ঝলমলা - অধ্যায় ২
অধ্যায় ১১৯৭২ সাল চাঁদপুর গ্রাম, সূত্রপাতের ২২ বছর পর
ওরে বাবারে! আমি জানতাম না যে আজ কবিরাজমশাই বাড়ি থেকে আসতে আসতে এত দেরী হয়ে যাবে| এইতো আজ সকাল থেকে এতো বৃষ্টি তারপর একটু বৃষ্টি থামতেই আমি যখন বের হলাম তখন গিয়ে দেখি যে কবিরাজমশাই এর বাড়িতে রোগীদের এত ভিড়|
আমার পালা আস্তে আস্তে বিকেল পেরিয়ে সূর্য ডুবে সন্ধ্যা হয়ে গেছে| তাই কবিরাজমশাইএর ঔষধগুলি আমি একটা পুটলিতে বাহাতে নিজের বুকের কাছে শক্ত করে ধরে আর ডান হাতে রাস্তার জল কাদা এড়ানোর জন্য নিজের শাড়িটা একটু উপরে তুলে হতে পারি তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে হাঁটতে আরম্ভ করলাম|
বাড়ি থেকে যখন আমি বেরিয়ে ছিলাম তখন থেকেই আকাশ তাম থম- থম করছিল আর মনে হচ্ছিল যেন থেকে থেকে মেঘগুলো গর্জন করে বারবার আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে নিজের ছায়া মাসির বারবার বলা সত্ত্বেও আমি ছাতা আনতে ভুলে গেছি|
আমার ছায়া মাসি অনেকদিন ধরেই বাতের ব্যথায় ভুগছেন; আর যাই হোক না কেন আমি এখন তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছতে পারলে বাঁচি|
কিন্তু আমার কপালটাই খারাপ! রাস্তায় মিনিট পাঁচেক হাঁটার পরে একেবারে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো আর নিমেষের মধ্যে আমি পুরো ভিজে জাব হয়ে গেলাম|
আমার খোপায় বাধা চুল পুরো জল ধরে গেল আর আমার পরনের শাড়ি ব্লাউজ আমার গায়ে একেবারে সেঁটে গেল| ভাগ্য ভালো যে বৃষ্টির জন্য আজ বাজারে বেশি লোক ছিল না দোকানের ভেতরে দোকানদাররাই বসেছিল| একবার আমার মনে হল যে আমি বাজারের মুদিখানার ছায়ার তলে একটু দাঁড়িয়ে বৃষ্টিটা একটু কমলে আবার রাস্তায় রওনা দেব কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে দোকানের ভেতরে কর্মচারীরা ইতিমধ্যে আমাকে ড্যাবড্যাব করে দেখছে তাই আমি রাস্তা দিয়েই আরো দ্রুতগতিতে হাটা শুরু করলাম|
ছায়া মাসি ঠিকই বলেছিলেন আমি এখন বড় হয়ে গেছি। আমাকে একটু সাবধানে থাকতে হবে, আমি আর কচি খুকি নই, আমি শাড়ি পরতে শুরু করেছি| আর সবাই বলে আমাকে দেখতে নাকি পরমাসুন্দরী আর হাঁটাচলা করলে আমার সুডৌল স্তন জোড়া প্রতিটি পদক্ষেপে কাঁপে...
আমার বান্ধবীরা ইয়ার্কি করে আমার নাম রেখেছে ভরাট ভরাট বুকি নধর পাছা ঝুমা, আসলে আমার ভালো নামটা আমার ছায়া মাসির এক চেনাশোনা কোন পূজারিনির দেওয়া- স্কুলের খাতায় আমার নাম লেখানো হয়েছে আরাত্রিকা বকশী...
আর ছায়া মাসির কথা অনুযায়ী আজকে সেই তান্ত্রিক পূজারিণী মহিলা আমাদের বাড়ি আসবেন বলেছিলেন... আশা করি আমি উনার বাড়ি আসার আগেই তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাব|
ক্রমশ: