তুমিই আমার মা.... - অধ্যায় ৫
পর্বঃ ০০৫
দিন পেরিয়ে মাস চলে গেছে। অর্নব একদম সুস্থ। এই এক মাসে গুটিকতক বন্ধুও করে ফেলেছে স্কুলে।
—-----------------
অর্নবকে স্কুলে দিয়ে আসার পর সুমিতা দরজাটা বন্ধ করে দিল। ঘর নিস্তব্ধ। দুপুরের রোদ্দুর বারান্দার সাদা দেওয়ালে এসে পড়ছে। শাড়ির আঁচলটা একটু গুছিয়ে সোফায় বসে ছিলো সে।
সারাদিনের কাজের হিসেব কষছিল মনে মনে—বাজারে যেতে হবে, রান্না হবে, আবার অর্নবকে আনতে হবে স্কুল থেকে।
কিন্তু আজ অদ্ভুত একটা অস্বস্তি ভর করেছিল বুকের ভেতর। সকালের ঘটনাটা মনে পড়ে যাচ্ছিল বারবার। স্কুলের গেটে দাঁড়ানো সেই লোকটার চোখদুটো। হ্যা, সেই লোকটা সুমিতা একমাস আগে একবার দেখার পর থেকে প্রতিদিন তাকে ফলো করছে।
অশ্লীল দৃষ্টি, লোভে ভরা চাহনি—আজও যেন তার গায়ে গায়ে লেগে আছে। ছেলেকে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিল সে, কিন্তু লোকটার চোখের দৃষ্টি সারা শরীর শিউরে তুলেছিল।
সুমিতা চেষ্টা করছিলো মনটা অন্য দিকে ফেরাতে। কিচেনে ঢুকে ডাল বসালো, ভাত চাপালো। কিন্তু হঠাৎই সে টের পেল—বাইরে কে যেন ওঁত পেতে দাঁড়িয়ে আছে। পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখা গেল, ঠিক সেই লোকটা! সকালের সেই চাহনি-ওয়ালা। বুক ধড়ফড় করে উঠলো।
তারপর—টকাস! একটা শব্দ। বুঝলো, দরজার কপাট কেউ ঠেলছে। সুমিতা ছুটে গিয়ে দরজা আঁকড়ে ধরলো, কিন্তু লোকটা অনেক জোরে ধাক্কা মারলো। কপাটটা কেঁপে উঠলো।
—“দরজা খোল! জানিস আমি কী চাই!” লোকটার কণ্ঠস্বর ভয়ঙ্কর।
সুমিতার বুকের ভেতর শ্বাস ওঠানামা করছে। সে চিৎকার করে উঠলো—
—“চলে যা! আমার ছেলে আসবে একটু পরেই, নাহলে আমি পুলিশ ডাকবো!”
কিন্তু লোকটার কোনো ভয় নেই। হঠাৎই আরেকটা জোরালো ধাক্কা, আর দরজা আধখোলা হয়ে গেল। সুমিতা পিছিয়ে গেলো, কিন্তু ততক্ষণে লোকটা ঘরে ঢুকে পড়েছে।
তার চোখদুটো লালচে, ঠোঁটে কুৎসিত হাসি।
—“পুলিশ ডাকবি? এর আগেই তোকে খেয়ে ফেলবো।”
সুমিতা চিৎকার করতে গেলো, কিন্তু লোকটা তার হাত চেপে ধরলো। ধস্তাধস্তি শুরু হলো। সুমিতা প্রাণপণে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে, শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে গেল, কপালে চুল এলোমেলো হয়ে ঝুলে পড়লো। তার বুক ধড়ফড় করছে ভয়ে।
লোকটা ফিসফিস করে বললো—
—“এত সুন্দর দেহ, এতদিন ধরে দেখছি। আজকে পেয়ে গেলাম।”
সুমিতা বুকের ভেতর থেকে তীব্র শক্তি নিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিলো। চিৎকার করতে গিয়েও আবার মুখ চেপে ধরা হলো।
এমন সময়েই—
টকাস!
দরজার ফাঁক দিয়ে ছোট্ট অর্নব ঢুকে পড়লো। স্কুল ব্যাগ ঝোলানো, গায়ে হালকা ঘাম। অদ্ভুত দৃশ্য দেখে প্রথমে কিছুই বুঝলো না। শুধু দেখলো—এক অপরিচিত লোক তার মাকে ধরে টানাটানি করছে।
—“মা!!”
চোখে আগুন জ্বলে উঠলো ছেলেটার। সে ছোট্ট হাতে একটা ইট তুলে নিলো, যা দরজার পাশেই পড়ে ছিল। কিছু না ভেবেই দৌড়ে এসে লোকটার মাথায় বাজির মতো আঘাত করলো।
ধপাস!
লোকটা ছেড়ে দিয়ে কুঁকড়ে গেলো। সুমিতা দম নিতে না পেরে এক কোণে হেলে পড়লো। কিন্তু লোকটা পুরো পড়ে যায়নি, আবার উঠে দাঁড়াতে চাইলো।
অর্নব এবার আরও জোরে চিৎকার করলো—
—“আমার মাকে ছেড়ে দেও!”
সে ঝাঁপিয়ে পড়লো লোকটার হাতে, দাঁত বসিয়ে দিলো। লোকটা হাউমাউ করে চিৎকার করলো, মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল ইতিমধ্যেই। কামড়ের ব্যথায় ছটফট করে দরজা ঠেলে পালিয়ে গেল।
ঘরে ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা। শুধু সুমিতার দম ফেলার শব্দ আর অর্নবের হাঁপ ধরা নিঃশ্বাস শোনা যাচ্ছিল।
সুমিতা ছুটে এসে ছেলেকে বুকে টেনে নিলো। তার চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে।
—“বাবা... আমার কলিজার টুকরো... আজ যদি তুই না থাকতিস...”
অর্নব কিছুই বুঝতে পারছিল না, শুধু আঁকড়ে ধরলো মায়ের গলা।
—“মা, তুমি কাঁদছো কেন? আমি তো আছি।”
সুমিতা ভাঙা গলায় বললো—
—“তুই-ই আমার রক্ষাকর্তা, বাবা। আজ তুই না থাকলে... আমি শেষ হয়ে যেতাম।”
সে বারবার ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো, নিজের বুকের কাছে শক্ত করে ধরে রাখলো। চোখের ভেতর কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা, ভয় আর একরাশ নিরাপত্তাহীনতা একসাথে জড়িয়ে গেল।
বাইরে তখনো দুপুরের রোদ। কিন্তু সুমিতার মনে হলো, আজ তার জীবন নতুন করে বেঁচে গেল। আর সবটাই সম্ভব হলো এই ছোট্ট ছেলেটার জন্য।
—---------------
সেদিন দুপুরটা যেন সুমিতার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়াল। অর্নবের স্কুল থেকে ফিরে আসা, তার চোখের সামনে ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখা, ছোট্ট হাত দিয়ে ইট তুলে লোকটার মাথায় আঘাত করা—সব মিলিয়ে ঘটনাটা সুমিতার বুক কেঁপে উঠতে বাধ্য করল।
লোকটা রক্তমাখা মাথা নিয়ে পালিয়ে গেলে, সুমিতা হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। বুকের মধ্যে অর্নবকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল।
— “বাবা, তুই না থাকলে আমি আজ শেষ হয়ে যেতাম… আমার জীবন শেষ হয়ে যেত।”
অর্নব কিছুই বোঝে না। তার ছোট্ট মাথায় কেবল ভয় আর মায়ের কান্না। সে মায়ের মুখে হাত রাখে, অদ্ভুত এক আন্তরিকতায় বলে—
— “কাঁদে না মা, আমি আছি তো।”
সুমিতা বুকের ভেতর ছেলেকে আরও শক্ত করে টেনে নেয়। যেন ভেতরে ভেতরে প্রতিজ্ঞা করল—এখন থেকে এই ছেলেই হবে তার শক্তি, তার বেঁচে থাকার কারণ।
---
ঘড়ির কাঁটা গড়াতে থাকে। সন্ধ্যার আগে সুমিতার স্বামী বাসায় ফিরল। সারাদিনের অফিসের ক্লান্তি, হাতে কাগজপত্র, চোখে হালকা বিরক্তি—কিন্তু ঢুকেই লক্ষ্য করল, বাড়ির পরিবেশ অন্যরকম।
অর্নব তার চিরচেনা চঞ্চলতা হারিয়েছে। মায়ের আঁচল আঁকড়ে ধরে বসে আছে। আর সুমিতার মুখটা অদ্ভুত ফ্যাকাশে।
— “কি হয়েছে? তোমাদের দুজনের চেহারা এমন কেন?”
