এতদিন কোথায় ছিলে - অধ্যায় ৬
শাহেদ বললো, বাহরে, তোমার অনুমতি নিতে হবে? তুমি কলেজে যাওনি বলে, কতটা দুশ্চিন্তা করেছি, সেটা একবারও ভাবলে না? আসলে, আমার প্রতি তোমার কোন ভালোবসাই নেই।
আমি সহজভাবেই বললাম, হ্যা নেই। এখন যদি দোলাকে না ডেকে, সরাসরি বাথরুম থেকে বেড়িয়ে আসতাম, তখন ব্যাপারটা কেমন হতো, ভেবে দেখেছো?
শাহেদ সহজভাবেই বললো, কি আর হতো! একটা নুতন জিনিষ দেখা হতো! একটা সুন্দর জিনিষ দেখা হতো!
আমি অবাক হয়েই বললাম, মানে?
শাহেদ এর চেহারায় কেমন যেনো একটা লালসার ভাব ফুটে উঠলো হঠাৎই। সে দরজাটা টেনে আমার নগ্ন দেহটা দেখে আনন্দসূচক গলাতেই বলে উঠলো, অপূর্ব!
তাৎক্ষনিকভাবে আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। বাথরুমের মেঝেতেই বসে পরলাম। তোয়ালেটা দিয়েই নিজের দেহটাকে ঢাকার চেষ্টা করলাম আপ্রাণ! অথচ, শাহেদ বলতে থাকলো, এত লজ্জা কেনো? একদিন না একদিন সব তো দেখবোই। একটু আগে দেখলে ক্ষতি কি?
দোলা ঘরে! পাশে পারুলদের বাড়ী, একটু উঁচু করে কথা বললে, সবই শুনা যায়। আমি উঁচু করে কোন কথা বলতে পারলাম না। ভয়ে জড়ো সড়ো হয়ে নীচু গলাতেই বললাম, শাহেদ, তোমার দোহাই লাগে, এখন যাও!
অথচ শাহেদ আমার কোন কথা শুনলো না। টান দিয়ে আমার হাত থেকে তোয়ালেটা সরিয়ে নিলো। আমি দু হাটু দিয়ে, প্রানপনে আমার বৃহৎ বক্ষ দুটো ঢাকার চেষ্টা করলাম। বাম হাতটা বাড়িয়ে নিম্নাঙ্গটাও ঢাকার চেষ্টা করলাম। শাহেদ লালসার হাসিতেই বললো, নাচতে নেমে ঘুমটা দিয়ে কি লাভ! চলো, দুজনে মিলে গোসল করি!
এই বলে, শাহেদ তার পরনের শার্টটার বোতাম খুলতে থাকলো। আমি খানিকটা সুযোগ পেয়ে বাথরুম থেকে ছুটে পালানোর চেষ্টা করলাম। শাহেদ আমার হাতটা টেনে ধরে বললো, রাত্রি, প্লীজ! আমি প্রচণ্ড হট হয়ে আছি! তোমাদের ঘরে ঢুকে, বাথরুমে পানির শব্দ শুনেই স্বপ্ন দেখছিলাম এক সংগে দুজনে গোসল করছি! আমাকে সেই স্বপ্নটা একবার শুধু পূরন করতে দাও।
আমার বয়স যখন বারো, তখন ন্যু মার্কেটের অন্ধকার সিঁড়িতে অজানা একটি ছেলে, আমার দুধ গুলো টিপে দিয়েছিলো। আমার বয়স এখন উনিশ! জানা শুনা একটি ছেলে, দিনের আলোতে, আমার অনুমতি নিয়েই আমার দেহটা উপভোগ করতে চাইছে। অথচ, এই একটু আগেও, আমার এমনি নগ্ন দেহটা বাবার চোখের সামনে তুলে ধরেছিলাম বাবাকে উপভোগ করার সুযোগটা দেবার জন্যেই। আমার নির্বোধ বাবা আমার দিকে চোখ তুলেও তাঁকায়নি। আমার দেহের উত্তাপ কমানোর জন্যে একটি পুরুষ দেহের অতি প্রয়োজন ছিলো ঠিকই। তারপরও কেনো যেনো শাহেদ এর প্রস্তাবটা আমি মেনে নিতে পারলাম না। আমি ঘুরে প্রচণ্ড কষেই একটা থাপ্পর মারলাম তার গালে।
শাহেদ যেনো হঠাৎই বোকা হয়ে গেলো। সে আআমার হাতটা ছেড়ে দিয়ে, মাথা নীচু করে বললো, স্যরি!
