ফাঁদ - এক নিষ্পাপ সতী গৃহবধূ - অধ্যায় ২৯
পরেরদিন খুব সকাল করেই রাজীবদের বাড়ির কলিংবেল বেজে উঠলো। ইরা অার রাজীব তখন দু'জনই ঘুমে মত্ত হয়ে রয়েছে। অাসলে এতো সকালে উঠার অভ্যেস ওদের নেই। ক্রমাগত বেশ কয়েকবার কলিংবেল বাজার কারণে রাজীব ও ইরা দু'জনেরই ঘুম ভেঙ্গে গেলো। রাজীব অার ইরা তখন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো ৬.৩০ টা বাজে।
"হ্যা গো লতা কি এতো সকালে কাজে অাসে?" (রাজীব ইরাকে প্রশ্ন করলো)
ইরা - না না লতাদি তো ৯ টার অাগে কোনোদিন অাসে না।
রাজীব - দেখো হয়তো কাল ছুটিতে ছিলো বলে অাজ তাড়াতাড়ি চলে এসেছে।
ইরা - অাচ্ছা অামি দেখছি। তুমি শুয়ে থাকো।
ইরা তখন নিচে গিয়েই দরজাটা খুলতেই একজন লোক ঘরের ভিতর ঢুকে পড়লো। লোকটার চোখমুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ ফুটে রয়েছে। লোকটার পরণে ছিলো ফরমাল শার্ট-প্যান্ট অার পুরো শরীর ঘামে ভিজে চপচপ করছে। লোকটাকে দেখেই মনে হচ্ছে লোকটা যেনো কোনো কিছুতে অনেক ভয় পেয়ে রয়েছে। লোকটা হুট করে ঘরের ভিতর ঢুকেই ইরার পুরো শরীরে চোখ বুলাতে থাকলো। ইরা কালকে রাতের সেই লেহেঙ্গাটায় পরে রয়েছে। তবে এখন অার ইরার শরীরে কোনো ওড়না নেই শুধু ব্লাউজ অার লেহেঙ্গা। এইমাত্র ঘুম থেকে ওঠার কারণে ইরার চুলগুলো এলোমেলো, পরণের লেহেঙ্গাটা হাঁটু পর্যন্ত উঠে রয়েছে অার ব্লাউজটা অনেকটা নিচে নেমে রয়েছে যার কারণে ইরার দুধের প্রায় অর্ধেক খাঁজ বের হয়ে রয়েছে। লোকটাকে ওভাবে তার শরীরের দিকে তাকাতে দেখে ইরা তার এলোমেলো হয়ে থাকা পোশাকগুলো ঠিক করে ফেললো।
তারপর লোকটার দিকে রাগান্বিত চোখ করে বললো, - এই যে হ্যালো কে অাপনি? এভাবে ভিতরে ঢুকে পড়লেন কেনো?
ইরার কথা শুনে লোকটা তখন অাবার হুশে ফিরলো। তারপর লোকটা তার মুখে একটা ভয়ের ছাপ নিয়ে ইরাকে বললো, - ম্যাডাম অামি অাপনাদের হোটেলের ম্যানেজার। প্লিজ স্যারকে একটু ডেকে দিন অনেক বড় বিপদ হয়ে গেছে।
কথাটা বলতে বলতেই লোকটা কেঁদে উঠলো। লোকটার কথা শুনে ইরা অনেক ভয় পেয়ে গেলো। ইরা তখন জোরে জোরে চিল্লিয়ে রাজীবকে ডাকতে থাকলো। ইরার ওইরকম চিল্লানো শুনে রাজীব জলদি করে নিচে চলে অাসলো। নিচে নেমেই রাজীব দেখলো ইরার সাথে তার হোটেলের ম্যানেজার দাঁড়িয়ে রয়েছে। ম্যানেজারের চোখমুখে ভয়ের ছাপ।
রাজীব তখন লোকটার দিকে তাকিয়ে বললো, - অারে সুভাস তুমি এখন এই সময়?
সুভাস রাজীবকে দেখে কাঁদতে কাঁদতে বললো, - স্যার জলদি হোটেলে চলুন। অনেক বড় বিপদ হয়ে গেছে।
রাজীব - মানে কি হয়েছে টা কি একটু খুলে বলো?
সুভাস - স্যার অানুমানিক কাল রাত তিনটের সময় সাদা পোশাকে কিছু লোক হোটেলে অাসে। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয় অার তাদের সবার হাতে বন্দুক ছিলো। তারা এসেই বলে যে যেই জমির উপরে অামাদের হোটেল টা করা হয়েছে সেটা নাকি সরকারী জমি। জমি দখল করে অবৈধভাবে নাকি হোটেলটা করা হয়েছে।
কথাগুলো বলতে বলতে লোকটার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে। লোকটা ঠিকমতো কথায় বলতে পারছে না। কথা বলার সময় মনে হচ্ছিল যেনো লোকটার নিঃশ্বাস অাটকে অাটকে অাসছে।
রাজীব তখন ইরাকে বললো, - এই ইরা সুভাসকে এক গ্লাস পানি এনে দাও তো।
ইরা তখন এক গ্লাস পানি এনে সুভাসকে দিল। সুভাস তখন এক ঢোকে সবটুকু পানি খেয়ে নিজেকে একটু রিলাক্স মনে করল।
রাজীব তখন বললো, - এইবার বলো তো সুভাস তারপর কি হল?
