চাকরী নিয়োগ পেয়ে - অধ্যায় ৬৮
খাওয়ার পর ঘুম ছুটে গেল রীতার।
আমি, মা, রীতা বসে আছি।
মা: হ্যাঁরে তোর লজ্জা করেনা।
রীতা: কেন?
মা: এইভাবে ল্যাংটো হয়ে বসে আছিস।
রীতা: তোমাদের কাছে লজ্জা আবার কি?
মা দেখলাম একটু সিরিয়াস হল।
মা: অনি
আমি: হ্যাঁ
মা: আশা করি তোর আপত্তি নেই।
আমি: কি ব্যাপারে?
মা: আমি যাকে ঠিক করব তাকে বিয়ে করতে?
আমি: না।
মা কোথায় উঠে গেল।
আমি: কোথায় যাচ্ছ?
মা দেখলাম প্রচণ্ড সিরিয়াস।
মা: আসছি।
রীতা: কি ব্যাপার অনিত। আন্টি কি কোন মেয়ে ঠিক করেছে তোমার সাথে বিয়ের জন্য।
আমি: জানিনা তো।
মা একটা ব্রাউন পেপার খাম নিয়ে এল।
মা খামটা আমার হাতে দিল।
আমি: কি এটা।
মা: এখানে আসবার সময় আমি পাঁচটা ছবি এনেছিলাম। তোর বিয়ের জন্য। খামে আছে দ্যাখ।
দেখে বলবি কোনটা পছন্দ। তোর দেখা হলে রীতাকে দেখাবি।
রীতার দেখলাম মুখ শুকিয়ে গেছে। অবাক হয়ে মার দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিল।
আমি খাম খুলে ছবি বের করলাম। মায়ের দুষ্টুমি দেখে মনে মনে হাসলাম কিন্তু ইচ্ছা করেই গম্ভীর হয়ে ছবিগুলো দেখতে লাগলাম। সবকটা রীতার ছবি। সম্ভবত মা প্রিন্ট করিয়েছে।
দেখে খামে ভরলাম।
রীতার দেখলাম মুখটা কালো হয়ে গেছে।
মা: কোন ছবিটা পছন্দ?
আমি: পাঁচটা ছবি ই তো পছন্দ। যে কোন একজনকে বিয়ে করতে পারি।
রীতা কি রকম যেন অসহায়ের মত তাকিয়ে।
মা: রীতাকে দে। ও দেখে বলুক।
রীতা: তুমি তো দেখেছো। আন্টিকে দাও। আন্টির যাকে পছন্দ।
কোনরকমে কথাগূলো বলল রীতা।
রীতা: না আন্টি তুমি দেখ।
মা ছবিগুলো উল্টো করে রীতার সামনে রাখল।
মা: শোন রীতা। সবকটা ছবির মেয়েই সুন্দরী। পেত্নি বা শাঁকচুন্নী নয়। তুই যেটা তুলবি অনির বিয়ে তার সাথেই দেবো।
রীতা দাঁতে দাঁত চেপে বসে আছে।
মা: কি রে তুলে আমাকে দে।
রীতার চোখ ছলছল করছে। রীতা কোনরকমে একটা ছবি তুলে মার হাতে দিল। দেখলো না। মা ছবিটা হাতে নিয়ে নিল।
মা: ছবিটা দ্যাখ। অনি তোর বন্ধু না। তার সাথে কার বিয়ে হবে দ্যাখ।
মা ছবিটা রীতার হাতে দিল। রীতা ছবিটা দেখে অবাক। তার নিজের ছবি।
মা: এবার বাকি গুলো দ্যাখ।
বাকি চারটেতে নিজেকে দেখে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল রীতা। মা ওর ল্যাংটো শরীরটাকে জড়িয়ে ধরল।
মা: ভাবলি কি করে যে আমি আমার এই ভূত ছেলের বিয়ে শাঁকচুন্নী ছাড়া আর কারোর সাথে দেবো।
রীতা(কান্না জড়ানো গলায়): আমাকে কোনদিন তাড়িয়ে দেবে না তো। আমার আর কেউ নেই।
মা: মা রে তুই আমার ঘরের লক্ষী। তোকে আমি বেঁধে রেখে দেবো। কোথাও যেতে দেবো না।
ডুকরে কেঁদে উঠল রীতা।
মা ওকে চেপে ধরল।
মা: আমার শাঁকচুন্নী।