আমি দ্রুত ছুটে পালালাম নিজের ঘরে। তারপর দরজাটা বন্ধ করলাম ঠাস করেই। শাহেদ দরজার বাইরে থেকেই বলতে থাকলো, রাত্রি, প্লীজ! আমাকে ভুল বুঝবে না। হঠাৎই আমার মাথাটা কেমন হয়ে উঠলো। আমি আজকে আসি।
দোলার ব্যাপারে আমার সন্দেহটা পুরুপুরি শাহেদের উপর গিয়েই পরলো। কারন, দরজা খোলা পেয়ে, বিনা অনুমতিতে আমাদের বাড়ীতে ঢুকার স্বভাব তার আছে। তেমনি কোন একদিন হয়তো, সে এমন
করেই ঢুকে পরেছিলো। বাড়ীতে পোষাকের ব্যাপারে, আমিও যেমন অসচেতন থাকি, দোলাও থাকে। দোলার এমনি কখনো নগ্ন দেহ দেখে,শাহেদ হয়তো লোভ সামলাতে পারেনি। তাই এমন একটা কাজ তার পক্ষে করা, অসম্ভব কোন কিছু না। আমি হয়তো সেদিন প্রতিবাদ করতে পেরেছিলাম, তবে অপ্রকৃতস্থ দোলার পক্ষে প্রতিবাদ করাটা বোধ হয় সম্ভব হয়নি।
বাবাকে আমি শুধু শুধুই সন্দেহ করেছি। দোলার এমনি একটি ঘটনায় আমি যেমনি মনে মনে চাপা কষ্ট নিয়ে সময় কাটাচ্ছি,বাবাও বোধ হয় সমস্ত ধরনের ঝামেলা গুলো এড়ানোর জন্যেই চাপা একটা কষ্ট নিয়েই, স্বাভাবিক কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছে।
শাহেদের এমনি একটা আচরনে, আমার দেহটা তখনো কাঁপছিলো। মাথাটাও জিম ঝিম করছিলো। দরজায় কান পেতে শাহেদের বিদায় হবার ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করলাম। যখন অনুমান হলো শাহেদ আমাদের বাড়ী থেকে বিদায় হয়েছে, তখন আমি আরো একটা তোয়ালে খোঁজে, গা আর চুলগুলো ভালো করে মুছে নিলাম। মনটাকে ফ্রেশ করার জন্যেই কিছু ভালো পোষাক পরার কথাই ভাবলাম। ওয়র্ডরব খোলে ভাবতে থাকলাম কি পরবো!
প্রিন্টের ব্রা গুলো অনেকদিন ধরে পরিনা। স্কুল জীবনে পরতাম। পাখি আপা সব সময় বলতো, তোকে প্রিন্টের ব্রাতেই ভালো মানায়। আমার মনে পরে, পাখি আপার কথা!
