উল্টোডাঙা বস্তির একটি পরিবার (Completed) - অধ্যায় ২

🔗 Original Chapter Link: https://xforum.live/threads/উল্টোডাঙা-বস্তির-একটি-পরিবার-completed.75728/post-4334271

🕰️ Posted on Mon Feb 21 2022 by ✍️ Anuradha Sinha Roy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 468 words / 2 min read

Parent
১​ উল্টোডাঙা বস্তির ১৫ বাই ১২ ফুটের একটি ঘর। সেই ঘরের ভিতর এক ছাদের তলায় থাকত এক পরিবার। পরিবারের কর্তা সহদেব তার স্ত্রী মালতী, তাদের দুই সন্তান সুভাষ ও কাজলকে নিয়ে সেই ঘরেতে বসবাস করত। প্রথমে তারা চারজন থাকলেও, কিছুদিনের মধ্যেই সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাড়ির ছেলে সুভাষ, কোনো এক বস্তির অনিতা নামক একটা মেয়ের সাথে প্রেম করে তাকে ভাগিয়ে এনে বিয়ে করেছিল। সুভাষের সেই আচরণে পরিবারের বাকি লোকেদের প্রথমে আপত্তি থাকলেও, শেষে কোনো উপায়ে না দেখতে পেয়ে তারা অনিতাকে বাড়ির বৌ হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। সহদেব আর তার বৌ মালতি নিজেদের যৌবনেতে বেশ রঙ্গিন মেজাজের ছিল। আর সেই রঙ্গিন লোকদের রক্তও এখন বইছিল সুভাষ আর কাজলের শরীরে। পাড়ার লোকেদের কাছে এই পরিবারের বেশ ভালো ইজ়জ়ত থাকলেও, কোনো কোনো দিন বাপ – ছেলে, মা – মেয়ে, বর – বৌ বা ভাই – বোনের মধ্যে ঝগড়া লেগে যেত আর তখন একে ওপরের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতো নানা রকমের কাঁচা খিস্তি। মানে যেমন সাধারণ পরিবারতে হয়ে থাকে সেইরকমই। একটাই ঘর হওয়ার কারণে রান্না-বান্না সেই ঘেরের ভেতরেই হত আর যেদিকে রান্না হত সেদিকে ছিল ছোট্ট একটা জানালা। দিনের বেলাতে সামনের ঘরের দরজাটা খোলা রাখা হত আর রাতের বেলা জানলাটা খোলা থাকত। বস্তির লোকেরা ভালো হলেও, আশপাশ এলাকার পরিবেস সেইরকমের ভালো ছিলনা। সেইবার তো কে যেন রাত্তিরবেলা জানালার দিয়ে কাজলের মুখের ওপর হ্যান্ডেল মেরে মাল ফেলে দিয়ে গিয়েছিল।সেই নিয়ে সকালে উঠে কতই না ঝামেলা হল ওদের মধ্যে। বাপ বলে ছেলে করেছে, ছেলে বলে বাপ করেছে। সেই ঝামেলা অনেকদিন ধরে চলেছিল ওদের মধ্যে। তবে দ্বিতীয় বারের বার আসল অপরাধীকে ধরতে পেরে বাপ বেটা মিলে আচ্ছাসে কেলিয়ে ছিল সেই শূয়রের বাচ্চাটাকে। সেই ঘটনা হওয়ার পর থেকে রাত্রিবেলা, বাড়ির মেয়েছেলেরা ঘরের মাঝখানে শুত আর তাদের দুপাসে দেওয়ালের দিকে শুত দুই বাপ বেটা । বাড়ির তিন মেয়েছেলেদের ঠিক মাঝখানে শুতো কাজল। রাত্তিরবেলা সব ঘরের ভেতরের সব আলো নিভে যাওয়ার পর, সেই জানালা দিয়ে রাস্তার আলো ঘরের ভেতরে ভেসে আসতো আর তার ফলে বেশ আলোকিত হয়ে থাকতো সারা ঘর। বাইরের আলোর প্রকোপ কম করার জন্য আর সেই ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য মালতী একটা ছোটো পর্দা লাগিয়ে দিয়েছিলো ওই জানালাতে। তবে যখন বাইরে বেয়ারা হাওয়া চলতো, তখন ঘরের ভেতর পুরো আলো থাকতো। বাড়ির সবারই রাত দশটা বাজতে না বাজতেই শুয়ে পরার অভ্যাস ছিল। শোবার দু কী তিন মিনিটের মধ্যেই সুভাষের মা, মালতী ঘুমিয়ে পড়ত। মালতী ঘুমতেই সহদেব নিজের রাতের বিড়িটা শেষ করে, সেটাকে বাইরে ফেলে নিজের মতন ঘুমিয়ে পড়ত। একটু পরে কাজলও ঘুমিয়ে পড়লে শুরু হত সুভাষের রাতের খেলা। সারে দশটা থেকে প্রায় রাত বারোটা অবধি চলতো সেই খেলা। সুভাষ একটা ছোটোখাটো চাকরি করত। রোজ সকলে কাজে যাওয়ার পথে কাজলকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে পৌঁছে দিত সুভাষ। আবার কাজ থেকে ফেরার সময় বাজার করে নিয়ে আসতো সে। পরিবারের সমস্ত জীবিকানির্বাহর ভার ছিল সুভাষের কাঁধে, কারণ তিন বছর আগে একটা আক্সিডেংট হবার পর থেকে সহদেব বাড়িতেই বসে থাকত। কাজ করার ক্ষমতা থালেও সারাদিন বাড়ির বাইরেরগাছের নীচে বসে হয় বিড়ি টানত নাহলে কোনোরিএক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে আড্ডা মারত সে। ​
Parent