মায়ের দ্বিতীয় সংসার - অধ্যায় ১৫
১৫ তম পর্বঃবাস থেকে নেমে হাওড়া স্টেশনে আসলাম।
ট্রেন নাকি দুই ঘণ্টা দেরী হবে। সুজয় কাকা তাদের বাসায় যেতে বলল। মা কে বলল চলো তোমার নতুন শশুর বাড়ী দেখে আসবে। মা ও খুব উত্তেজনা নিয়ে গেল।
বাসায় যেয়ে দেখলাম বিশাল বাসা। তাদের জয়েন্ট ফ্যামিলি। কেকে আছে সামনে জানতে পারবেন।
তো বাসায় শুধু সুজয় কাকার মা ও এক ভাবী ছিলেন। বাকি রা সুজয় কাকার ঐ মামার মৃত পরবর্তী অনুষ্ঠানে গেছে।
আমার মা বাসায় ঢুকে কাকার মা যিনি কিছু দিন পর আমার দিদা হবেন তাকে পা ছুঁয়ে প্রনাম করলো । মনে হয় সুজয় কাকা বাসায় সব বলেছে মায়ের ব্যাপারে। সুজয় কাকার মাকে দীদা বলে আমিও প্রনাম করলাম। সবাই মিলে বাসায় ঢুকতেই সুজয় কাকার ভাবী পিছনে সুজয় কাকা কে গুঁতো দিয়ে বলল( সুজয় কাকা একমাত্র সন্তান এটা উনার চাচাতো ভাবি)
- হুম দেওর ভালোই মাল পটিয়ে নিয়েছো দেখছি।
-দেখতে হবে না কার দেওর।
- এক ছেলের মা হলেও কচি ডবকা মাল, খেয়ে মজা পাবে।
আমি সব শুনতে পেলাম। হয়তো মা ও শুনতে পেল।
আমরা বেশীক্ষণ থাকবো না তাই মা কে বাসা ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে দেখাতে দেখাতে গল্প করতে লাগল।
দিদা- কি মা বাসা পছন্দ হয়?
মা- জী মা
চাচী-(সুজয় কাকার ভাবী)- বাড়ি পছন্দ,তো আমাদের সুজয় কে পছন্দ তো?
মা - লজ্জা পেয়ে
দীদা- আমাদের সুজয় কে কি তুমি সত্যি ভালোবাসো
মা- জী মা
চাচি- সুজয় কে বিয়ে করে এই ঘরে থাকতে হবে ,দেখে নাও। একটা ঘর দেখিয়ে।
মা নিজের হবু সামির ঘর দেখছে।
চাচি- ফিস ফিস করে কি
সুজয় কে নিয়ে এই ভেবে ঘুমোতে হবে।
মা - লজ্জায় লাল হয়ে যায়।
দিদা- জানো তো আমার সুজয় কুমার।
দিদা- বিয়ে টা কখন করতে চাও তোমরা।
মা- আপনারা আমার মা ভাইয়ের সাথে কথা বলে ঠিক করেন।
দিদা বলল ঠিক আছে। তোমার সব কাগজপত্র দিয়ে যাও এদেশের নাগরিকত্ব তো লাগবে। তোমার ছেলের ও দিও। সে ও থাকবে আমাদের সাথে।
মা ও খুশি হল খুব। আমরা সেখান থেকে বিদায় নিলাম। মায়ের মুখ দেখার জন্য দীদা একটা সোনার হার দিল মাকে।
আমরা ট্রেনে উঠলাম। বাইরে সিট হওয়ায় বেশি কিছু সুযোগ ছিল না মা ও সুজয় কাকার।
ও দিকে বাবার কফিন চলে গেছে বাংলাদেশে ,আমার কাকারা রিসিভ করবে আজ রাতে। আমরা কাল সকালে পৌছাবো। ট্রেন চলছে।
হঠাত ঝাকিতে ট্রেন থেমে গেল। এক মহিলা পাশে বসে আছে তার ছেলে আমার বয়সী্ । তাদের সাথে কথায় জানতে পারলাম যে তারা তার বাবাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছে।
আমি মন মনে ভাবলাম আর বললাম । আমার বুড়ো বাপকে ঠিক করতে নতুন বাবা পেলাম। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে ভাবলাম এর যুবতী মায়ের জন্য কোন নতুন বাবা অপেক্ষা করছে।
ভাবতে ভাবতেই ফোন বেজে উঠল। মা ভিডিও কল দিয়েছেন । সাথে সুজয় কাকা । মা সুন্দর করে সেজেছে। সুজয় কাকা ও পাঞ্জাবি পরেছে।
আজ কি যেন পুজো সামিরা পুজো শেষে সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিবেন। তাইতো বলি মায়ের সিঁথি ফাঁকা কেন। মা বলল - তোর আর কতক্ষন লাগবে।
আমি - আর ১.৫-২ ঘন্টা মত লাগবে মা।
সুজয় আব্বু- তাড়াতাড়ি আয় তোমার সামনে তোমার মা কে সিঁদুর পরিয়ে দিব্।
মা- ভালোমত দেখেশুনে আয়।
ফোন কেটে গেল। মায়ের খুশি দেখে নিজের খুব ভালো লাগছে।