onno rokom vai bon - অধ্যায় ১০
অগত্যা, দরজার দিকেই এগিয়ে গেলো সুমন। ঘরে ঢুকতেই মায়া বললো, বলটা খোঁজতে এলে না কেনো?
সুমন কিছুই বললো না। মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। মায়া সুমনের থুতনিটা ধরে, মুখটা উপরে তুলে বললো,আমার উপর রাগ করে আছো?
সুমন উপর নীচ মাথা নেড়ে হ্যা বোধক উত্তরই বুঝালো।
মায়া খিল খিল করে হাসতে হাসতেই বললো, কেনো?
সুমন কিছু বলতে পারলো না। চুপ চাপ দাঁড়িয়ে রইলো শুধু। মায়া আবারও বললো, তোমার নুনুটা ধরেছি বলে?
সুমন না বোধক মাথা নাড়লো।
মায়া অবাক গলাতেই বললো, তাহলে কেনো? আমি তোমার সামনে ন্যাংটু বলে?
সুমন আবারও না বোধক মাথা নাড়লো। মায়া আবারও অবাক হয়ে বললো, তাহলে কেনো?
সুমন তখনও কিছু বলতে পারলো না। মায়া খানিকটা অভিমানী গলাতেই বললো, তুমি কথা না বললে কিন্তু,সত্যিই রাগ করবো আমি। আর কক্ষনো কথা বলবো না তোমার সাথে।
মায়া দিদি এত্ত আদর করে তাকে! সেই মায়া দিদি যদি তার সাথে কথাই না বলে, তাহলে তার কষ্টই বাড়বে! সুমন এবার মুখ খোললো। বললো, দিদি, তুমি খুব সুন্দর!
মায়া খিল খিল করে হাসতে থাকলো। কি চমৎকার মায়া দিদির হাসি! কি ঝক ঝকে চমৎকার সাদা দাঁত তার! জোছনার চাঁদকেও হার মানায় এই হাসি! হাসির সময়,তার চমৎকার বৃহৎ বক্ষ দুটোও চমৎকার দোল খাচ্ছিলো। সুমন তন্ময় হয়েই তাঁকিয়েছিলো, তার ভালোবাসার মায়া দিদির বুকের দিকে। মায়া বললো,বুঝেছি! আমি যেমনি তোমার নুনুটা ধরেছিলাম, তুমিও আমার দুধ দুটো ধরতে চেয়েছিলে! ঠিক বলিনি?
সুমন এবার হ্যা বোধক মাথা নাড়লো।
মায়া দিদি সুমনের গালে এবং ঠোটে চুমু দিয়ে বললো,দুষ্টু ছেলে! দিদিদের দুধে হাত দিতে আছে নাকি?তারপরও তুমি যখন চাইছো, একবার শুধু!
সুমন শখ করেই মাঝে মাঝে তপার সুপুরীর মতো স্তন দুটো হাতের তালুতে নিয়ে টিপে ধরেছে। মেয়েদের দুধ ধরার মাঝে কি মজা, কি আনন্দ তা সে ভালো করে বুঝে না। তারপরও ছোট বোন তপার ছোট্ট সুপুরীর মতো দুধ দুটো ধরলে কেমন যেনো বাড়তি আনন্দই অনুভূত হয়! অথচ, জাম্বুরার চাইতেও বিশাল বক্ষ কিভাবে ধরতে হয়,বুঝতে পারলো না। সে দু হাতের তালুতেই মায়ার ডান স্তনটা চেপে ধরলো। কি নরোম তুল তুলে! ধরে রাখতেই ইচ্ছে হলো দীর্ঘ একটা সময়। মায়াও সুমনের এই ছোট হাতের দুধু ধরা দেখে মুচকি মুচকি হাসলো। সুমন মায়ার ডান স্তনটা ধরে রেখে তৃপ্ত হবার পর, দুধুটা হাত মুক্ত করে বললো, আমি আসি!
মায়া দিদি খিল খিল হাসিতেই বললো, অন্যটা ধরবে না?
সুমন বললো, তুমি যে বললে, শুধু একবার!