সুমিতা এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। নিজের ভেতরের ভয়টা কাউকে বলার মতো সাহস হচ্ছিল না। কিন্তু ঠিক তখনই অর্নব সরল স্বরে বলে ফেলে—
— “বাবা, এক লোক এসেছিল। মা’কে জোর করে মারছিলো। আমি ইট মেরেছি, কামড়াইছি।”
সে বোঝেও না যে লোকটা আসলেই কি করতে এসেছিলো ** বছরের একটা বাচ্চা এটা বোঝেই বা কি করে। তার কাছে এটা মারতে আসায়।
কথাটা শুনে স্বামী চমকে উঠে সুমিতার দিকে তাকায়।
— “কি বলছে ও? সত্যি?”
সুমিতার চোখ ভিজে উঠল। ঠোঁট কাঁপতে লাগল।
— “হ্যাঁ… সত্যি। আমি কিছু বলিনি তোমাকে। ভেবেছিলাম—তুমি তো বাইরে থাকো, কার কাছে বলব? কাকে ভরসা করব?”
স্বামী কিছুক্ষণ নির্বাক দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখেমুখে ধরা পড়ল গভীর অপরাধবোধ। মনে হলো হঠাৎ করেই নিজের দায়িত্বহীনতার বোঝা বুকের ওপর চেপে বসেছে।
---
সেদিন রাতে খাবার টেবিলে নীরবতা নেমে এল। অর্নব গা এলিয়ে মায়ের কোলেই খাচ্ছিল। অর্জুন তাকিয়ে রইল—স্ত্রী আর ছেলের এই অদ্ভুত বন্ধনটা আগেও দেখেছে, কিন্তু আজ যেন অন্যরকম।
খাওয়া শেষে অর্নব ঘুমিয়ে গেলে স্বামী চুপ করে বসে থেকে বলল—
— “আমারই দোষ। আমি তোমার পাশে থাকিনি। প্রতিদিন শুধু অফিস, টাকা, হিসেব—আর তুমি একা।”
সুমিতা গলা শুকিয়ে বলল—
— “অন্যায় বলছো না। কিন্তু ওই মুহূর্তে যদি অর্নব না থাকত, আমি শেষ হয়ে যেতাম। জানো, আজ আমার ইজ্জত, আমার জীবন—সবকিছু এই ছেলেটার জন্যই বেঁচে গেছে।”
স্বামী মাথা নিচু করল।
— “আমি বুঝিনি, তুমি কতটা ভেতরে ভেতরে একা হয়ে গেছো।”
সুমিতা চুপ করে থাকল। মনের ভেতরে স্বামীর প্রতি অভিমান জমেছে, তবে সেই অভিমানের সঙ্গে মিশে আছে অপরিসীম কৃতজ্ঞতা অর্নবের প্রতি।
---
রাতে ঘুমোতে গিয়ে অর্নব মাকে জড়িয়ে ধরলো। আধো ঘুমে বারবার মাকে জড়িয়ে ধরছিল। সুমিতা চোখ ভেজাচ্ছিল নিঃশব্দে। ছোট্ট ছেলের এই সরল টান তার ভেতরে মা হওয়ার নতুন এক অনুভূতি জাগিয়ে তুলছিল।
অর্নব হঠাৎ ফিসফিস করে বলে—
— “মা, তুমি ভয় পেয়ো না। আমি আছি। কেউ তোমাকে মারতে পারবে না।”
সুমিতার বুক ভরে গেল। সে ছেলেকে আরও কাছে টেনে নিয়ে বলল—
— “তুই আমার সবকিছু, সোনা।
সে ছেলের কানে ফিসফিস করে বলল—
— “তুই আমার ছেলে অর্নব, তুই আমার ভরসা, আমার প্রাণ।”
অর্নব আধো ঘুমে মাকে জড়িয়ে ধরল।
---
পরের কয়েকদিন অর্জুন চেষ্টা করল সুমিতার পাশে থাকার। কিন্তু অফিসের চাপ আর নিজের ভেতরের অপরাধবোধ তাকে অস্থির করে রাখল। সুমিতা যদিও বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক থাকার ভান করল, তবু ভেতরে ভেতরে বুঝতে পারল—সে এখন আর পুরোপুরি অর্জুনের উপর নির্ভর করতে পারছে না।
অন্যদিকে, অর্নব দিন দিন মায়ের প্রতি আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠল। তার সরল মনে একটা বিশ্বাস জন্মে গেছে—মাকে রক্ষা করা তার দায়িত্ব।
একদিন বিকেলে সুমিতা জানলার পাশে বসে ছিল। হঠাৎ অর্নব দৌড়ে এসে মায়ের কোলে বসে বলল—
— “মা, তুমি জানো আমি সুপারহিরো?”