সুভাস তখন অাবারও বলা শুরু করল, - পুলিশগুলো তখন বললো এখনি হোটেলটা খালি করে দিতে। অামি অসম্মতি জানিয়ে যখন অাপনাকে টেলিফোন করতে যায় তখন একজন পুলিশ অামাকে একটা লাথি মেরে ফেলে দেয়। তারপর অামাদের লকারের দিকে এগিয়ে গিয়ে লোকারটাকে খুলতে বলে। তখন অামাদের একজন হোটেল স্টাফ এসে বলে অাপনারা যে পুলিশ তার প্রমাণ কি? অাপনাদের কার্ড দেখান। ঠিক তখন সাদা পোশাকের একজন লোক গুলি চালায়।
গুলি চালানোর কথাটা বলেই সুভাস অাবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। রাজীব অার ইরার চোখে-মুখেও তখন ভয় ফুটে উঠেছে।
রাজীব তখন বলে, - এই সুভাস তুমি একটু শান্ত হয়ে বলো তারা কোথায় গুলি চালিয়েছে।
সুভাস - স্যার অামদের যেই হোটেল স্টাফটা তাদের অাইকার্ড দেখতে চেয়েছিলো সেই স্টাফের বুকের উপর তারা প্রায় ৫ টা গুলি করে। গুলি খেয়ে সেখানেই সেই স্টাফের মৃত্যু হয়। তারপর সেখানে থাকা সব স্টাফ ভয়ে এদিক ওদিক পালাতে থাকে। তখন সেই লোকগুলো চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়ে চারদিকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। গুলি ছোড়ার ফলে কারোও কারোও শরীরে গুলি লাগে অার কেউ কেউ পালিয়ে যায়। অার গুলির শব্দ পেয়ে হোটেলের সব গেস্টরাও রুম থেকে বের হয়ে অাসে। তখন সেই পুলিশগুলো সামনে যাকেই পাই তাকেই গুলি করে মেরে ফেলে। তখন সাদা পোশাকের একটা লোক অামার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে লকার খুলতে বলে। অামি বাধ্য হয়ে যখন লকার খুলি তখন লকারে থাকা ২ কোটি টাকা তার লুট করে নেয়। তখন ওদের ভিতর একজন বলে এই সালাকেও মেরে ফেল। কথাটা শুনেই অামি ওদের একজনকে ধাক্কা মেরে হোটেল থেকে পালিয়ে জঙ্গলের ভিতর লুকিয়ে থাকি। ওরা অামাকে অনেক খোঁজার পরও যখন পায় না তখন সবাই ওখান থেকে চলে যায়।
ওদের চলে যাওয়ার পর অামি হোটেলের ভিতর ঢুকে দেখি হোটেলে শুধু লাশ অার লাশ।
এরকম লোমহর্ষক বর্ণনা শুনে ইরার মনে অনেকটা ভয় ধরে গেলো।
রাজীব তখন বলে উঠল, - শিট ওরা তাহলে ২ কোটি টাকায় নিয়ে চলে গেছে। তা সুভাস তুমি লকার টা কেনো খুলতে গেলে?
ইরা তখন অবাক হয়ে রাজীবের দিকে তাকিয়ে বলল, - এটা তুমি কি বলছো? লকারটা না খুললে তো লোকটাকে ওরা মেরে ফেলতো।
রাজীব - মেরে ফেললে ফেলতো তাতে কি হয়েছে। অামার টাকা তো অার লুট করতে পারত না।
ইরা - ছিঃ তুমি কতটা নিষ্ঠুর। ওরা এতগুলো লোক মেরে ফেললো অার তুমি সামান্য টাকা নিয়ে পড়ে অাছো?
রাজীব - ইরা একটু চুপ করো প্লিজ। এখন তোমার ফালতু কথা শোনার সময় নেই। এই সুভাস জলদি হোটেলে চলো।
রাজীব তখন সুভাসকে নিয়ে হোটেলের দিকে চলে গেলো। রাজীব যাওয়ার পর ইরা শুধু এটাই ভাবছিলো যে [রাজীব এতটা নিচে কিভাবে নামতে পারে। তার কাছে মানুষের জীবনের থেকেও টাকার মূল্য বেশি। ছিঃ]
ইরা তখন উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে তার লেহেঙ্গাটা বদলিয়ে একটা স্লিভলেস শর্ট নাইটি পরলো। ইরার মনে যথেষ্ট ভয় ঢুকে রয়েছে। কালকে রাতের ওই লোকগুলোর ব্যাবহার অার অাজ এই খুনোখুনির কথা শুনে ইরা একদম ঠিক করে ফেলেছে যে অাজ রাজীব বাড়ীতে অাসলেই তারা এই গ্রাম থেকে অাবারও শহরে চলে যাবে। এসব ভাবতে ভাবতে ইরার চোখটা অাবারও ঘুমে লেগে গেলো। কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে থাকার পর যখন ইরার ঘুম ভাঙ্গলো তখন সে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো বিকেল ৫ টা বেজে গেছে। ইরা তখন মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখলো রাজীবের ২৫ টা মিসডকল। ইরা রাজীবকে ফোন ব্যাক করলো তবে রাজীবের নাম্বার বন্ধ দেখালো। তারপর ইরাদের বাড়ীর কলিংবেলটা বেজে উঠলো। ইরা ভাবলো হয়ত রাজীব এসেছে তাই ইরা জলদি নিচে নেমে দরজাটা খুলে দিলো। দরজাটা খুলতেই লতা হুড়মুড় করে ভিতরে ঢুকলো। ইরা লতার দিকে তাকিয়ে দেখলো লতার চোখেমুখে ভয়ের ছাপ।