মায়া আবারও খিল খিল করে হাসতে হাসতে বললো,একবার বলেছি বলে, একটা দুধুই কি একবার ধরে চলে যাবে? আমার অন্য দুধুটা মন খারাপ করবে না!
সুমনও লাজুকতা ভরা হাসি হাসলো। সে মায়ার বাম স্তনটাও দু হাতের তালুতে চেপে ধরলো।
মায়া দিদি বললো, তোমার জন্যে আমার দুধ দুটো এখন থেকে ফ্রী! যখন খুশী ধরবে! কেমন?
সুমন হাসলো। বললো, দিদি তুমি খুব ভালো।
মায়া আবারও সুমনের ঠোটে আলতো চুমু দিয়ে বললো,যাও, বলটা নিয়ে উঠানে খেলো গিয়ে। ওরকম মন খারাপ করে বসে থাকবে না। ঠিক আছে?
সুমন আনন্দিত হয়েই বলটা নিয়ে ছুটে গেলো উঠানে।
সকালে সুমনের ঘুম একটু তাড়াতাড়িই ভাঙে।
তপা যেমনি দেরীতে ঘুমায়, তেমনি অনেক বেলাতেও তার ঘুমটা ভাঙতে চায় না। সাধারনতঃ অনেক বেলাতে সুলেখার চিৎকার করা ডাকেই অনেক অনিচ্ছাতেই বিছানাটা ছাড়ে।
খুব ভোরে সুমনের ঘুম ভাঙতেই সে প্রতিদিনের মতোই এটাচড বাথরুমে গিয়েছিলো, হাত মুখটা ধুতে। প্রস্রাবটা সেরে, হাত মুখটা ধুয়ে বাথরুম থেকে বেড়িয়ে আসতেই,হঠাৎই চোখে পরলো বাথরুমের মেঝেতে কয়েক ফোটা রক্ত। রক্ত দেখে সাংঘাতিক ভয় পেয়ে গেলো সুমন। নিজ দেহের কোথাও কেটেছে কিনা ভেবে, হাত পায়ে ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিলো। নাহ, কোথাও কাটে নি। এমন কি দেহের কোথাও ব্যাথাও অনুভব হচ্ছে না। কমোডের দিকে চোখ পরতেই সেখানেও রক্ত চোখে পরলো। তবে কি তার নুনু থেকে? সে তার হাফ প্যান্টটা খোলে ছোট্ট নুনুটাও ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে নিলো। নাহ, নুনুটাও ঠিক মতো বহাল তবিয়তেই আছে। তবে কি তপার কোথাও কেটেছে নাকি? সে ছুটে বিছানার দিকেই এগিয়ে যেতে চাইলো।
বাইরে তখনো খুব একটা আলোকিত হয়ে উঠেনি। ডিম লাইটের আলোতে ঘরের ভেতরে মেঝেতেও বেশ কয়েক ফোটা রক্ত দেখতে পেলো। সে এক প্রকার ছুটেই গেলো বিছানার ধারে। তপা তখনো বেঘোরেই ঘুমুচ্ছিলো কাৎ হয়ে। সুমন ভয়ে ভয়েই ডাকলো, তপা,এই তপা?
তপা অনেকটা বিরক্ত হয়ে, অন্য কাৎে ঘুমিয়ে বললো,কি?
সুমন আতংকিত গলাতেই বললো, তোমার কোথাও কেটেছে নাকি?
তপা ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই বললো, না।
সুমন নাছোড়বান্দা হয়েই বললো, মেঝেতে রক্ত,টয়লেটেও রক্ত দেখলাম!
তপা হঠাৎই চোখ খুললো। তারপর বিরক্তি নিয়েই বললো, ঘুম থেকে উঠে আমি ধুয়ে দেবো! আরেকটু ঘুমুতে দেবে, প্লীজ!