বাবা সাধারনত, তার কারখানাটাতে কাজ শুরু করে সকাল নয়টায়। আর আমার স্কুল শুরু হয় সাড়ে নয়টা থেকে। বাবা সকাল সাড়ে আটটা থেকেই ব্যস্ত থাকে আমাকে নিয়ে ঘর থেকে বেড়োনোর জন্যে। উদ্দেশ্য, একই খরচে আমার স্কুলে যাওয়া, আর বাবার কারখানায় যাওয়া। রিক্সায় করে আমাকে নয়টার কিছু আগে স্কুল গেইটে নামিয়ে দিয়ে, নিজে চলে যায় কারখানায়। বাবার এই কৃপণতাই হউক আর মিতব্যায়ীতাই হউক, ধরতে গেলে স্কুলে আমার আগমনই সবচেয়ে প্রথম। তবে, বাবার গোপন অনুরোধেই স্কুল পিওন সেই সময়টাতেই স্কুল গেইটটা খুলে দিয়ে, ছাত্রীদের কমন রুমটাও খুলে দিতো আমার জন্যে নয়টার আগেই।
স্কুলে অধিকাংশ ছেলে মেয়েরা যদিও সোয়া নয়টার পর থেকেই আসা শুরু করে, দুরবর্তী কেউ কেউ নয়টার দিকে এসেও পৌছুতো। স্কুলে অন্য কেউ না আসা পয্যন্ত কমনরুমে একাকীই সময় কাটতো আমার। সেই সময়টা আমার খুব নিসংগেই কাটতো। তবে,মাঝে মাঝে গল্পের বই পড়েও সময় কাটাতাম আমি।
পাখি আপা সব সময় নয়টার কিছু পরেই স্কুলে এসে পৌছুতো। আমি যখন ক্লাশ সেভেনে পড়ি, পাখি আপা তখন ক্লাশ টেনে পড়তো! তখন পাখি আপার খুব নাম ডাকই আমাদের স্কুলে। যেমনি সুন্দরী, তেমনি মেধাবী! আর পাখির মতোই চঞ্চলা একটি মেয়ে, খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক অংগনটাও মাতিয়ে রাখতো। যতদূর জানতাম, পাখি আপার বাবা আমাদের বাবার মতো ছোট খাট কোন ব্যবসায়ী নয়! দেশের বৃহৎ একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানেরই মালিকের মেয়ে।
মেয়েদের মাঝে ধরতে গেলে, পাখি আপাই দ্বিতীয় যে এসে, এই কমন রুমে এসে ঢুকতো। তাই মাঝে মাঝে কথাও হতো। দুজনের বয়সের একটা ব্যবধান ছিলো বলে, সেসব কথা বার্তা কেমন আছো, ভালো আছি, এর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতো। খুব কদাচিৎই ব্যক্তিগত আলাপগুলো হতো। এ ছাড়া, আমি যেমনি গল্পের বই পড়ে ক্লাশ শুরু হবার সময়টার জন্যে অপেক্ষা করতাম, খেলাধুলা আর সংস্কৃতি নিয়ে অধিক ব্যস্ত পাখি আপা বোধ হয় স্কুলের অসমাপ্ত বাড়ীর কাজগুলো নিয়েই তখন ব্যস্ত থাকতো।
আমার চিন্তা ভাবনা তখন একটু ভিন্ন রকমেরই ছিলো। নিজেকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলার জন্যে, রূপ চর্চার কাজটুকুও শুরু করেছিলাম। এমন কি বাবাকে অনুরোধ করেই দোলাকে নিয়ে মাঝে মাঝে নিকটবর্তী পার্লারেও যেতাম চুল কাটাতে।
আমাদের স্কুলের মেয়ে ছেলে সবার ড্রেস প্রায় কাছাকাছি রং এর ছিলো। ছেলেদের বেলায় যেমনি সাদা শর্টের সাথে নেভী ব্লু প্যান্ট,মেয়েদের বেলায়ও, সাদা কামিজের সাথে নেভী ব্লু স্যালোয়ার অথবা জিনস্ প্যান্ট। উপরের ক্লাশের মেয়েরা সাদা কামিজের উপরই ভাজ করা সাদা ওড়না ক্রস করে বুকের উপর রাখতো, যা সাদা একটি বেল্ট দিয়ে কোমরের সাথে আটকে রাখতো। উদ্দেশ্য বোধ হয়, বক্ষ দুটোকে সবার চোখের আড়াল করা। অথচ, সিক্স কিংবা সেভেন, কিছু কিছু এইটে পড়া মেয়েরা তা করতো না। সাদা কামিজ ঠিকই পরতো এবং কোমরে সাদা বেল্টটাও ঠিক মতো থাকতো। তবে, বুকের উপর কোন ভাজ করা ওড়না থাকতো না। তাই আমারও সেটি পরার কোন কারন ছিলোনা। যার কারনে, আমি সহ গুটি কয়েক মেয়েদের বক্ষ গুলোর আয়তন স্কুল ড্রেসের উপর দিয়েও স্পষ্ট বুঝা যেতো। এতে করে, উপরের ক্লাশের ছাত্ররা সহ, অনেক টিচারদের চোখও ছুটে আসতো আমার বুকের দিকে কিংবা সেসব মেয়েদের বুকের দিকে। অন্য সব মেয়েদের তখন কি মনে হতো জানতাম না, তবে আমার খুব ভালোই লাগতো।