সুমিতা মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল—
— “কেন রে?”
অর্নব গর্বভরে বলল—
— “কারণ আমি খারাপ লোক মারতে পারি। আমি তোমাকে বাচিয়েছি।”
—--------------
অর্নবের বয়স এখন **। ছোট্ট শরীরটা প্রতিদিন স্কুলে যেতে যেতে ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করেছে। হাতে খাতা, কাঁধে ছোট ব্যাগ, গায়ে ঝকঝকে নীল-সাদা পোশাক—সবই যেনো সুমিতার বুকের ভেতর আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। প্রথম দিন যখন স্কুলে দিয়েছিল, তখন বুকের ভেতরে কেমন একটা শূন্যতা নেমে এসেছিল তার। যেনো প্রতিদিন যে ছেলেটা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘরের ভেতর দৌড়ে বেড়াতো, এখন সে স্কুলে থাকে সারা বেলা।
তবুও মায়ের বুকের ভেতর গোপনে একরকম গর্বও জন্ম নেয়। ছেলে ধীরে ধীরে মানুষের মতো মানুষ হচ্ছে, একদিন বড় হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, সংসারে চাপা অশান্তি অনেকদিন ধরেই লেগে আছে। অর্জুন প্রতিদিন কাজে বেরোয়, রাত করে ঘরে ফেরা। মুখ গোমড়া, চেহারায় ক্লান্তি আর বিরক্তি একসাথে জমে থাকে। সংসারের টানাপোড়েন, অল্প আয়, আর শহরে বাস—সবকিছু মিলিয়ে সে ক্রমেই একরকম উদাস হয়ে যাচ্ছে।
অর্নব বোঝে না এসব। সে তো এখনো বাচ্চা।
এই নীরবতা অর্নব বুঝতে না পারলেও অনুভব করতে পারে। মাঝে মাঝে মায়ের পাশে এসে বসে থাকে, যেনো নীরব মায়ের চোখের ভেতর সান্ত্বনা খুঁজতে চায়। সুমিতা তখন ছেলেকে বুকের সঙ্গে টেনে নেয়, চুলে হাত বুলিয়ে দেয়। মনে হয়, এই ছেলেই যেনো তার প্রকৃত আশ্রয়।
একদিন স্কুল থেকে ফিরে অর্নব মাকে বললো,
—‘মা, আজ টিচার বললো, আমরা যখন বড় হবো তখন সবাই কাজ করবো, টাকা আয় করবো।’
সুমিতা হেসে জিজ্ঞেস করলো,
—‘তুই বড় হয়ে কী হবি?’
অর্নব একটুখানি ভেবে বললো,
—‘আমি বড় হয়ে তোমার জন্য অনেক বড় একটা বাড়ি বানাবো। তোমার জন্য আলাদা একটা ঘর থাকবে, যেখানে তুমি আরাম করে শুয়ে থাকবা।’
কথাগুলো শুনে সুমিতার বুক কেঁপে ওঠে। তার চোখ ভিজে আসে অজান্তেই। এত ছোটো ছেলে, অথচ এতটুকু বোঝে। সে মুচকি হেসে শুধু ছেলেকে বুকে টেনে নেয়।
অন্যদিকে, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। সবকিছুই সুমিতাকে একা করে দিচ্ছে। রাতে শোবার ঘরে শুয়ে থাকে দু’জন, অথচ মনে হয় তারা আলাদা জগতে। আগে যেমন গল্প হতো, হাসি-ঠাট্টা হতো, এখন আর নেই।
সুমিতা প্রায়ই ভাবে—যদি এই ছেলেটা না থাকতো, তবে হয়তো তার জীবন আরও নির্জন হয়ে যেতো। কিন্তু অর্নব আছে বলেই জীবন এখনও টেনে নেওয়া যায়। তার হাসি, তার কৌতূহল, তার ছোট্ট ছোট্ট প্রশ্নগুলো সুমিতার বুকের ভেতর আলো জ্বালায়।