এই বলে তপা আবারও ঘুমিয়ে পরলো।
রক্ত দেখে সুমন যতটা আতংকিত হয়েছিলো, রক্তের কথা শুনে তপার ভাবলেশহীনতা দেখে অবাকই হলো সুমন। মনে হলো সত্যিই তপার কোথাও কেটেছে। এবং সে ব্যাপারে তপা নিজেও যেমনি সচেতন, নিজেই বোধ হয় একটা ব্যবস্থাও নিয়েছে। তাই তপাকে আর বিরক্ত না করে, রক্ত গুলো নিজেই ধুয়ে মুছে পড়তে বসলো।
অনেক বেলাতে সুলেখার নাস্তার ডাকেই তপার ঘুমটা ভাঙলো। সুমন তখনো পড়ার টেবিলেই অপেক্ষা করছিলো, তপার হাত মুখটা ধুয়া শেষ হলেই এক সংগে নাস্তার টেবিলে যাবে। তপা অনেকটা লাফিয়ে উঠেই বাথরুমে ছুটে গেলো। মুহুর্তেই সুমনের কাছে ফিরে এসে বললো, কই রক্ত? আমার চোখে তো পরছে না।
সুমন সহজভাবেই বললো, আমি ধুয়ে দিয়েছি।
তপা রাগ করার ভান করেই বললো, তুমি আবার ধুতে গেলে কেনো? বলেছিলাম না, আমি ধুয়ে দেবো!
সুমন বললো, রক্তগুলো মেঝেতে জমাট বাঁধলে তো দাগ পরে যেতো! তাই শুকিয়ে যাবার আগেই ধুয়ে দিয়েছি।
তপা মিষ্টি করে হাসলো। বললো, খুব ভালো করেছো! আসলে, আমিও এর জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না। হঠাৎই এমনটা হয়েছিলো। ঘুমে মাথাটা এতই ভার হয়েছিলো যে, কোথায় কোথায় রক্ত গুলো পরেছিলো, ভালো করে খেয়াল করতে পারিনি।
তপার কথা কিছুই বোধগম্য হলো না সুমনের। তবে,তপাকে অন্য দিনের চাইতেও অনেক সতেজ লাগছে। সে কৌতুহল নিয়েই বললো, কোথায় কেটেছে তোমার?
তপা বললো, কোথাও কাটেনি।
সুমন অবাক হয়েই বললো, তাহলে রক্ত?
তপা বললো, পরে বলবো। সুলেখা ডাকছে! চলো, নাস্তা করতে যাই।
তপা মাঝে মাঝে সুমনকে এড়িয়ে যায়, সেটা সে অনেক সময়ই অনুমান করে থাকে। এই রক্তের ব্যাপারটাও তপা কৌশলে এড়িয়ে যেতে চাইছে। তাই সে মন খারাপ করেই নাস্তার জন্যে এগিয়ে গেলো।
তপা আর সুমন তখনো পেছনের উঠানে একই সংগে গোসল করে। সুলেখাই তাদের দুজনকে গোসল করিয়ে দেয়। সুলেখা গোসলের জন্যে ডাকতেই, তপা বললো,আমি উপরে বাথরুমে করে নেবো।
সুলেখা অবাক হয়েই বললো, উপরে কেনো?
তপা সুলেখার কানে কানে কি যেনো বললো, সুমন তা অনুমান করতে পারলো না। তবে, সুলেখা উঁচু গলাতেই বললো, তাহলে তো আরো সমস্যা! তুমি নিজে নিজে ভালো করে পরিস্কার করতে পারবে? প্যাড আছে তোমার কাছে?
তপা মাথা নেড়ে বললো, না।
সুলেখা আরো অবাক হয়েই বললো, তাহলে?
