রূপান্তর ❤️ - অধ্যায় ২
রাশু এখন বলা চলে লস্কর বাড়ীর তস্কর। বড়মা ই ওকে রেশমার নামের সাথে আদর করে রেশু ডাকত সেই ডাক কালে মানুষের মুখে রাশু। খুব যে আদর করে ওকে সবাই তা না, তবে কেন জানি ও লস্কর বাড়ীর বড় গিন্নীমা মমতাজের নয়নের মনি, রাশুকে একমাত্র শাশন মনে হয় গিন্নীমাই করতে পারে। আর রাশু একমাত্র উনার কথাই শুনে। স্কুলে পাঠানো হয়েছিল, পড়া লেখা ভালো লাগে না, মারামারি নিত্য অভ্যাস, রইস লস্করের কাছে হেডমাস্টার এর বিচারের জ্বালায় ওকে রইস মাতবর স্কুল ছাড়িয়ে এনেছিল। রাশু তো মহা খুশী। কর্তা ওকে বাড়ীর রাখালদের দলনেতা বানিয়ে দিয়েছিল। রাশু যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেল, সারাদিন মাঠে , এর গাছ হতে, নয়তো ওর গাছ ফল পার, ডাব খাও। কাঠাল ভাংগো। তারপরেও কেন জানি গিন্নীমার আদরে মমতায় আবার রাশু স্কুলে যেতে শুরু করল। স্কুলে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে পাড়া, সারা এলাকা দাপিয়ে বেড়ানো ওর কাজ, রাশুর শরীর দেখতে দেখতে তরতরিয়ে একটা বুনো ষাড়ের মত হয়েছে। বুকের পাজরের হাড়গুলো যেন পাথর কেটে কেটে তৈরী, কিন্তু তার হাতের পেশী, কবজি, তলপেট, উরু সব যেন এক রেখায় একটী সলিড তক্তার মত সোজা ও মজবুত। আঙ্গুল সব যেন একটা পেটানো ধাতব অংগ। সারা বেলায় হয়তো গায়ে একটা গামছা নয়তো সান্ডো, আর একটা লুংগি। সবে নাকের নীচের লোমগুলো মজবুত হতে শুরু করেছে।