অর্নব এখন স্কুল থেকে ফিরে মাঝে মাঝে পড়তে বসে, আবার কখনো খেলার ছলে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখে। মা পাশে বসে থাকে, কখনো পড়াশোনা দেখায়, কখনো খেলার ছলে গল্প বলে।
একদিন সন্ধ্যার পর অর্নব মাকে বললো,
—‘মা, তুমি জানো, আমি স্কুলে সবার থেকে দ্রুত দৌড়াতে পারি।’
—‘তাই নাকি?’ সুমিতা মজা করে জিজ্ঞেস করলো।
—‘হ্যাঁ, আজ ফিল্ডে সবাই দৌড় দিয়েছিল। আমি প্রথম হয়েছি।’
ছেলের চোখেমুখে তখন এমন উচ্ছ্বাস যে সুমিতার মন ভরে যায়। সে আলতো করে ছেলের মাথায় হাত রাখে—‘আমার সোনা যে একদিন সবার সেরা হবে।’
—----------------
রাতের খাবারের টেবিলে নীরবতা নেমে আসে প্রায়ই। অর্নব মাঝখানে বসে দুই দিকে তাকায়। বাবার মন খারাপ, মায়ের চোখে ক্লান্তি। সে নিজের ছোট্ট কণ্ঠে নানা প্রশ্ন করে মা-বাবাকে, যেনো এই নীরবতা ভাঙতে চায়।
একদিন খাওয়ার সময় অর্নব হঠাৎ বললো,
—‘মা, আমি বড় হলে তোমাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাবো।’
অর্জুন অবাক হয়ে তাকালো ছেলের দিকে, কিন্তু কোনো কথা বললো না। শুধু একরকম হালকা হাসি নিয়ে খাবার খেতে লাগলো। ছেলে যে মাকেই ঘুরতে নিয়ে যাবে, তাকে নিয়ে যাবেনা এতে তার কোনো দুঃখ নেই।
সুমিতা এসব মুহূর্তে চুপচাপ থাকে, কিন্তু বুকের ভেতরে অনেক কিছু জমে যায়। রাত হলে ছেলেকে পাশে শুইয়ে দিয়ে যখন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, তখন মনে হয়—এই ছেলেই তার জীবনের আসল শক্তি। স্বামী যদি ধীরে ধীরে হারিয়েও যায়, যদি সংসারে ভালোবাসার অভাব বাড়তেই থাকে, তবু অর্নব আছে বলেই সে বেঁচে থাকবে।
** বছরের ছোট্ট অর্নব তখন কিছুই বুঝতে পারে না। শুধু মায়ের বুকের ভেতর ঘুমিয়ে পড়ে, আর স্বপ্ন দেখে—একদিন সে সত্যিই মাকে বড় একটা বাড়ি বানিয়ে দেবে।
এভাবেই সময় ধীরে ধীরে গড়িয়ে চলে। অর্নব প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হচ্ছে, আর সুমিতা প্রতিদিন একটু একটু করে উপলব্ধি করছে—তার জীবনের আলো এই ছেলেই।
—-----------------
অনেক অনেক দূরে,
বিছানায় অনেক ময়লা। সিলিং এ একটা ছোট ফ্যান ঘুরছে। মনের মধ্যে অস্থীরতা নিয়ে একজন ৭০ বছরে নারী অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছে।
মহিলা ১ঃ আমাকে সত্যিটা জানাতেই হবে।
মহিলা ২ঃ কিন্তু তুমি তাদেরকে চিনবে কিভাবে, তারা কোথায় থাকে তাও তো জানো না মা।
মহিলা ১ঃ আমাকে জানতেই হবে। এই চরম সত্যটা না বলে মরলে যে আমি শান্তি পাবো না। ঈশ্বর আমাকে হয়তো এই সত্যটা জানানোর জন্যই বাচিয়ে রেখেছে। আমাকে জানাতেই হবে, না হলে মা কখনোও তার ছেলেকেই দেখতে পাবেনা, ছেলে মাকে দেখবেনা। এতো বড় ভুলের সমাধান শুধু আমাকেই করতে হবে।
ক্রমশ......
একটু ধীরে যৌনতা আনবো যাতে গল্পের একটা যুক্তি থাকে। ধর তকতা মার পেরেক টাইপ গল্প পড়িওনা, লিখতেও ভালো লাগেনা।