তপা বললো, আসলে আমিও বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিৎ! ছোট একটা তোয়ালে বেঁধে রেখেছি।
সুলেখা মায়া ভরা একটা হাসিই হাসলো। তারপর বললো, বোকা মেয়ে! এখন কল তলায় যাও। গোসলের পর আমি সব ব্যবস্থা করে দেবো।
তপা আর সুলেখার কথাবার্তা কিছুই বুঝলো না সুমন। কি এমন ব্যাপার, কানে কানে সুলেখাকে বলতেই সব বুঝে গেলো! অথচ, সে কিছুই অনুমান করতে পারছে না।
পেছনের উঠানে কলতলায় গোসলের জন্যে ন্যাংটু হতে যেতেই অনুভব করলো, অন্যান্য দিনের চাইতে অনেক লাজুক তপা। লাজুকতা নিয়ে ন্যাংটু হবার পর অবাক হয়েই দেখলো, তপার নিম্নাঙ্গে বাঁধা সাদা ছোট তোয়ালেটা যেমনি রক্তাক্ত, তেমনি ফর্সা উরু দুটোতেও লালচে রক্তের ছাপ লেগে আছে। আর সুলেখাও অন্যান্য দিনের মতো সুমনের গোসলে খুব একটা মনোযোগ না দিয়ে, তপাকে ভালো করে গোসল করানোতেই মনোযোগটা বেশী দিচ্ছে। প্রতিদিন সুমনের নুনুটাতেই সাবান মাখিয়ে মাখিয়ে মর্দন করে দীর্ঘ একটা সময়! অথচ, সেদিন তপার দু টো উরু ভালো করে পরিষ্কার করে, তার মণিটাতেই সাবান মাখিয়ে মাখিয়ে ভালো করে করে পরিষ্কার করে দিতে থাকলো। সুমন লক্ষ্য করলো, এত দিন দেখা তপার মণির চারপাশের লালচে লোম গুলো, ঈষৎ কালচে আর খানিকটা ঘনই মনে হচ্ছে। পাছাটাও ঈষৎ বড়ই মনে হচ্ছে নিজের তুলনায়। আর, বুকের দিকে চোখ পরতেই দেখলো, সুপুরীর মতো স্তন দুটোও খানিকটা ভরাট হয়ে উঠেছে আগের তুলনায়।
গোসলের পর তপাকে ভালো করেই মুছে দিলো সুলেখা,বড় একটা তোয়ালে দিয়ে। তারপর, তার মণিটাও। অতঃপর তপাকে বললো, শুকনো জায়গাটাতে দাঁড়াতে। সুলেখা একটা ছোট বাক্স আগে থেকেই দরজার কাছাকাছি রেখেছিলো। সেখান থেকে কটন আর ব্যান্ডেজ জাতীয় কিছু বেড় করে তপার মণিটা বেঁধে দিলো ভালো করে। সুমন উপলব্ধি করতে পারলো,তপার যদি কোথাও কেটেই থাকে, তাহলে তার মণিটাই কেটেছে। তাই সে লজ্জায় বলতে পারেনি তাকে। তার নিজের নুনুটাও যদি কাটতো, তাহলে কি বলতে পারতো? তপার উপর থেকে রাগটা মুহুর্তেই দূর হয়ে গেলো। বরং তপার উপর অনেক মমতা জেগে উঠলো।
তপার মণিটা বাঁধা হতেই সুলেখা তপাকে লক্ষ্য করেই বললো, আজকে স্কুলে যাবার দরকার নেই। এখন কাপর পরে নাও। আর বাথরুম পেলে আমাকে জানাবে। আমি প্যাড বদলে দেবো। আর এখন থেকে তোমার প্যান্টিও পরা উচিৎ। তখন এভাবে না বাঁধলেও চলবে। সুমন স্কুলে গেলেই তোমাকে নিয়ে কোন একটা স্টোরে যাবো।
সুলেখার কথাগুলো শুনে সুমন খানিকটা আতংকিতই হলো। তপার বোধ হয় খুব কষ্টই হচ্ছে! অথচ, দশ বছর বয়সের ছোট্ট একটা মেয়ে মুখ বুজেই তা সহ্য করছে! কতদিনে তপার মণিটা ভালো হবে কে জানে? তপার একটা গতি হতেই, সুলেখা মনোযোগ দিলো সুমনকে গোসল করানো তে।
জীবনে প্রথমই বোধ হয় একাকী স্কুলে যেতে হলো সুমনকে। স্কুলে গিয়ে ক্লাশেও মন বসলো না সুমনের। তপার কথাই শুধু ভাবতে থাকলো। তার এত আদরের ছোট বোনটা বাড়ীতে একা একা কি করছে, কে জানে?নিশ্চয়ই মণিটাতে খুব যন্ত্রনা নিয়ে ছটফট করছে। তপার প্রতি নুতন করেই এক ধরনের ভালোবাসা উদয় হতে থাকলো সুমনের মনে।
স্কুল ছুটির পর বাড়ী ফিরে দেখলো, বাড়ীর সামনের উঠানে খুব স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটাহুটা করছে তপা। একবার জিজ্ঞাসা করতে চাইলো, মণির ব্যাথাটা কেমন?কিন্তু, কেনো যেনো পারলো না। দেহের অন্য কোথাও কাটার ব্যাপার হলে, যতটা সহজে প্রশ্ন করা যায়, নুনু কিংবা মণি কাটার ব্যাপার স্যাপার হলে তো লজ্জাই লাগে বেশী।
রাতের খাবার দাবারের পর, ঘুমুতে যাবার সময়ই প্রশ্ন করলো সুমন, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে?
