ফাঁদ - এক নিষ্পাপ সতী গৃহবধূ - অধ্যায় ১৩
তো এভাবেই কয়েকটা দিন কেটে যাওয়ার পর হঠাৎ একদিন দুপুর বেলায় রাজীবের হোটেলের সামনে একটা বড় মার্সিডিজ এসে দাঁড়ায়। রাজীব সেদিকে খেয়াল করে ভাবতে থাকে যে [ এটা তো কোনো টুরিস্টের গাড়ী মনে হচ্ছে না। তবে এই গ্রামে এরকম দামী গাড়ী অার কার রয়েছে ]
তখন গাড়ী থেকে তিনজন লোক নেমে রাজীবের হোটেলে ঢুকে পড়ে। রাজীব তখন হোটেলের রিসিপশনেই বসা ছিলো। ওই তিনজনের ভিতর রাজীব একজনকে চিনতে পারে, সেটা হলো ওই চেকপোস্টে দেখা হওয়া দারগাবাবু।
" সালাম রাজীব বাবু সালাম " ( দারগাবাবু হোটেলে ঢুকেই রাজীবকে সালাম জানাল)
অাসলে পুলিশটাও একজন মুসলিম ধর্মের লোক।
রাজীবও তখন পাল্টা সালাম জানিয়ে বলে " অারে দারগাবাবু যে"
দারগাবাবু - তা মশাই অামাকে মনে অাছে দেখছি।
রাজীব - অাপনাকে মনে থাকবে না সেটা কিভাবে হয় বলুন তো। অাপনি হলেন এই গ্রামের দারগা। তা এখানে হঠাৎ কোনো দরকারে বুঝি?
দারোগাবাবু - এই যে এনাদের সাথে পরিচিত হন।
দারগাবাবু তখন মিয়া বাবুর দিকে ইশারা করে বললেন " ইনি হলেন এই গ্রামের ধর্তা-কর্তা মিয়া বাবু। এনার কথাতেই এই গ্রামে বাঘ হরিণে এক ঘাটে জল খায়।"
তারপর চাচাজানের দিকে ইশারা দিয়ে বললেন "ইনি হলেন মিয়া বাবুর একমাত্র কাছের ও অাপন লোক। সবাই ওনাকে চাচাজান বলেই ডাকে। মিয়া বাবু অার এই চাচাজানই এই গ্রামে অাপনাকে হোটেল ও বাড়ী করার অনুমতি দিয়েছে।"
কথাটা শুনেই রাজীব উঠে দাঁড়িয়ে বলল " অারে অাপনার এত কষ্ট করে অাসতে গেলেন কেন?একবার অামাকে ডাক দিলেই তো হত, দেখতেন এই অসহায় অাপনাদের সামনে হাজির হয়ে গেছে।
অাবার রাজীব চিল্লিয়ে তার হোটেল স্টাফদের উদ্দেশ্যে বললো "এই কে কোথায় অাছিস বসার জায়গাগুলো পরিষ্কার করে দে।"
তখন একজন হোটেল স্টাফ এসে রিসিপশনের সামনে থাকা সোফার সেটটা ভাল করে পরিষ্কার করে দিলো।
" প্লিজ ওখানে বসুন। অার এতক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখার জন্য সরি " ( রাজীব বললো)
তখন চাচাজান হেঁসে বললো " কি করছো টা কি বাবা তুমি এত বড় একজন ব্যাবসায়ী হয়ে অামাদের মত সামান্য গ্রাম্য লোকদের কাছে মাফ চাচ্ছো"
রাজীব তখন রিসিপশন থেকে বের হতে হতে বললো " কি বলছেন কি স্যার অাপনি? অাপনারা হলেন এখানকার গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গ। অাপনাদের জন্যই তো এখানে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছি।"
চাচাজান - এটা কেমন কথা বাবা। তুমি অামাকে স্যার না বলে চাচাজান বললে অন্তর থেকে খুশি হতাম।
রাজীব - সরি সরি চাচাজান।
তখন মিয়া বাবু বলে উঠলো - অাহ রাজীব বাবু এত সরি বলে অার অামাদের লজ্জায় ফেলবেন না তো।
রাজীব - কি যে বলেন না স্যার। অাপনার সামনে দাঁড়িয়ে অাছি এটাই তো অামার জন্য অনেক সোভাগ্যের ব্যাপার। তাই কোনো ভুল হলে তো হাজারবার ক্ষমা চাইতেই হবে।
মিয়াবাবু - প্লিজ রাজীব বাবু এই স্যার বলাটা বন্ধ করে মিয়াবাবু বলে ডাকলেই খুশি হতাম।
রাজীব - ওকে মিয়াবাবু এইবার চলুন ওখানে বসে কথা বলি।
সবাই মিলে তখন সোফায় গিয়ে বসলো।
" তা রাজীব বাবু এখানে ব্যাবসা করতে কোনো প্রবলেম হচ্ছে না তো? (মিয়াবাবু জিঙ্গেস করলো)