মায়ের দ্বিতীয় সংসার - অধ্যায় ১৯
১৯তম পর্বঃউকিল আসল দুইদিন পর,সব মায়ের নামে স্থায়ী ভাবে সম্পত্তি হল। মা তাই বেজাই খুশি। আমায় বলল বিজয় আজ একটা ফোন কিনবো চল। আমি বললাম,তুমি ফোন দিয়ে কি করবে।
মা- তোর নতুন বাবার সাথে কথা বলব না। চল।
আম্মু কে ফোন কিনে দিলাম। দামি ফোন। মা কে সহজ ভাবে ইমু খুলে দিলাম। সুজয় কাকা কে ফোন দিয়ে কথা বলতে শুরু করল। সারাদিন ঘরে দরজা লাগিয়ে মা কাকার সাথে কথা বলতে লাগল। মা ফোনে লাইভ কাকাকে গোসল দেখাতে লাগল। পুরো উলঙ্গ হয়ে কয়দিন আগে বিধবা হওয়া আমার মা হিন্দু পরপুরুষের সামনে গোসল করছে,আর সে বসে দেখছে।
এভাবে চার দিন কেটে গেল। বাবার ইন্সুরেন্স এর পুরো দশ লাখ টাকা মা পেয়ে গেল। ত
সুজয় কাকা কে ফোন দিয়ে বিয়ে ঠিক করা হল ১৫ দিন পর। দেখতে দেখতে কখন যে দিন কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। জানাজানি হয়ে গেল যে মা আবার বিয়ে করতে যাচ্ছে। সবাই মাকে বিয়ে করতে নিষেধ করছে বাবার দিকের লোক জন । তবে নানা বাড়ির সবাই রাজী। মা বলে দিয়েছে সে বিয়ে করবেই।তো সবাই বলল স্বামী মরা একমাস ও হয় নি আর হিন্দু কে কেন বিয়ে করতে হবে, কোন মুসলিম পুরুষ পাইলি না। মা সাফ জানিয়ে দিল তার বিষয়ে কাওকে নাক গলানোর প্রয়োজন নেই। আরো বলেছে, তোমাদের ছেলে বেচে ছিল তখন তোমাদের বউ ছিলাম।এখন আমি তোমাদের কেউ না।
মায়ের ব্যাবহার দেখে সবাই অবাক।
সুজয় কাকার পরিবারের প্রায় সবাই আসল। আমাদের বাসায় তাদের থাকতে দিলাম। আর নানা বাসায় বিয়ের আয়োজন করা হলো। একদম হিন্দু মতে বিয়ে হবে। পুরোহিত ভারত থেকে আনা হয়েছে। হিন্দু বিয়ের পুরো রিতী রেওয়াজ মানা হলো কিছুই বাদ গেল না। কারন সুজয় কাকার পরিবার কঠোর হিন্দু। ধর্মের বাইরের কিছু করেন না। আর আমার নানার পরিবার তেমন ধর্ম পালন করে না। এক এক করে
১। পাকা দেখা বা পাটিপত্র
২। আইবুড়োভাত
৩। শাঁখা পলা পরা
৪। জল সইতে যাওয়া
৫। দধি মঙ্গল
৬। বৃদ্ধি পুজো
হলো।
তারপর হলুদ মাখানো পর্বঃ
সুজয় কাকার ভাবিরা তাজা হলুদ শিলে বেটে তার সঙ্গে সরষের তেল দিয়ে মেখে প্রথমে কাকার মা ও বিবাহিতা আত্মীয়রা এই হলুদ কাকাকে মাখায়।
হলুদ মাখাতে মাখাতে ভাবিরা বলে কি দেওরা মুসলিম মেয়ে কে পটিয়ে নিলা। বিয়ের পর তারাতাড়ি বাচ্চা নিয়ে নিবে যেন হিন্দু বাচ্চা নিয়ে হিন্দু হয়ে যায়।
জল সইতে গিয়ে যে ঘড়া করে জল আনা হয়েছিল সেটা দিয়ে কাকে স্নান করানো হল।
বেঁচে যাওয়া হলুদ রূপোর বাটিতে করে নানির বাড়ি নিয়ে গেল কাকার ভাবিরা ছ।মাকে গায়ে হলুদের শাড়ি পড়ানো হয়েছে।,ষ হলুদ আর সিঁদুর লাগানো গোটা একটা রুই মাছ এবং অন্যান্য উপহার নিয়ে এসেছে। মায়ের সারা শরীরে হলুদ মেখে মেখে ডলছে মামিরা। কিগো চাষের জমি দেখছি ফাঁকা রাখবে না। এক কৃষক মড়তেই আর এক কৃষককে জমি দিয়ে দিলে। জমির যত্ন নিতে পারবে তো।
আরএকজন বলল পারবে বলেই তো জমি দিচ্ছে।
এই বলে সবাই হাসি তামাশায় মেতে উঠে।
রাত আটটার সময় পুরোহিত বিয়ের মন্ডপে বসলো।
সুজয় কাকা বড় সেজে সুন্দর হয়ে বসে আছে ,মাকে পিড়িতে বসিয়ে আনা হলো। মায়ের পান পাতা দিয়ে মুখ ঢাকা আছে। মাকে বউয়ের সাজে অনেক সুন্দর লাগছে।
শুভ দৃষ্টি ও সাত পাক সম্পন্ন করে মা আগুনে খঈ দিচ্ছে আর সুজয় কাকা মায়ের পিছনে যেয়ে কুলা ধরে আছে।মঙগলসুত্র মায়ের গলায় পড়ানো হল।
চাল মাপার কৌটা দিয়ে মায়ের ফাকা সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিল।তখন সবাই উলু ও সাঙ বাজাতে বাজাতে ফুল দিতে লাগল। কি যে সুন্দর দৃশ্য। আমি সব ভিডিও করলাম। নিজের মায়ের বিয়ে কয়জন ছেলের দেখার সোভাগ্য হয়!!!
নিজের খুব ভালো লাগছে।
তারপর নানীর বাসায় বাসর রাত করার ব্যবস্থা করা হল।