তপা মিষ্টি হেসেই বললো, কেনো? কষ্ট লাগবে কেনো?
সুমন আমতা আমতা করেই বললো, না মানে, সকালে দেখলাম, তোমার মণিটা কেটেছে!
তপা চোখ কপালে তুলে হাসতে হাসতেই বললো,কেটেছে মানে?
সুমন বললো, তাহলে রক্ত! ব্যান্ডেজ?
তপা খিল খিল করেই হাসলো খানিকক্ষণ। সুমন কিছুই অনুমান করতে পারলো না। যে তপার কষ্টে সম বেদনা জানানোর জন্যে সারাটা দিন তার দুশ্চিন্তাতেই কেটেছে,সেই তপা কিনা খিল খিল করে হাসছে? আবারও রাগ হলো তার তপার উপর। অথচ, তপা হাসি থামিয়ে বললো, আমার মণিটা কাটেও নি, আর সকালে যে ব্যান্ডেজটা সুলেখাকে করতে দেখেছিলে, সেটাও নেই।
তপা তার হাফপ্যান্টটা খানিকটা নীচে নামিয়ে বললো,দেখো, আমার পরনে প্যান্টি! সুলেখার সাথে গিয়ে কিনে এনেছি। তবে, ব্যান্ডেজ একটা আছে, খুব ছোট!
তপা তার প্যান্টিটা টেনে ফাঁক করেই দেখালো, ঠিক মণিটার ছিদ্র বরাবরই ছোট আকারের প্যাডের মতো একটা ব্যান্ডেজ, যা প্যান্টিটার চাপেই মণি ছিদ্রটা আটকে চেপে রেখেছে! সুমন বললো, সবই বুঝলাম! তোমার কাটেওনি, ব্যাথাও করছেনা। তাহলে, ঐ ছোট ব্যান্ডেজটাই বা করেছো কেনো?
তপা আবারো খিল খিল করে হাসতে থাকলো। তারপর বললো, আমি বড় হয়েছি যে, তাই।
তপার এই কথাটা সব সময়ই সুমনকে আঘাত করে। বয়সে এক বছরের ছোট হয়েও, সব সময় নিজেকে বড় বলেই ঘোষণা করে। সে মন খারাপ করেই শুয়ে পরলো। তপা, সুমনের মনের অবস্থা উপলব্ধি করতে পেরেই বললো, ঠিক আছে, বলছি বাবা বলছি! গত রাত থেকে আমার মেনস শুরু হয়েছে।
সুমন হঠাৎই উঠে বসলো। অবাক গলাতেই বললো,মেনস কি?
তপা বললো, এটা ইংরেজী শব্দ! পুরুটা বললে,মিনস্ট্রুয়েশন! বাংলাতে অনেকে মাসিকও বলে।
এমন একটা শব্দ খুব পরিচিতই মনে হলো সুমনের। না,তার পরিচিত শব্দটা তো মাসিক পত্রিকা! সুমন বিড় বিড় করেই বললো, মাসিক পত্রিকা?
