কামিনী কাঞ্ছনের মোহ - অধ্যায় ৭
৬.
মোহিনী আর নিজেকে আটকে রাখতে পারে না হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে,তা দেখে মোহিনীর মা বলেন-এত টুকুতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ম্যাডাম ,এখনো আপনার কিছুই হয়নি ।বাকিটা জীবন আপনার এই ভাবেই চোখের জল ফেলতে ফেলতে শেষ হয়ে যাবে ।শেষ জীবনে আপনার খুব করুণ পরিস্থিতি হবে ।পরিশেষে মোহিনীর মা বলে ,আমি যদি একজন নিষ্ঠাবান না হয়, আমার এই চোখের জল আপনাকে ক্ষত-বিক্ষত করে দেবে ।আপনি জীবনে কোনদিন সুখী হবেন না ।যে অলীক সুখ ধরতে গিয়ে নিজের হাতে সত্যিকারে ভালোবাসা কে নষ্ট করেছেন তার অভিশাপ আপনাকে হাড়ে হাড়ে রাখবে ।ইতিমধ্যে মোহিনীর বাবা গঙ্গাজল নিয়ে উপস্থিত হন ।বাবাকে দেখে মোহিনী হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে।বেদনায় তার বুক চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় তবুও বাবা তার দিকে একবার ফিরেও তাকায় না ।মোহিনী ভাবে- যে বাবা তার চোখের জল এক ফোটা সহ্য করতে পারতেন না ,তিনি কীভাবে আমাকে কান্নারত অবস্থায় থেকে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন।বাবার গলার আওয়াজে মোহিনী ভাবনার জগত থেকে ফিরে আসে,মোহিনী তাকিয়ে দেখে তার বাবা তার মাকে জিজ্ঞেস করছে গঙ্গাজল কেন আনতে বললে ।মোহিনীর মা বলে -দেখতে পাচ্ছ না ভরদুপুরে গৃহস্থবাড়িতে একটা বেশ্যা উপস্থিত হয়েছে ,একে তাড়িয়ে দরজা লাগিয়ে গোটাবাড়িতে গঙ্গা জল দিয়ে ধুতে হবে সেইজন্য গঙ্গাজল আনতে বললাম ।নিজের স্বামী আর ছেলেকে চিবিয়ে খেয়েছে বেশ্যা।একে এখান থেকে দূর করে দাও ।আমার গোটা বাড়ি এবং আমি অপবিত্র হয়ে গেছি আমি স্নান করে আসি ।বলে তার মা সত্যি সত্যি বাথরুম থেকে জল ঢেলে চলে আসলো ।এমত অবস্থায় তার বাবা রুখ্য গলায় বলে উঠলো -ম্যাডাম আপনার অভিনয় শেষ হলে আপনি আপনার দালালকে নিয়ে বিদায় হন ।এই কথা শুনে মোহিনী ছুটে তার বাবাকে জাপটে ধরতে যাই ,কিন্তু তার আগেই তার বাবা গালে থাপ্পর মেরে ফেলে দেয় ।মোহিনী তাল সামলাতে না পেরে মাটিতে ছিটকে পড়ে ,ফলে তার ঠোঁট এবং মাথা ফেটে রক্ত নির্গত হয় ।এই দেখে অরবিন্দ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে মোহিনীর বাবার গলা চেপে ধরে ।তার বাবা বেদনায় ছটফট করল মোহিনীর দেখেও না দেখার ভান করে থাকে ।এমন অবস্থায় মোহিনীর মা রান্না ঘর থেকে বোটি নিয়ে তেরে এলে অরবিন্দ মোহিনীর বাবার গলা ছেড়ে দেয় ।এরপর মোহিনীর মা মনির উদ্দেশ্যে বলেন এর ফল আপনি খুব শীঘ্রই পাবেন ।আর একটা কথা শুনুন ম্যাডাম আমার মন বলছে আমার নাতি এখনো জীবিত আছে কারণ তার লাশ এখনো পাওয়া যায়নি ।ভগবানের কাছে পার্থনা করুন যাতে আমার নাতি বেঁচে না থাকে, যদি বেঁচে থাকে আপনার যে কি করুণ পরিস্থিতি করবে আপনি ভেবে ও পাবেন না ।একথা শুনে মোহিনীর মুখ শুকিয়ে গেলেও ঠোঁটে একটা রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল ।
এরপর মোহিনী কলকাতায় আরো দুদিন থাকলেও সে তার মা-বাবার দেখা পায়নি ।এমত অবস্থায় আমি মোহিনী আবার আমার কর্ম জগতে ফিরে আসি ।আর আমার প্রফেশনাল লাইফ,ক্লাব ,উইকেন্ড পার্টি,রেভপার্টি এগুলা নিয়ে প্রচন্ড পরিমাণ ব্যস্ত হয়ে পড়ি।বাবা-মার কথা প্রায় ভুলে যায় ।এই কলকাতায় যাওয়ার প্রায় সাত মাসের মাথায় আমার কাছে খবর আসে তারা নাকি কোথাও বেড়াতে যেয়ে প্রায় কুড়ি-পঁচিশ দিন ধরে মিসিং।পুলিশ তন্নতন্ন করে খুঁজেও তাদের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলনা।।।।।।
in present
পাশের ঘর থেকে আমার ডাক আসে ,আমি আসছি বলে আমার প্রসাধনী পুন্য করে সেই ঘরে যায় ।সেই ঘরে গিয়ে দেখি অলরেডি তাদের আসর জমে গেছে ,উপস্থিত প্রত্যেকের হাতেই একটি করে মদের গ্লাস শোভা পাচ্ছে ,সেখানে উপস্থিত ছিল-অরবিন্দ ,মিস্টার স্যাম মিরিন্ডা ,আমার বর্তমান ডাইরেক্রটর সাহেব আর আমার ড্রাইভার কম অরবিন্দর বন্ধু আকরাম ।।।।।।