ফাঁদ - এক নিষ্পাপ সতী গৃহবধূ - অধ্যায় ৭
পরের দিন খুব সকাল করেই রাজীব ঘুম থেকে উঠে পাশের বাজারটা থেকে কিছু নাস্তা কিনে বাড়ীতে ঢুকলো। ইরা নাস্তাগুলো টেবিলে রেডি করে দুইজন ব্রেকফাস্ট করতে লাগলো।
" ডারলিং বাজারে গিয়ে লতার স্বামীর সাথে দেখা হলো। লতা নাকি একটু পরেই অাসবে " ( নাস্তা খেতে খেতে রাজীব বলে উঠলো)
ইরা - এই লতাটা অাবার কে?
রাজীব - ওহ সরি তোমাকে তো বলতেই ভুলে গেছি। এখানে অাসার অাগে একটা কাজের মহিলা ঠিক করে রেখেছিলাম। তার নামই লতা।
ইরা - ওহ অাচ্ছা। তা সে কি ঘরের সব কাজকর্মই করে দিবে?
রাজীব - হ্যা তুমি তোমার ইচ্ছেমত কাজ করিয়ে নিও। কেননা ওকে শুধু অামার বাসার কাজের জন্যই রাখা হয়েছে। এর অাগে অারোও কয়েক বাড়ীতে কাজ করতো। তবে ওকে এখন অামি মোটা অংকের টাকা বেতনের কথা বলেছি যাতে ও শুধু এই বাড়ীতেই কাজ করে।
ইরা - তাহলে তো ভালোই হলো।
রাজীব - হ্যা একটু পরেই লতা অাসবে। ওকে নিয়ে বাজার থেকে তোমার প্রয়োজনীয় সব জিনিস কিনে নিও।
ইরা - ওকে ডারলিং
তারপর রাজীব নাস্তাটা সেরে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। ইরা তখন ছাঁদের উপর গেলো এটা দেখতে যে ওখানে কাপড় শুকানোর জন্য কোনো প্রকার দড়ি টাঙানো অাছে কিনা। ছাদের উপর উঠে ইরা দেখলো যে এখানে কয়েকটা দড়ি টাঙানো রয়েছে। ইরা তখন ভাবলো যাক বাবা কাপড় শুকানোর অার কোনো ঝামেলা থাকলো না। ছাদ থেকে নেমে এসে ইরা তার বেডরুমে বসে কাজের মেয়েটার অাসার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
ঠিক একটু পরেই ইরাদের নতুন বাড়ীর কলিংবেল টা বেজে উঠলো। ইরা রুম থেকে নিচে নেমে দরজাটা খুলেই দেখলো যে অানুমাণিক ৫৫ বছরের একজন বুড়ী মহিলা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অাছে।
" নমস্কার মালকিন। অামার নাম লতা। সাহেব নিশ্চয় অামার কথা বলেছে " (দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাটা বললো)
ইরা - ও হ্যা হ্যা ভিতরে এসো।
লতা তখন রুমের ভিতরে প্রবেশ করলো।
" অ্যা ছি ছি কত ময়লা জমে রয়েছে " (ভিতরে ঢুকেই লতা চারপাশের দেওয়ালের দিকে ইশারা করে কথাটা বললো)
ইরাও তখন ঘাড় ঘুরিয়ে দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখলো অনেক ময়লা জমে রয়েছে।
" অাসলে হয়েছেটা কি অামরা তো সবে কাল রাতে এখানে এসে পৌঁছেছি তাই পরিষ্কার করার সময় পায় নি" (ইরা বললো)
লতা - ছিঃ ছিঃ মালকিন তুমি কেনো পরিষ্কার করতে যাবে? অামি এসে গেছি তো। অামিই তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি দেরীতে অাসার জন্য। অামার অারোও অাগে এসে কাজকর্ম গুলো করা উচিত ছিলো।
লতার কথা শুনে ইরা খুব বেশী ইমপ্রেস হলো। কারণ এরকম নমনীয় কাজের মহিলা পাওয়া যে খুব দুষ্কর। শহরের বাড়ীতেও ইরা বেশ কিছু কাজের মহিলা রেখেছিল। কিন্তু তাদের ভিতর কেউ চুরি করে পালিয়েছে অাবার কেউ ইরার সাথে খারাপ ব্যাবহার করার জন্য বাদ পড়েছে। তবে অাজকে এই অল্পটুকু সময়েই লতার ব্যাবহার দেখে ইরা খুব খুশি হয়েছে।
" লতা দি ঘরগুলো পরিষ্কার করে কিন্তু একটু বাহিরে যেতে হবে রান্নাবান্নার অাইটেম কেনার জন্য" ( ইরা বললো)
ইরার মুখে লতা দি ডাক শুনে লতা চোখ দুটো ছলছল করতে লাগলো। লতার চোখ দেখে মনে হচ্ছে এখনই জল গড়িয়ে পড়বে।
" তুমি অামাকে লতা দি বলে ডাকলে?" ( দুই হাত জোড় করে লতা বলে উঠল)
ইরা - ওমা তোমাকে কি লতা দি ডাকতে পারি না?
লতা - না মানে এর অাগে যেসব মালকিনের কাছে কাজ করেছি তারা সবাই তুই তুই অার নাম ধরেই ডাকতো। ছোট জাত বলে কেউ সন্মান দিত না।
ইরা - দেখো অামাকে সবার সাথে মেলাতে যাবে না। তুমি অামার বয়সে বড় অার অামি জাত ফাতে বিশ্বাস করি না। অামরা সবাই মানুষ। তাই সবার নৈতিক দায়িত্ব মানুষ হিসেবে একটা মানুষকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসার চোখে দেখা।
লতা - তুমি মহান গো মালকিন। তোমার একটা ছবি দিও প্রতিদিন সকালে উঠে তোমার পূজো করবো।