তবে, এর সাথে নুতন করে আরো একটি ব্যাপার যোগ করলাম আমি। তা হলো স্কুল ড্রেসের পরিবর্তন। সাদা কামিজে কোমরে বেল্ট বাঁধলে অনেকটা স্কার্টের মতোই দেখায়। তাই আমি সাদা সিনথেটিক কাপরের টপসই বেছে নিলাম স্কুল ড্রেস হিসেবে। তার সাথে মিলিয়ে নীল রং এর স্কার্ট। এতে করে আমার বয়সের তুলনায় বেড়ে উঠা পেয়ারার আকৃতির স্তন দুটো চমৎকার করে ফুটে উঠতো টপস এর তলা থেকে। আর তাই শুধু ছেলেদেরই নয়, অনেক মেয়েদের চোখও আমার দিকে ছুটে আসতে শুরু করলো। এবং আমার বান্ধবী সংখ্যাও যেনো দিন দিন বেড়ে যেতে থাকলো।
সেদিন আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। নয়টার পরপরই কমনরুমে এসে ঢুকলো পাখি আপা। পাখি আপাকে খুব খুশী খুশী লাগছিলো। সে অনেকটা খুশীতে লাফাতে লাফাতেই যেনো কমনরুমে এসে ঢুকেছিলে। স্কুল ব্যাগটা বিশাল টেবিলটার উপর যেনো ছুড়েই ফেললো। তারপর, আমার দিকেই ছুটে এলো, ঠোটে একটা চমৎকার হাসি নিয়ে। আমি কিছু না বুঝার আগেই, আমাকে অবাক করে দিয়ে, আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার ঠোটে গভীর চুম্বনে ব্যস্ত হয়ে পরলো। এমন একটা চুম্বনের জন্যে আমি যেমনি প্রস্তুত ছিলাম না, তেমনি পাখি আপার অতর্কিত এই চুম্বনে আমার সারা দেহে হঠাৎই কেমন যেনো এক শিহরন বইয়ে দিলো।
পাখি আপার চুম্বনটা খুব দীর্ঘ ছিলো না। সে আমার ঠোট থেকে, তার ঠোট গুলো সরিয়ে, তার চমৎকার মুখটা আমার মুখের খুব কাছাকাছি রেখেই বললো, জানো, বাবা আমাকে জাতীয় সাংকৃস্তিক প্রতিযোগীতায় অংশ নেবার অনুমতি দিয়েছে।
জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠান নিয়ে জল্পনা কল্পনা আমার কানেও এসেছিলো। পাখি আপা সত্যিই চমৎকার গান করে। স্কুল থেকে তাকেই নির্বাচিত করা হয়েছিলো। অথচ, দূরের একটি শহরে, এক রাত নিজ বাড়ী থেকে বাইরে অবস্থানের কারনেই পাখি আপার বাবা, এমন একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাবার অনুমতিটা দিচ্ছিলো না। স্কুল কর্তৃপক্ষও এতে খুব হতাশ ছিলো। পাখি আপাকেও এই কয়টা দিন খুব মন মরাই মনে হয়েছিলো। বাবার অনুমতিটা পেয়ে পাখি আপার কতটা খুশী তাও আমি অনুভব করছিলাম। অথচ, পাখি আপার কথাগুলো আমার কানে ঠিকমতো ঢুকছিলোনা। আমার মাথাটা হঠাৎই কেমন যেনো ঝিম ঝিম করতে থাকলো। দেহের শিহরণটাও তখনো বয়ে বয়ে যাচ্ছিলো। আমার কেনো যেনো ই্চ্ছে হতে থাকলো, অমন করে আবারো চুমু দিক আমাকে পাখি আপা। অথচ, পাখি আপা স্বাভাবিক কথা বার্তাই চালাতে থাকলো। হরবর করেই বলতে থাকলো, জানো, এর জন্যে দুদিন আমি না খেয়ে ছিলাম, বাবার উপর রাগ করে! জীবনে সুযোগ কি দুবার আসে, বলো? এই সুযোগটা হারালে, জীবনে কখনো বড় শিল্পী হবার সুযোগটাই তো হারাতাম!
