যেমন করে চাই তুমি তাই/কামদেব - অধ্যায় ১৬

🔗 Original Chapter Link: https://xforum.live/threads/যেমন-করে-চাই-তুমি-তাই-কামদেব.34872/post-2590548

🕰️ Posted on Fri Feb 19 2021 by ✍️ kumdev (Profile)

🏷️ Tags:
📖 754 words / 3 min read

Parent
।।১৬।। রিক্সা ছুটে চলেছে। বলদেব ভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?এক টাকায় তো এতটা পথ নিয়ে যাবার কথা না। তারে কোন বিপদে ফেলতে চায়না তো?একবার জিজ্ঞেস করে দেখবে কিনা ভাবতেই লোকটি বলল, ভাই দারোগাবাড়িতে কে আছে আপনার? --কেউ নাই।আমারে একজন পাঠাইছে।আচ্ছা একটাকায় কতদুর নিয়া যাইবেন? --টাকার কথা বাদ দেন। আপনারে আমার ভাল লাগছে। বিশ বছার রিক্সা চালাই কতরকম মানুষ দেখলাম।ভদ্র অভদ্দর কিন্তু আপনে মানুষটা একেবারে আলাদা। --সেইটা আপনের ব্যক্তিগত ব্যাপার।আপনে আমারে নামিয়ে দেন। বাকিটুক আমি হেটে যেতে পারবো। --তা পারবেন আমি জানি।তখন থিকে আপনে আমারে ভাই-ভাই করতেছেন। একটা ন্যয্য কথা বলি, স্টেশন থেকে দারোগা বাড়ি দশ টাকা ভাড়া।আপনি আমারে পাঁচ টাকা দিয়েন।বেশি বললাম? বলদেব বুঝতে পারে লোকটি নাছোড় বান্দা। বরং অন্য আলাপ করা যাক। রিক্সা পাড়ার মধ্যে ঢুকছে।সারি সারি পাকা বাড়ি পরস্পর গা ঘেষাঘিষি করে দাঁড়িয়ে।স্টেশন থেকে দূর কম নয়। --কি ভাই চুপ মাইরা গেলেন,রাগ করছেন?রিক্সাওলা জিজ্ঞেস করে। --না না রাগ করিনাই। রিক্সা চালাইতে চালাইতে কথা বললে কষ্ট হয় তাই--। --সেই কথাটা মাইনষে বোঝেনা। রিক্সায় উইঠা খালি ধানাই-পানাই কথা।কিন্তু আপনের সাথে কথা বলতে ভাল লাগে। --বাড়িতে খাওনের মানুষ কয়জন? --একজন।আমার পরিবার।মাঝে মাঝে তার মায়ে এসে থাকে। --ভাই মনটা খারাপ হইয়া গেল।ছাওয়াল পাওয়াল নাই? --আপনে ভাল মানুষ তাই আমার জন্যি আপনের মন খারাপ। --তুমি যদি পাওনের আশা নিয়া কিছু করো তাইলে পাইবা দুঃখু। --হেইটা এক্কেবারে খাটি কথা কইছেন।আমার বিবি কয় আর একখান সাদি করেন। --করবেন নিকি? --সেইটা আমার পছন্দ হয়না।ঐসব বড় মানুষের ব্যাপার,তাদের ট্যাকা খাওনের লোক নাই। এই এসে পড়ল দারোগাবাড়ি।আপনি বসেন, আমি দেখতেছি। রিক্সা থেকে নেমে এগিয়ে গিয়ে রিক্সাওলা ডাকাডাকি শুরু করে।দোতলা বাড়ি অনেকটা জায়গা নিয়ে একেবারে রাস্তার মোড়ে পিছনে একটু বাগান মত। একটা ছেলে বেরিয়ে আসতে রিক্সাওলা বলে, মেহমান আসছে। রিক্সাওলার কথায় লজ্জা পায় বলদেব।রিক্সা থেকে নেমে এগিয়ে গিয়ে নমস্কার করে।তারপর জয়নাল দারোগার চিঠীটা এগিয়ে দিল।ছেলেটি উল্টেপাল্টে দেখে দাড়াতে বলে ভিতরে চলে যায়।কিছুক্ষন পর ফিরে এসে বলে, আপনি উপরে যান। ছেলেটির নাম সায়েদ কলেজ চলে গেল।বলদেব রিক্সাওলার দিকে তাকাতে সে ইশারা করে উপরে উঠতে ইঙ্গিত করল।দোতলায় উঠে কিছুটা এগিয়ে বাদিকে একটি ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে উকি দিল। সোফায় একজন বয়স্কা মহিলা বসে আছেন ফর্সা 'মা-মা' চেহারা।হাতে সম্ভবত বলদেবের দেওয়া চিঠি।বলদেবকে দেখে চোখ মুছে বললেন,আসো। মহিলা সম্ভবত কাঁদছিলেন,বলদেব ঘরে ঢুকতে বললেন, তুমি জয়ের কাছ থেকে আসছো? --জ্বি,দারোগা সাহেব। --এখন বুঝতে পারছি ঠাকুর-পো খবর পায় নাই।