তপা বললো, হ্যা, অনেকটা ওরকমই। মাসিক পত্রিকা প্রতিমাসে একবার করে বেড় হয় বলেই, মাসিক পত্রিকা বলে। মেয়েদের বেলাতেও ঠিক একই রকম! প্রতিমাসে মণি থেকে একবার করে রক্ত বেড়োতে থাকে। অনবরত চার পাঁচদিন। গতকালেই আমার প্রথম হলো। তাই নিজেও খানিকটা ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু, এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। এখন থেকে প্রতিমাসেই একবার করে হবে। তাই ভয় পাবার মতো কোন কিছু না।
সুমন তপার কথা বুঝলো কি বুঝলো না বুঝা গেলো না। তবে, তার তুলনায় তপা যে অনেক কিছু জানে, বুঝে,তাতে কোন সন্দেহ নেই। তপা যে সব সময় নিজেকে বড় হয়েছে বলে ঘোষনা করে থাকে, তাতেও কোন মিথ্যে লুকিয়ে নেই। এই মেনস এর ব্যাপারটাই প্রমাণ করে, বয়সে এক বছরের ছোট হয়েও, তপা বড় হতে চলেছে, তার অনেক আগেই।
শিশু কিশোর কেনো, পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই বোধ হয় যা কিছু শিখে, তা পরিবেশ থেকেই শিখে। পারিবারিক পরিবেশও একটা অন্যতম পরিবেশ! শৈশবে শিশুরা বেশীরভাগই শিখে থাকে পারিবারিক
পরিবেশ থেকেই। সুমন আর তপা দুটি ভাইবোন শৈশবেই মাকে হারিয়েছে। আর তাদের বাবা থেকেও,শিল্প ব্যবসা নিয়ে এতটাই ব্যাস্ত যে, একটু আদর স্নেহ দেবার সময়টুকুও তার থাকতো না। যতটা আদর স্নেহ পেয়ে চলেছে, তা হলো যুবতী ঝি সুলেখার কাছ থেকেই।
সুলেখারই বা দোষ কি? যুবতী অবিবাহিতা একটা মেয়ে! অন্যের বাড়ীতে কাজ করে, ভবিষ্যৎ অন্ধকার! এমন একটা বয়সে যখন এক রাজপুত্রের স্বপ্ন দেখারই কথা ছিলো, তখন ছেড়া কাঁথায় থেকে, ধনী বাড়ীর ছেলে বুড়ু সবার বাঁড়াই তাকে উৎপাত করে। এসব মেনে না নিয়েই বা কি করবে? অন্তত, পেটে তো দুটো ভাত দিতে হবে! তেমনি সুমন আর তপা যখন লেখাপড়া আর খেলাধূলাতেই মন দেবার কথা ছিলো, তখন রাতের জগতে পারিপার্শ্বিক সবার বিচরন, আর যৌনতার প্রতীক তুল্য যুবতী সুলেখার আচরন, তাদেরকেও নুতন এক জগতেরই সন্ধান দিতে থাকলো।
মায়েরা একটা বয়সে শিশুদের গোসল করিয়ে দেয়,পোষাক বদলে দেয়। শিশুরা একটা বয়স পেরিয়ে কৈশোরে পা দিলে, নিজেদেরকেই তা করার নির্দেশ দেয়! সুলেখা তো আর সুমন তপার মা নয়! সাধারন অশিক্ষিত এক কাজের মেয়ে! তার ইচ্ছাকৃতই হউক আর অনিচ্ছাকৃতভাবেই হউক, তপা আর সুমন কৈশোরে পা দেবার পর থেকেই গোসল করিয়ে দিতো নিজ হাতেই। সেই সুবাদে তপা আর সুমন দুটি ভাই বোন একে অপরের বাড়ন্ত নগ্ন দেহটা দেখারও সুযোগ পেতো। যেগুলো অন্য কোন সাধারন পরিবারে বড় হতে থাকলে হয়তো থাকতো না।
সুমনের বয়স তখন বারো। তপা যতই তাকে বড় হয়নি বলে সব সময় তিরস্কার করতো, তখন সে সত্যিই নুতন নুতন অনেক কিছুই বুঝতে শুরু করলো। একই বাড়ীর সামনে, বসবাস করা ড্রাইভার রমেশের বউ, মায়াও তাকে অসম্ভব আদর করতো। আদর করে মাঝে মাঝে ঠোটে চুমুও দিতো। যে চুমুগুলো সব সময় মায়ের স্নেহ ভরা চুমুর মতোই মনে হতো, সেদিন কেমন যেনো ভিন্নই লাগলো।