মানুষের কত স্বপ্নই তো থাকে! ডাক্তার হবার স্বপ্ন! প্রকৌশলী হবার স্বপ্ন! কিংবা বড় ধরনের শিল্পী হবার স্বপ্ন! আমাদের মাতৃহীন পরিবারে, আমি কখনো স্বপ্ন নিয়ে ভাবিনি। ইদানীং যে স্বপ্নটা দেখতে শুরু করে ছিলাম, তা হলো নিজ দেহের সৌন্দয্য গুলো প্রদর্শন করে করে, সব কটি ছেলের মাথা খারাপ করবো। কিন্তু, ফলাফল তো দেখছি ভিন্ন! আমাকে দেখে তো ছেলেদের মাথাই শুধু খারাপ হচ্ছে না! পাখি আপার মতো আধুনিকা, সুন্দরী, সংস্কৃতিমনা, চপলা মেয়েদেরও মাথা খারাপ হবার ব্যাপার ঘটছে! নইলে, যতই খুশীর ব্যাপার থাকুক না কেনো, আমার মতো একটি মেয়ের ঠোটে এমন করে চুমু দেবে কেনো?
সেদিন ক্লাশে আমার মন বসলো না। প্রতিটি ক্লাশেই টিচাররা কত কিছু পড়িয়ে গেলো। আমার মাথার ভেতর শুধু পাখি আপার চুমুটাই ঘোরপাক খেতে থাকলো। আমার মতো এমন একটি কিশোরী মেয়ের মনে, ভালোবাসাগুলো পছন্দের কোন ছেলেকে ঘিরেই বুঝি শুরু হতে থাকে। অথচ, আমার কেমন যেনো পাখি আপার প্রতি গোপন একটা ভালোবাসা জেগে উঠতে থাকলো হঠাৎ করেই।
শুরু হলো আমার জীবনে নুতন আরো একটি অধ্যায়! তা হলো, চুমুতে দেহে শিহরণ জেগে উঠে। আর তা যদি হয়, পাখি আপার মতো সুন্দরী কোন মেয়ের ঠোটের চুমু, তাহলে তো কথাই নেই! আমার কি হলো নিজেই কিছু অনুমান করতে পারলাম না। ক্লাশে বসে, হঠাৎ লোপার দিকেই আমার চোখ দুটো বার বার ছুটে যেতে থাকলো।
লোপা আমাদের ক্লাশেই শুধু নয়, পুরু স্কুলেই খুব অল্প সংখ্যক সুন্দরী মেয়েদের মাঝেই পরে। আমার সাথে তার সখ্যতাও খুব ভালো। তাই বলে, তার সুন্দর ঠোটগুলো নিয়ে কখনোই কোন কিছু ভাবিনি। আমার ইচ্ছে করলো, পাখি আপা যেমনি করে আমার ঠোটে চুম্বন করেছিলো, তেমনি একটা চুম্বন লোপার ঠোটেও আমি করি! কিন্তু, কখন কিভাবে, কি পরিবেশে তা করা সম্ভব সেটাই শুধু আমার মাথার ভেতর জ্বালাতন করতে থাকলো।
সেদিন বাড়ীতে ফিরে এসেও আমি খুব ছটফট করতে থাকলাম। দিনটা শেষ হয়ে, আগামীকাল সকালটা তাড়াতাড়ি আসার জন্যেই মনটা আকুল হয়ে থাকলো। শুধুমাত্র পাখি আপা আর আমার একাকী কিছুটা সময়ের জন্যেই। পুনরায় পাখি আপার অদ্ভুত মধুর চুমুটি পাবার আশায়।
পরদিন খুব আকুল হয়েই কমনরুমে অপেক্ষা করছিলাম পাখি আপার জন্যে। যথারীতী পাখি আপাও এলো। আমার দিকে খুব স্বাভাবিক ভাবে তাঁকিয়েই বললো, কেমন আছো রাত্রি?
