কামিনী কাঞ্ছনের মোহ - অধ্যায় ১০
আমার মা বাবার একটা অদ্ভুত ভালো গুন ছিল কেউ বিপদে পড়ে তাদের দুয়ারে সাহায্য চাইতে এলে কাউকে ফেরাতে পারতো না। এই ক্ষেত্রে ও সেটাই হলো। বাবা আঙ্কল কে জিজ্ঞেস করেছিল, সুপ্রিয়া র জায়গা টে সত্যি কি আর কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না? আঙ্কল রিপ্লাই দিল, ” বিশ্বাস করুন দাদা, আমার এই কাজ টা এখন শুধু মাত্র বৌদি উদ্ধার করতে পারবে। এই কন্টেন্ট টায় মডেল হিসাবে দারুন মানাবে। প্লিজ আমাকে না করবেন না দাদা। বিশ্বাস করুন এক মাস ধরে খুঁজে বৌদির মতন একটা ফ্রেশ সুন্দর ঘরোয়া মুখ খুঁজে পাচ্ছি না। আর মুম্বাই এর অফিস থেকে জানিয়ে দিয়েছে আর তিন দিনের মধ্যে এই ফোটো গুলো না তুলে পাঠালে, ঐ লেডিস ওয়ার প্রস্তুত কারক সংস্থা র সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। কোম্পানির অনেক টাকা লোকসান হয়ে যাবে। সময়ে অ্যাসাইনমেন্ট শেষ না করলে আমার নামে বাজে রিপোর্ট যাবে। আমি আর কোনো বড়ো কাজ পাব না। আমি পথে বসে যাবো। এই বলে আঙ্কেল ড্রামা করতে করতে বাবার পায়ের কাছে বসে গেল। মা বাবা যত বলতে লাগলো, -“আরে করছেন কী করছেন কী” ততই আঙ্কল দের কাকুতি মিনতি বেড়ে যাচ্ছিল। শেষে বাবা ওদের আনা মার মডেলিং করবার প্রপোজাল এ রাজি হলো।
আমার মা বাবার ডিসিশনে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ” এটা তুমি কি বলছো? আমি আর মডেলিং অসম্ভব।” বাবা বললো, ” দেখো সুপ্রিয়া ওনারা আমাদের প্রতিবেশী। বিপদে পরে সাহায্য চাইছেন। আমাদের পাশে দাড়ানো উচিত। তুমি যদি পারো তাহলে ওদের অবশ্যই এই কাজ টা করে সাহায্য কর।” মা ও কনভিন্স হলো একবার চেষ্টা করতে। রুচিকা আন্টিরা আমাদের পরের দিন ই সকাল ৯ টা নাগাদ ওদের ফ্ল্যাটে ইনভাইট করলেন। ছবি গুলো জমা দেওয়ার ডেডলাইন সামনে থাকায় ওরা আর সময় নষ্ট করলো না। সেদিন বসেই ঠিক হলো সকাল নটার মধ্যে ওদের ফ্ল্যাটে গিয়ে ফোটো শুট এর কাজ টা সেরে আমরা রুচিকা আণ্টি দের সাথে একেবারে লাঞ্চ করে বাড়ি ফিরবো। কথা মত আমরা রেডী হয়ে নেক্ট দিন সকাল ৯ টার মধ্যে ব্রেক ফাস্ট সেরে রুচিকা আণ্টি দের ফ্ল্যাটে এসে উঠলাম। সেই ফ্ল্যাটে আমরা ছাড়াও আরো ৫ জন উপস্থিত ছিল।
তারা ছিল আংকেল রুচিকা আণ্টি , একজন মেক আপ আর্টিস, একজন হেঁয়ার ড্রেসার, আর একজন লাইট মেন। আমরা ওদের ফ্ল্যাটে আসতেই রুচিকা সিনহা মা কে নিয়ে একটা আলাদা রুমে নিয়ে গেল। সেখা নে , মেক আপ আর্টিস্ট, হেঁয়ার ড্রেসার আর আণ্টি এই তিনজনে মিলে একঘন্টা ধরে মা কে ঐ ফোটো শুটের জন্য রেডী করলো। মার দুটো ডিফারেন্ট লুকে ফোটো তোলা হবে স্থির হয়েছিল। সবার আগে মা কে একটা পেপারে সাইন করালো, বাবা যখন জিজ্ঞেস করলো এটা আবার কেনো। তখন ওরা বলেছিল, এটা জাস্ট একটা ফর্মালিটি, মা যে সেচ্ছায় এই কাজ টা করছে, আর এই ফটো গুলো র কপিরাইট কেবল মাত্র ওদের কোম্পানির সেটা বুঝানোর জন্য কাজ শুরুর আগে এতে একটা সাইন করতে হবে। মা বাবা ওদের কথা বিশ্বাস করে ভালো করে কি লেখা আছে না দেখেই সাইন করে দিল। লাল পাড়ের সাদা শাড়ী ডিজাইন করা লাল সিল্কের হাফ স্লিভ ব্লাউজ তার সঙ্গে মানানসই হালকা গয়না পড়া লুকে ছবি তোলা স্টার্ট হলো। ঐ লুক টায় মা কে বেশ সুন্দর আর পবিত্র লাগছিলো। প্রথম প্রথম মার ভীষন অস্বস্তি হলো। তবুও হাসি মুখে আংকেল এর কথা মত একটার পর একটা পোজ দিয়ে যাচ্ছিল। প্রথমবার মডেলিং ফোটো শুট করলেও আমার ধারণায় মা বেশ ভালো কাজ করছিল।