যারে লিখেছে সে তার বড়ভাই আর দুনিয়ায় নাই।তোমার নাম বলদা? --জ্বি। --জয় বলেছে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে।একটু ভেবে বলদেবের দিকে তাকিয়ে বললেন, থাকার একটা ব্যবস্থা না হয় হল কিন্তু খাওয়া--?তুমি তো হিন্দু? বলদেব নীচু হয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে।হিন্দুদের এই প্রণাম ব্যাপারটা রহিমা বেগমের বেশ পছন্দ।সঙ্কুচিতভাবে বলেন, করো কি আমরা--। --আপনে তো মা।বলদেব বলে। মা কথায় রহিমা বেগম বিচলিত বোধ করেন।চোখে মায়া ছলকে ওঠে বলেন,সারাদিন কিছু খাইছ? --দিলে খাই। খিলখিল করে হেসে ফেলেন রহিমা ,জিজ্ঞেস করেন, আমাদের ছোয়া খাবে? এমন সময় ছেলে নিয়ে মুমতাজ ঘরে ঢোকে।কি বলতে যাচ্ছিল আগন্তুককে দেখে থমকে দাঁড়ায়। --বউমা কিছু বলবে? --মনু স্কুলে শাস্তি পাইছে, অঙ্ক পারে নাই।সায়েদমিঞারে বলি দেখতে তার সময় হয়না। --এ আমাদের এখানে থাকবে।তুমি কিছু নাস্তাপানির ব্যবস্থা করো।বেচারির মুখ শুকায়ে গেছে। মুমতাজ ছেলে নিয়ে ভিতরে চলে যেতে রহিমা বেগম জিজ্ঞেস করেন,এইখানে কি জন্য আসছো? --বদলি হয়ে এসেছি।এইখানে আমার অফিস। --কিছু মনে কোরনা--লেখাপড়া কতদুর করেছো? --জ্বি মেট্রিক পাস। --আমার নাতিরে দেখলে? ক্লাস টু-তে পড়ে।তুমি ওরে পড়াইতে পারবে? --জ্বি।আম্মু আমি রিক্সাওলারে ভাড়া দিয়ে আসি? --বাইরে দাড়া করায়ে রেখেছো?যাও-যাও দেখো সে আবার কি করতেছে--। রিক্সায় পায়ের উপর পা তুলে বসে বিড়ি টানছিল লোকটা,বলদেব জিজ্ঞেস করে, ভাই আপনের নামটা বলবেন? --নাম বলতে শরম করে। --কেন শরমের কি আছে? তুমি নিজে তো আর নাম রাখোনি। তাছাড়া নামে কি এসে যায়,কামই মানুষের পরিচয়। রিক্সাওলা মৃদু স্বরে বলে,নাম দিছিল আমার দাদিজান মুজিবুর। --আমার নাম বলদেব।তোমারে পুরা দশ টাকাই দিলাম।অনেক টাইম নষ্ট করেছি।মুজিবুর ভাই মনে কিছু করলে নাতো? মুজিবুর ঠোট প্রসারিত করে হাসল তারপর প্যাডেলে চাপ দিল। বলদেব উপরে উঠে আসতে মুমতাজ বেগম মুড়ির বাটি এগিয়ে দিতে গোগ্রাসে খেতে থাকে বলদেব।মুমতাজ অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে ভবে ছেলেটা কে,কেনইবা এত খাতির যত্ন।রহিমা বেগম বলেন, বৌমা ও হল বলদা--। --জ্বি পুরা নাম বলদেব। --বলদেব কাল থেকে মনুরে অঙ্ক করাবে।তোমার আর কাউরে সাধাসাধি করার দরকার নাই।বলদেবকে জিজ্ঞেস করেন, আজ তো তুমি অফিস যাবেনা? --জ্বি না, কাল থেকে যাবো। --দেখো ঘর সব ভাড়া দিয়ে ফেলেছি।নীচে পিছনে একটা ঘর আছে একটু সাফা করে নিতে হবে।খাওয়া হলে আসো তোমারে দেখিয়ে দেবো। খাওয়ার পর বলদেব ঘর দেখতে নীচে যায়। ঘরটি ভাঙ্গাচোরা আসবাবে ভর্তি।বলদেব খুব খুশি। --মা এই জিনিসগুলো কোথায় রাখবো? --ঘর থেকে বের করে এখন বাইরে রাখো। বলদেবের আস্তানা ঠিক হয়ে গেল। সারাদিন তার কেটে গেল সাফসুরোত করতে,তারপর গোসল করে একেবারে তরতাজা হয়ে উঠল।ঘরে একটা পায়া ভাঙ্গা চৌকি ছিল সেইটা ইটের ঠেকনা দিয়ে সুন্দর বিছানা করা হল।খাওয়া-দাওয়ার পর টানা ঘুম। অফিস থেকে ফিরে মার কাছে সব শুনে নীচে এসে দুলুমিঞা জানলা দিয়ে একবার উকি দিয়ে গেল।জয় আঙ্কেল যখন পাঠিয়েছেন তখন লোক খারাপ হবেনা।মায়ে বলছিল মনুরে পড়াইবে।যাক একটা চিন্তা গেল।
Parent