আমি ভালো আছি বলে, অধীর আগ্রহেই অপেক্ষা করলাম কামনার চোখে, পাখি আপার চুমুটি পাবার জন্যে। অথচ, পাখি আপার তেমন কোন ম্যুড আছে বলে মনে হলো না। আমার মনটা শুধু খারাপ হতে থাকলো। মনে হলো, বয়সে যারা বড়, তারা খুবই স্বার্থপর! নিজেদের খেয়াল খুশী মতোই যা খুশী করে থাকে। অন্যের সুখ দুঃখ ভালো মন্দ ভাবার কোন ভাবনাই থাকে না।
সেদিন পাখি আপার উপর সত্যিই খুব রাগ হয়েছিলো। কেনোনা, পাখি আপার মধুর একটা চুমুর জন্যে, আমি সত্যিই ব্যাকুল ছিলাম। অথচ, আমার সাথে দেখা হবার পর, এমন একটা ভাব দেখালো যে, কখনো সে আমাকে চুমু দিয়েছিলো, এমন কিছু কখনোই ঘটেনি। সেদিনও ক্লাশে আমার মন বসলো না। ন্যু মার্কেটের অন্ধকার সিঁড়িতে একটি ছেলে আমার দুধ টিপে দেয়ার কারনে, ছেলেদের মাথা নষ্ট করবো বলেই, মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। পাখি আপার এমন ব্যবহারে মেয়েদের উপরও প্রতিশোধ নেবারই একটা পরিকল্পনা করছিলাম। তাই সেদিন আমার খুব কাছের বান্ধবী, আমাদের ক্লাশের লোপাকেও ভালো লাগলোনা। টিফিন পিরিয়ডে অযথা রাগা রাগি করে, তার সাথে সখ্যতা নষ্ট করারই চেষ্টা করেছিলাম।
স্কুল ছুটির পর আমি বাড়ীতে ফেরারই উদ্যোগ করছিলাম। স্কুলে আসার সময় বাবার সাথে এলেও, ফেরার সময় একাকীই ফিরতে হতো। তাই আমি একটা খালি রিক্সাই খোঁজছিলাম। ঠিক তখনই স্কুল গেইটের ভেতরে, অনেকটা দূর থেকেই পাখি আপার ডাক শুনতে পেলাম, রাত্রি, রাত্রি!
আমি রিক্সাটায় উঠতে গিয়েও থেমে দাঁড়ালাম। পাখি আপা খানিকটা দৌড়তে দৌড়তেই গেইট দিয়ে বেড়িয়ে এসে, আমার কাছে এসে দাঁড়ালো। তারপর, খানিকটা হাঁপাতে হাঁপাতেই বললো, রিক্সা ঠিক করে ফেলেছো?
আমি অবাক হয়েই বললাম, জী, কিছু বলবেন?
পাখি আপা খুব সহজ গলাতেই বললো, রিক্সা বিদায় করে দাও।
এই বলে, পাখি আপা নিজের পোর্চটা থেকে পাঁচটা টাকা বেড় করে, নিজেই রিক্সাওয়ালার হাতে তুলে দিলো। আমি আরও অবাক হয়ে বললাম, কিন্তু?
পাখি আপা বললো, আমাদের গাড়ী কিছুক্ষণের মাঝেই আসবে। তোমাকে নিয়ে একটু শপিং এ যাবো ভাবছি। ফেরার পথে তোমাকে তোমাদের বাড়ীতে পৌছে দেবো। আপত্তি নেই তো?