার বাম স্তনটা টিপে ধরেছিলো, সে কথাটা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম।
আমরা বাড়ীতে ফিরলাম সন্ধ্যার অনেক পরে। বাড়ীতে ফিরে বাবা রাতের খাবারের আয়োজনেই ব্যস্ত হয়ে পরলো। রান্না বান্নার ব্যাপারে, দোলা ইদানীং এটা সেটা করে প্রচন্ড সহযোগীতা করে বাবাকে। আমি মাঝে মাঝে। সেই সন্ধ্যাতেও দোলা এটা সেটা বাড়িয়ে দিতে থাকলো বাবকে। আমার রান্না ঘরে বাবার সাথে কাজ করতে ইচ্ছে হলো না। আমি রান্না ঘরে একটা চুপি দিয়ে,ফিরে এলাম নিজের ঘরেই। তারপর, বিছানার উপর উবু হয়ে শুয়ে পরলাম হাঁটু দুটো ভাজ করে উরুর দিকে রেখেই। অনেকটা ক্লান্তিতে নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পরেছিলাম।
ঘুম ভাঙলো বাবার ডাকে। বাবা খাবার ঘর থেকে অনবরতই ডাকতে থাকলো, রাত্রি! রাত্রি!
আমি বিছানা থেকে নেমে, বাথরুম থেকে হাতমুখটা ধুয়ে খাবার টেবিলে এসে বসলাম। মুখের ভেতর এক লোকমা খাবার পুরে দিতেই, বিকেলে ন্যু মার্কেটে ঘটে যাওয়া, সেই অঘটনের স্মৃতিটাই ভেসে উঠলো চোখের সামনে। কি বিভৎস! মানুষের মাঝে পশু! আমার খাবারের রুচিটা নষ্ট হয়ে গেলো সাথে সাথে। বাবা আর দোলার সামনে খাবার রেখে উঠে যেতেও ইচ্ছে করছিলো না। কি কঠিন একটা সময়! আমি কষ্ট করেই খাবারটা গেলার চেষ্টা করলাম। খাবারটা গিলতে পারলাম ঠিকই, তবে সাথে সাথেই বমি হয়ে গেলো।
রাতে সহজে ঘুমও আসতে চাইলো না আমার। তখন দোলা আর আমি একই ঘরে, একই বিছানায় ঘুমাতাম। বিশাল খাটটার উপর দোলা হাত পা ছড়িয়েই ঘুমিয়ে আছে। পাশের ঘরে বাবাও নাক ডেকে ডেকেই ঘুমুচ্ছে। অথচ, আমার কেনো যেনো মনে হতে থাকলো, আমার বাম স্তনটা ক্রমশই অস্বাভাবিক ভাবে ফুলে ফুলে তোজ হয়ে উঠছে, দ্রুত গতিতে! কি দুর্বিসহ ব্যাপার! আমি বিছানার উপর শুধু এপাশ ওপাশ গড়াগড়িই করতে থাকলাম। সত্যিই অসহ্য একটা যন্ত্রনাই যেনো আমাকে ধাওয়া করতে থাকলো থেকে থেকে। আমি বালিশটা উল্টিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম নুতন উদ্যমে উবু হয়ে। যেনো, আমার বাম স্তনটা বেড়ে উঠতে চাইলেও দেহের চাপে সেটা বন্ধ থাকে। অথচ, আমার মনে হতে থাকলো, আমার বাম স্তনটা বেলুনের মতো করেই ফুলে ফুলে উঠে, বিছানা ভেদ করে খাটের নীচেই এগুচ্ছে! আমার সাংঘাতিক ভয় করতে থাকলো। কি বিশ্রী ব্যাপার হবে তাহলে! একটা স্তন পেয়ারার মতো! আরেকটা বেলুনের মতো! বাইরে বেড়োবো কি করে?
আমি বিছানা থেকে নেমে বড় আয়নাটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
প্রতিবেশীরা ছোটকাল থেকেই আমাকে সুন্দরী, কিউট এসবই বলতো। পাড়ার বখাটে ছেলেদের এমন কথাও কানে এসেছে যে, বড় হলে নাকি আমি মাল হবো! সংক্ষেপে আমাকে বি, এইচ, এম, এইচ, বলেও ডাকতো। যার মানেও আমি বুঝতাম না। তবে,বান্ধবীদের মুখেই শুনেছিলাম, কথাটার মানে হলো, বড় হলে মাল হবে! আমি নিজের চেহারাটা আয়নাতে দেখতে থাকলাম। নিজের কথা নিজে বলতে সত্যিই বাঁধে। তারপরও বলা যায়, আমার গায়ের রং ফর্সা। চেহারা খানিকটা আয়তাকার, তবে গাল দুটো কেমন যেনো খানিকটা ফুলা ফুলাই লাগে। নাকটা সরু, ঠোটগুলোও সরু, গোলাপী। আয়নাতে আমি আমার টাইট টপসটায় ঢাকা বুকের দিকেই তাঁকালাম। এতক্ষণ বাম স্তনটা বেলুনের আকার ধারন করছে বলে মনে হলেও, দুটোর আয়তন সমানই দেখলাম। তারপরও নিজ সন্দেহ দূর করার জন্যেই, আমি একবার টপসটার উপর দিয়েই নিজ হাতের তালুতে স্তন দুটোর আয়তন পরীক্ষা করে নিলাম। নাহ, সত্যিই দু স্তনের আয়তনই সমান!