গ্রামের রতন মজদুর ও শহরের বউ আয়েশা - অধ্যায় ৫
পর্ব ৯
আয়েশার ব্যবহার দেখে রতনের মাথায় রক্ত। ২২ বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে তার সাথে এরকম আচরণ কিভাবে করতে পারে।
(রতন সিয়ামের বাবার ক্ষেত চাষ করলেও তাকে সিয়ামের বাবার পর সবাই সম্মান করত। সিয়ামের বাবা রতনকে তার ভাইয়ের মত দেখত। গ্রামে রতনের সম্মান অনেক বেশি বলা যায় সিয়ামের বাবা বিচারে না গেলে তাকে ডেকে নিয়ে যাইত। যদিও অশিক্ষিত লোক ছিল, কিন্তু তার ভয়ংকর কালো চেহারা ও বিশাল দেহের জন্য তাকে সবাই ভয় পেত। তাকে কিভাবে একটা বাচ্চা মেয়ে ব্যবহার করল। সে এটা ভেবেই রেগে যায়।)
রতন রেগে গিয়ে আয়েশার চুলের মুঠি ধরে আর রান্নাঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়।
রান্নাঘরে এখন তারা দুজন শুধু, দরজা লাগানো।
আয়েশা চুলের মুঠি ছাড়াতে চেষ্টা করে। কিন্তু সে ব্যর্থ হয়। যতই সে চেষ্টা করে আরো জোরে করে রতন ধরে ফেলে। এতে আয়েশাও আর চেষ্টা করে না।
রতন বলে- কি রে তোর দেমাগ অনেক। শহরে থাকিস বলে গ্রামের মানুষ কে মানুষ ভাবিস না। তোর সাহস কত? তুই আমার হাত থেকে খাবার নিয়ে ছুড়ে মেরেছিস। তোর মত মেয়েকে কিভাবে সোজা করতে জানা আছে।
আয়েশা হার মানে, সে বাহিরে শক্ত থাকার চেষ্টা করে কিন্তু ভেতরে ভেতরে অনেক ব্যাথা সহ্য করছে, চোখ থেকে পানি পরছে।
আয়েশা বলে- ভুল হয়েছে আমার, ক্ষমা করুন কাকা।
রতন- তোর মত মাইয়ারা শুধু অভিনয় করে। তোর বড় শাস্তি দিতে হবে।
এক হাত দিয়ে চুলের মুঠ ও অন্য হাত দিয়ে রতন আয়েশার থোতায় জোরে ধরে মুখ খুলে।
রতন আয়েশার মুখের ভেতর থুতু জমিয়ে ঢেলে দেয়।
রতন আয়েশাকে বলে – এগুলো গিলে ফেল।
আয়েশার ঘৃনায় চোখ থেকে টলটলিয়ে পানি পরে। আয়েশার মুখে রতনের থুতু থাকায় সে কিছু বলতেও পারছে না, আবার তার থোতা টা এমন ভাবে ধরে রেখে যে রতন বাহিরে ফেলানোর উপায় নাই।
অনেক্ষন মুখে রেখে আয়েশা রতনের থুতু গিলে ফেলে।
রতন বলে – এইত ভালো করেছিস। এবার ওই পায়েস আমাকে খাওয়া।
রতন ছেড়ে দেয় আয়েশাকে। আয়েশা এখন চাইলে চিৎকার করতে পারত কিন্তু চিৎকার করলে ই বা কি? তার স্বামী সিয়ামকে বলার পর তাকে কি বিশ্বাস করবে বা সিয়াম এই বিশাল দেহী রতন বাস্টার্ড এর সাথে পেরে উঠবে। শরীর না যেন জাহাজ। এগুলোই ভাবছে আয়েশা।
আয়েশা চুপ করে পায়েস খাইয়ে দেয় রতনকে। রতন আয়েশার হাত থেকে চামচ নিয়ে পায়েশ নিয়ে আয়েশার মুখের কাছে নেয়। আয়েশা চোখ গরম দেখায়।
কিন্তু রতন আরো চোখ বড় করে তাকে খাওয়ার ইশারা দেয়। আয়েশা ভাবে- একটু আগেই এই বাস্টার্ড এর যে পরিমান থুতু সে খেয়েছে, তার তুলনায় ত চামচে লাগা থুতু কিছু না।
আয়েশা খেয়ে নেয়। এরপর একবার আয়েশা কে রতন ও একবার রতনকে আয়েশা খাইয়ে দেয়।
এভাবে খাওয়া শেষ হলে। আয়েশা আর কিছু না বলে চলে যায়।
রতন শুধু হাসে।
আয়েশা রুমে গিয়ে নিজের বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকে কি প্রতিশোধ নিবে। সে রতনকে ছাড়াবে না। এই ননসেন্স কে খুব কঠিন শাস্তি দিবে।
এগুলো ভাবতে ভাবতে এক সময় আয়েশা ঘুমিয়ে যায়।