ফাঁদ - এক নিষ্পাপ সতী গৃহবধূ - অধ্যায় ১২
অার মিয়া বাবুর দ্বিতীয় সঙ্গী হলো এই অচিনপুরের দারগাবাবু। যার সাথে রাজীব অার ইরার অচিনপুরে অাসার দিন চেকপোস্টে দেখা হয়েছিলো। দারগাবাবু মিয়া বাবুর সমস্ত অপকর্ম পুলিশ ইনফরমেশন ফাইল থেকে রিমুভ করে দেয়। যার কারণে অাজ পর্যন্ত কেউ মিয়া বাবুর ছবি দেখে নি ও মিয়া বাবুকে ধরতে সক্ষম হয় নি।
অার যদি হরিদাসের কথা বলি সে হলো মিয়া বাবুর ইনফর্মার ও নারী ব্যাবসার দালাল। এই গ্রামের কোথায় কি হচ্ছে সেই খবর সব কিছু হরিদাসই কালেক্ট করে মিয়া বাবুর কাছে জানিয়ে দেয় । অার সমস্ত টুরিস্টদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের কাছে নারী সাপ্লায় দেই। অার হরিদাসের এসব কাজে সাহায্য করে লতা। অার পুরো অচিনপুরটাই হলো একটা গ্যাংস্টারের অাতুড়ঘর। এখানে সবাইই মিয়া বাবুর হয়ে কাজ করে।
তো এটাই ছিলো অচিনপুরের গোপন ও নোংরা একটা ইতিহাস। এই অচিনপুরে এসেই যে কত বড় বড় অফিসার তাদের প্রাণ খুইয়েছে অার কত নারী যে সুখের সংসার ছেড়ে এই অচিনপুরের অাগুনে জ্বলে পুড়ে মরেছে তার কোনো হিসেব নেই। এই পুরো অচিনপুরের মাটির তলায় রয়েছে হাজার হাজার নর-নারীদের লাশ।
তো এভাবে অারোও কয়েকটা দিন কেটে গেলো। এই কয়েকদিনে ইরা বেশ কয়েকবার লতা ও রাজীবের সাথে জঙ্গল অার পাহাড় দেখে বেড়িয়েছে। এই গ্রামের সুন্দর প্রকৃতি ইরাকে অনেক মুগ্ধ করে দিয়েছে। তাইত ইরা রাজীব কে সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে এটাই এখন তাদের স্থায়ী ঠিকানা। এই গ্রাম ছেড়ে ইরা অার অন্য কোথাও যাবে না। রাজীবও এক কথাতেই মেনে নিয়েছে। কারণ রাজীবও যে এখানে অনেক কামাতে পারছে। রাজীব এখানে প্রতিদিনই তার শহরের হোটেলের থেকে দ্বিগুনেরও বেশী টাকা কামাতে সক্ষম হচ্ছে। এখানে এসে টাকার প্রতি রাজীবের নেশাটা অনেকখানি বেড়ে গেছে। রাজীব অারোও কিভাবে টাকা কামানো যায় সেই ধান্দাটাই খুঁজে বেড়াচ্ছে।
অার এদিকে ইরার এখানে থাকতে খুব ভালো লাগলেও রাজীবকে সে বেশী কাছে পাচ্ছে না। কারণ রাজীব সবসময় তার হোটেল অার টাকা পয়সা কামানো নিয়েই ব্যাস্ত থাকে। প্রতিদিন রাত করে বাড়ী ফিরেই ঘুমিয়ে যায় অাবার সকাল সকাল উঠে চলে যায় হোটেলে। যার জন্য ইরার শরীরের কামক্ষুধা টাও দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। তবে ইরা রাজীবকে এটা নিয়ে কখনও কমপ্লেইন করে না। ইরা ভেবেছে নতুন জায়গা তাই হয়তো রাজীব কাজকর্ম গুলোকে গুছিয়ে নিচ্ছে। তারপরও ইরার মনটা রাজীবের জন্য খারাপ হতে থাকলো। এই কয়েকদিনে যে ইরা ও রাজীবের দূরত্বটা অনেকখানি বেড়ে গেছে সেটা লতা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।এসব বিষয়ে একদিন লতা ইরাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করেই ফেললো যে "মালকিনের কি হয়েছে। সবসময় এত মন খারাপ কেনো থাকে"
ইরা লতাকে নিজের কাছের মানুষ মনে করেই সব কিছু খুলে বললো, যে কিভাবে রাজীবের সাথে এই কয়েকদিনে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। কিভাবে অারোও বেশী টাকা কামানো যায় রাজীব শুধু সেসব নিয়েই পড়ে অাছে।
ব্যাস এইটুকু কথা শুনেই লতা ভালভাবেই বুঝে ফেলেছে যে রাজীবের সবথেকে দূর্বল জায়গা হলো টাকা কামানো। টাকা ছাড়া রাজীব কোনো কিছু বুঝতে চায় না। টাকার জন্য রাজীব সব কিছুই করতে পারে। তো এই কথাটাই লতা গিয়ে প্রথমে হরিদাসকে জানায় তারপর হরিদাস খবরটা মিয়া বাবুর কাছে পৌঁছে দেই। মিয়া বাবু তখন তার লোকজনদেরকে নিয়ে একটা বড়ো রকমের ফাঁদ পাতার পরিকল্পনা করে। অার এই ফাঁদে কি অারোও একটা পরিবার ধংস্ব হবে নাকি এই ফাঁদ থেকে বেঁচে ফিরবে সেটাই দেখার পালা।